ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নিয়োজিত অফিসার-ফোর্সদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত


প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নিয়োজিত অফিসার-ফোর্সদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি থানা এলাকার বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন উপলক্ষে গৃহীত সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিয়োজিত অফিসার-ফোর্সদের উদ্দেশ্যে পৃথকভাবে ব্রিফিং প্রদান করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মো. মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয় এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে হাটহাজারী থানাধীন পার্বতী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ফটিকছড়ি এলাকার ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ এবং বাঁশখালী এলাকার আব্দুর রশিদ কমিউনিটি সেন্টার, নির্ধারিত তিনটি ভেন্যুতে নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসার-ফোর্সদের জন্য পৃথক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিফিংকালে পুলিশ সুপার মহোদয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন রাখতে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল অফিসার-ফোর্সকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এদিকে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে তিনটি ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে ভেন্যুগুলোতে প্রাণবন্ত পরিবেশ বিরাজ করে। এ সময়, পুলিশ সুপার মহোদয় নির্ধারিত ভেন্যু পরিদর্শন করেন এবং উপস্থিত সাধারণ জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ সফরকে ঘিরে, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনবান্ধব ও সেবামূলক পরিবেশ বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজপথের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলেও অবহেলা করবেন না: ওয়াহাব আকন্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো আমান উল্লাহ, বাকৃবি

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


রাজপথের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করলেও অবহেলা করবেন না: ওয়াহাব আকন্দ

ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন এবং তাঁদের দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, তাঁদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি।

আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, ‘আমরা যারা রাজপথ থেকে উঠে এসেছি, এ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়েছি, তাদের অন্তত মূল্যায়ন না করলেও অবহেলা করবেন না। একজন মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে খাটো করার অধিকার কারও নেই।’

অনুষ্ঠানে আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও বিদেশি অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান ও গবেষণার ফল দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

বক্তব্যের শেষে তিনি আগস্ট মাসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা ও আন্দোলন-সংগ্রামে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, কৃষি, ভেটেরিনারি কিংবা মৎস্য খাতের নীতিমালা প্রণয়নের সময় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও গবেষণালব্ধ তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন এই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। গবেষকদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সমন্বয় প্রয়োজন। কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে এই সমন্বয় জরুরি। তিনি আরও বলেন, সরকার চ্যালেঞ্জ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নীতি প্রণয়ন ও উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরিতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া আরও বলেন, বাণিজ্যিক খামারের জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আবহাওয়া ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

এ অনুষ্ঠানে বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান। এছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, দেশের বিদেশি অতিথি ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলার মধ্যেই মস্কোঘেঁষা সার্বিয়ায় জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


রুশ-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলার মধ্যেই মস্কোঘেঁষা সার্বিয়ায় জেলেনস্কি

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যখন তীব্র পাল্টাপাল্টি মিসাইল হামলা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই মস্কোর অন্যতম মিত্র দেশ সার্বিয়ায় আকস্মিক সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। কিয়েভে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ইউক্রেনের নিজস্ব প্যাট্রিয়ট মিসাইল তৈরির কাজ আটকে আছে।

শুক্রবার সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে পৌঁছান জেলেনস্কি। গত আট বছরের মধ্যে এটিই কোনো ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রথম সার্বিয়া সফর। শনিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিক ইউক্রেনকে ‘বন্ধুপ্রতিম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপ সত্ত্বেও, রাশিয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না দিলেও, ভুসিক স্পষ্ট জানিয়েছে, সার্বিয়া ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং এই অবস্থান বদলাবে না। এ সময় দুই নেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিস্তারের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

এদিকে, শুক্রবার রাতে কিয়েভ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। তারা ৬টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১৫১টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মধ্যে ১৩৫টি ভূপাতিত করার দাবি ইউক্রেন করেছে। হামলায় কিয়েভের উত্তর-পূর্বে ব্রোভারি এলাকায় একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধংস হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশু ও তার দাদা-দাদিসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এই হামলার কথা উল্লেখ করে জেলেনস্কি জানান, ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করার একমাত্র অস্ত্র ‘প্যাট্রিয়ট’-এর সরবরাহ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এই মিসাইলের মাসিক সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট তৈরির অনুমতি দিলেও লাইসেন্স ও কাগজপত্রের মারপ্যাঁচে তা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে মিসাইল লঞ্চারগুলোতে আঘাত হানতে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের অনুমতি চাইছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত মাসেও রাশিয়ার ছোড়া প্রায় ৯,০০০ ড্রোন ও মিসাইলের মধ্যে ৫,৩০০টি ভূপাতিত করেছে ইউক্রেন।

অন্যদিকে, রুশ হামলার শক্ত জবাব দিচ্ছে ইউক্রেনও। ইউক্রেনীয় বাহিনীর দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ৮০০ কিলোমিটার ভেতরের ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি এবং সামারা অঞ্চলের সিজরান তেল শোধনাগার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলায় রাশিয়ায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের এমন ধারাবাহিক হামলার কারণে রাশিয়ায় এখন চরম জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা ক্রেমলিনের জন্য বেশ অস্বস্তিকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


নোয়াখালীতে পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় পুকুরে পড়ে আরাফাত হোসেন (৫) নামের এক শিশু মারা গেছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টার সময় উপজেলার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে এটি ঘটে।

নিহত শিশু আরাফাত হোসেন ওই গ্রামের ফরহাদ হোসেনের পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির পাশে পুকুরে পড়ে যায় আরাফাত। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে পরিবারের লোকজন তাকে পানির মধ্যে থেকে উদ্ধার করে দ্রুত সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রসুল আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণ ফিরেছে, গুগল-মেটা-টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব: আইসিটি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রাণ ফিরেছে, গুগল-মেটা-টিকটকের বিনিয়োগ প্রস্তাব: আইসিটি মন্ত্রী

গাজীপুর, ৮ আগস্ট, ২০২৬ : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে জীবন ফিরেছে। পাশাপাশি গুগল-মেটা ও টিকটকের কাছ থেকেও বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

আজ (শনিবার) গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। দেশের প্রথম এই হাই-টেক পার্কে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশের সম্ভাবনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ সরেজমিনে দেখতে মন্ত্রী সেখানে যান।

এই পরিদর্শন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতির একটি অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে আইসিটি খাতে সফটওয়্যার, অ্যাপ ও হার্ডওয়্যার শিল্পে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারের জন্য প্রতিযোগিতামূলক করার অঙ্গীকার রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ‘ন্যাশনাল গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পলিসি’ বাস্তবায়ন ও এআই হাব এবং সফটওয়্যার-অ্যাপ-হার্ডওয়্যার উৎপাদনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিসকাল ও নন-ফিসকাল প্রণোদনার প্রস্তাবনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

মাহবুব আনাম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দেশে প্রথম ‘আইসিটি পলিসি-২০০২’ প্রণয়নের ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কালিয়াকৈরে ২৩১.৬৫ একর জমিতে হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২০১৬ সালে আরও ৯৭.৩৩ একর জমি যুক্ত করা হয়। বর্তমানে পার্কের মোট আয়তন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭১ একরে।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আরও বলেন, মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের পর দেশি ও বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য জমি ও রেডি স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সফটওয়্যার, অ্যাপ, হার্ডওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি জানান, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এ পর্যন্ত মোট ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ৭টি। ইতোমধ্যে ৪০টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে, ২৮টি নির্মাণাধীন এবং ১৭টির শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

পার্কে মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ১.৬৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা)। আর এই পরিমাণে সরকার মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করেছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি। ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম যথাযথভাবে গড়ে তোলা গেলে পার্কটি থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। ফলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কেবল দেশীয় প্রযুক্তি উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং ভবিষ্যতে বিদেশি প্রযুক্তি কোম্পানির উৎপাদন, সংযোজন, গবেষণা-উন্নয়ন ও রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ও হাব হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে পার্কটিতে ৩টি মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী (অনর, শাওমী ইত্যাদি), ২টি ল্যাপটপ উৎপাদনকারী, ১টি এটিএম ও ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন উৎপাদনকারী, ৬টি ফাইবার অপটিক্যাল কেবল উৎপাদনকারী এবং ৩টি গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (হুন্দাইসহ) কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ ছাড়া আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, কিওস্ক ও এটিএম মেশিনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।

ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে ২টি কোম্পানি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কোম্পানির প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে গুগল, মেটা (ফেসবুক) ও টিকটকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন।

বিনিয়োগবান্ধব নীতির প্রণয়নের প্রশ্নে মাহবুব আনাম জানান, হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ আরও বাড়াতে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সেবায় ভ্যাট সুবিধা, হাই-টেক পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং ম্যানুফেকশ্চারের পাশাপাশি অ্যাসেম্বলরদেরও সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।

একইসঙ্গে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিপণনের ক্ষেত্রে কাঁচামালের শুল্ক-কর রেয়াত, স্থিতিশীল আয়কর সুবিধা এবং ইভি ব্যাটারি, সোলার ব্যাটারি, ইউপিএস ব্যাটারি, ই-বাইকের মতো নতুন প্রযুক্তি খাতের জন্য পৃথক প্রণোদনা কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও তৈরি করা হচ্ছে।

অবকাঠামোগত সক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের গতি আরো বাড়তে পারে। এর মাধ্যমে দেশে প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি মনে করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর এই পরিদর্শন দেশের হাই-টেক শিল্পের বর্তমান অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, উৎপাদন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সময় কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে কালিয়াকৈরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%