ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতার দেশে ফেরায় বাধা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র


ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতার দেশে ফেরায় বাধা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দেশে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরণের বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ আমেরিকা বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস মেন্দেজ বুধবার কংগ্রেসের এক শুনানিতে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতি স্পষ্ট। মারিয়া কোরিনার দেশে ফেরার পথে আমরা কোনো বাধা সৃষ্টি করব না।’

ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থার মাধ্যমে এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে। গত ডিসেম্বরে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো। এরপর থেকে তিনি দেশে ফেরেননি।

আরও পড়ুন: দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা, ওড়না পেঁচিয়ে

মেন্দেজ উল্লেখ করেন, ‘তবে আমার মনে হয়, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আরও কিছু কাজ করতে হবে। যাতে তিনি ফিরে এলে তাকে গ্রেফতার করা না হয়।’ ২৪ জুনের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর মাচাদো একাধিকবার কারাকাসে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেনেজুয়েলার কূটনৈতিক চাপের কারণে তিনি তা করতে পারেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে মাচাদোর দেশে ফেরার অনুমতি দিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে কি না— এ প্রশ্নের জবাবে মেন্দেজ বলেন, ‘হ্যাঁ। আমরা অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে ডেলসি রড্রিগেজ ক্ষমতায় রয়েছেন। এবং দুজনই ক্ষমতাসীন দলের নেতা। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা দেন, তার সরকার আগামী মাস থেকে বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে।

আরও পড়ুন: ককরোচদের মোকাবিলায় এবার ‘লাল হিট’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান আটক এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


ইরান আটক এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, দীর্ঘদিনের বৈরী দেশ ইরান ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আটক থাকা এক মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে এবং তাকে দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। ট্রাম্প বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘তিনি এখন নিরাপদে ইরানের বাইরে রয়েছেন এবং সুস্থ আছেন।’ ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘এই সদিচ্ছার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধন্যবাদ জানায়।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করেছেন। তবে তিনি মুক্তি পাওয়া ওই নারীর নাম বা কেন তাকে আটক রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানাননি। তিনি শুধু বলেছেন, তাকে ‘অন্যায়ভাবে আটক’ রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার রাতে ট্রাম্পের পোস্টের পর এক আইনজীবী জানান, মুক্তি পাওয়া ওই নারী তার মক্কেল। আইনজীবী জ্যারেড জেনসার এক বিবৃতিতে জানান, ‘আমার মক্কেল, মার্কিন-ইরানি নাগরিক ডেনা কারারি, যাকে শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির ভিত্তিহীন অভিযোগে ইরানে আটকে রাখা হয়েছিল, তিনি এখন নিরাপদে ইরানের বাইরে আছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসছেন—এ কথা জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ তিনি বলেন, কারারি ‘চিলড্রেন অব মেহের ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা পরিচালনা করতেন। এই সংস্থাটি ব্যক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের দরিদ্র শিশুদের সহায়তা করত। এ কারণেই তিনি তেহরান কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন। জেনসার আরও বলেন, দেশত্যাগে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকাকালে তাকে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বহুবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি জানান, যদিও তাকে কখনো শারীরিকভাবে আটক করা হয়নি, তবু তিনি চরম শারীরিক ও মানসিক দুর্ভোগে ভুগেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যেন অন্যায়ভাবে কারাবন্দি সব মার্কিন নাগরিক, দেশত্যাগে বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি এবং সব ইরানি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়। ইরানের হেফাজতে কয়েকজন পশ্চিমা দেশের নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তাদের দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তেহরানের বিরুদ্ধে। গত মে মাসে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত এক ইরানি নাগরিক ইরানে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে আগাম এক লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অর্থ বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হবে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগাম এক লাখ ডলার নেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের একটি বন্ড আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এর পরিমাণ এক লাখ ডলার হতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আবেদনকারীকে বন্ডের অর্থ আগাম জমা দিতে হবে। তবে ব্যক্তিভেদে বন্ডের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে কয়েক বছর। সূত্রগুলোর মতে, এই বন্ড জামানত হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম না হন, সে ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগানো হবে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ অঙ্কের এই বন্ড মূলত কম আয়ের দেশগুলোর গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্যই পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেশি আয়ের আশায় যেতে চাওয়া অনেক বিদেশির পক্ষেই এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউস ধারাবাহিকভাবে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই বন্ড প্রস্তাব এসেছে। এর আগে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি নির্ধারিত দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার এই নীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া গত জুনে বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপের যে উদ্যোগ ট্রাম্প নিয়েছিলেন, সেটিও আদালতে আটকে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের নতুন হামলার হুমকির মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৩ পি.এম


ট্রাম্পের নতুন হামলার হুমকির মধ্যেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

 বুধবার ইরানে নতুন দফায় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা কমানোর চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আলোচনায় ফিরে না এলে হামলার পরিধি আরও বাড়তে পারে।

এ খবর তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গ্রিনিচ মান সময় ১৯০০টায় হামলা শুরু হয়েছে। এই হামলাগুলি ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করে পরিচালিত হয়, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের একটি যুদ্ধবিমান একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারকে হামলা করে সেটিকে অচল করে দেয়, এই ট্যাংকারটি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। সেন্টকম জানায়, এম/টি বেলমা নামে কুরাকাওয়ের পতাকাবাহী জাহাজটির ধোঁয়া নির্গমন চিমনিতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে সেটিকে থামানো হয়। তাদের দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘জাহাজটি আর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, বিশেষ করে বন্দর আব্বাস, রাস্ক এবং চাবাহার এলাকায়। এর আগেও কেশম এবং বন্দর ইমাম খোমেনিসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের একমাত্র বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বুশেহরও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন এবং তেহরান প্রায় এক মাস আগে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আবার শুরু হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানায়, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

ইরাকে কুর্দি বাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট উত্তরাঞ্চলের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের আকাশে বিস্ফোরকবোঝাই আটটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এএফপির সাংবাদিকরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ তাদের জন্য খুবই ভয়াবহ হতে পারে।’ তেহরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুতে হামলা চালানোর হুমকি দেন তিনি। নতুন সংঘর্ষ শুরুর পরেও দুই পক্ষের মধ্যস্থতাকারীর আলোচনা যেমন ছিল, তেমনই রয়ে গেছে।

তবে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ধারাগুলো কার্যকর ও বাস্তবায়িত হলেই কেবল এর অর্থ থাকে।’ তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘যদি ইরান সমঝোতা স্মারক থেকে কোনো সুবিধা না পায়, তাহলে সেটি মেনে চলারও আমাদের কোনো কারণ নেই।’

নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে। কয়েক মাস ধরে তারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই নৌপথ ব্যবহার করছে।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর প্রণালীটি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হলে, গত সপ্তাহে তেহরান ঘোষণা দেয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন না বন্ধ করলে’ এটি আবার বন্ধ থাকবে। এখনও পর্যন্ত এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সম্প্রতি সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠান ক্লেপলার জানিয়েছে, মঙ্গলবার মাত্র ২১টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে বিঘ্ন ঘটিয়ে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করেছে এবং এম/টি বেলমার বিরুদ্ধে হামলার মাধ্যমে সেই অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। একদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ ‘এক অর্থে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারককে ভেঙে দিয়েছে।’

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কাসর-ই শিরিনের ৩১ বছর বয়সী কারুশিল্পী খাদিজেহ জানান, ‘বিস্ফোরণের শব্দে ছোট ছোট শিশুরা এতটাই ভীত যে ভোর পর্যন্ত ঘুমাতে পারে না।’ তিনি জানাচ্ছেন, ‘আল্লাহ না করুন, যদি যুদ্ধ আরও তীব্র হয়, তাহলে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য হয়তো কয়েক প্রজন্ম লাগবে।’

ইরানের হামলার শিকার উপসাগরীয় দেশে একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। কুয়েতে বসবাসকারী ৩৯ বছর বয়সী সুদানি হিসাবরক্ষক মোস্তফা মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ভাবি, পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি আরও খারাপ হবে।’

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। তারা যেসব জাহাজকে অননুমোদিত পথ ব্যবহারকারী মনে করছে, সেগুলোর ওপরও গুলি চালিয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বলেছে, ‘যোদ্ধাদের পাল্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ সংকট পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এমটিআই নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ওমান উপকূলের কাছে একটি নরওয়েজীয় তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটেছে। কুয়েত জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলার’ মোকাবিলা করছে। দেশটির একটি নৌযানে হামলায় চার নাবিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সোমবার বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর পরিকল্পিত ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিনি বাতিল করেছেন এবং এর পরিবর্তে উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পথে যাওয়ার কথা জানান। ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ইরানে আটক থাকা এক মার্কিন নাগরিক দেশটি ছেড়েছেন। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারীর নাম ডেনা কারারি। ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘ভালো অবস্থায়’ দেশ ছেড়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘এই সদিচ্ছার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ধন্যবাদ জানায়।’ সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, গত সপ্তাহ থেকে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে হামলায় তাদের সাত সদস্য নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আহভাজ শহরের একটি হাসপাতাল যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর খালি করে রোগীদের অন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জাামিন নেতানিয়াহু, যিনি এখনও যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়নি, সতর্ক করে বলেছেন, ইরান হামলা চালালে ইসরাইল কঠোর জবাব দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফাইনালের আগে

স্পেনের ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ সারা পোরারিয়াকে ঘিরে সমর্থকদের ব্যাপক আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


স্পেনের ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ সারা পোরারিয়াকে ঘিরে সমর্থকদের ব্যাপক আলোচনা

ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানোর পর স্পেন আনন্দে ভাসছে। এই আনন্দের আবহে সামাজিক মাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে স্প্যানিশ টেলিভিশন প্রতিবেদক সারা পোরারিয়াকে। অনেক স্প্যানিশ সমর্থক তাকে মজা করে দলটির ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারায়, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ছিল। ম্যাচে স্পেনের পক্ষে গোল করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল এবং পেদ্রো পোরো। এই জয়ের ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ হল আর্জেন্টিনা।

সেমিফাইনালের পর সারা পোরারিয়া নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ম্যাচ সংক্রান্ত বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করেন। লাল রঙের পোশাকে তোলা তার ছবিগুলো সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এছাড়াও তিনি স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার সঙ্গে ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও শেয়ার করেন।

প্রায় ৫৫ হাজার অনুসারী থাকা সারার পোস্টে ভক্তদের মন্তব্যের ঢল নামে। একজন সমর্থক লিখেছেন, "ফাইনালেও লাল পোশাকই পরবেন। কারণ আপনি আমাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনেন।" আরেকজন মন্তব্য করেছেন, "ধন্যবাদ সারা, আমাদের সৌভাগ্য এনে দেওয়ার জন্য। আপনাকে দারুণ লাগছিল।" অন্য একজন মন্তব্য করেন, "চমৎকার এবং মার্জিত।"

এক সমর্থক বলেন, "আপনি সূর্যের মতোই সুন্দর।" কেউ আবার এক শব্দেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অসাধারণ!

ফাইনালের আগে স্প্যানিশ সমর্থকদের মধ্যে ফুটবল উন্মাদনার পাশাপাশি সারা পোরারিয়াকেও ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা। যদিও ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ শব্দটি নিছক সমর্থকদের আবেগ ও সামাজিক মাধ্যমের হাস্যকর প্রতিক্রিয়া, কিন্তু বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াইয়ের আগে তিনি স্পেনের ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%