ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাশ্মীর, দাবি ভারতীয় সেনাপ্রধানের


ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ কাশ্মীর, দাবি ভারতীয় সেনাপ্রধানের

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী দাবি করেছেন, পাকিস্তান শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার বক্তব্য অনুসারে, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই অঞ্চলটি এখনও সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তিনি একইসঙ্গে এখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এসব কথা বলেন এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কৌলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে।

আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন

তিনি বলেন, ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে এটি এখনও সংবেদনশীল রয়েছে।

জেনারেল দ্বিবেদী উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল মানে এই নয় যে ভারত আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্ভাব্য যেকোনও হুমকি মোকাবিলা করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে শক্তিশালী মোতায়েন ব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান আগামী ৩০ জুন অবসরে যাচ্ছ SCHRICKS

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

प्रदेश।

তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে। উভয় দেশ এখন একে অপরের উদ্বেগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল এবং ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, 'উত্তর সীমান্তের পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে সংবেদনশীল। সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়াতে উত্তেজনা কমেছে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়মিত বিষয়গুলোর সমাধান হয়েছে, এবং পারস্পরিক আস্থাও কিছুটা বেড়েছে।'

উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখতে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশনের অধীনে বিশেষজ্ঞ দল গঠন।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া: তালেবান

এছাড়া কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা এবং সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্যে ঐকমত্য এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর গঠনমূলক পর্যায়েও নিয়মিত আস্থা তৈরির নানা উদ্যোগ চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, 'প্রতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি মাঠপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হটলাইন, পতাকা বৈঠক এবং কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনার কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যाओं সমাধান করা হচ্ছে।'

কিন্তু তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না। সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, নজরদারি, রসদ সরবরাহ এবং সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'স্থিতিশীলতা মানে আত্মতুষ্টি নয়। যেকোনও হুমকি প্রতিহত করা এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী শক্তিশালী মোতায়েন ব্যবস্থা বজায় রেখেছে। উত্তর সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন, নজরদারি, রসদ, চলাচলের সক্ষমতা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বর্তমানে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।'

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার ক্ষমতা ও নির্বাসনের দ্বন্দ্বে

ভারতীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সম্পর্কেও বক্তব্য রাখেন উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেন, 'আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পরিষ্কার— সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান করা এবং আমাদের প্রস্তুতি, মোতায়েন ও অবকাঠামোকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থায় রাখা।'

তিনি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের চীনা অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেন, 'পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিষয়টি ভারতের দীর্ঘদিনের স্পষ্ট অবস্থান। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের প্রধান উদ্বেগ হলো, পাকিস্তানের ‘অবৈধ দখলে’ থাকা অঞ্চলগুলো সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ দেয়া এবং জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি এখনো নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং আমাদের সামরিক পরিকল্পনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।'

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলে বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কেও ভারত সচেতন।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে হচ্ছে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে। এসব কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সে অনুযায়ী সেনা মোতায়েন, নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার: নওশীন হেলাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার: নওশীন হেলাল

শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠন এবং দেশের উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান নাজিরহাট কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও শিক্ষানুরাগী নওশীন আরজান হেলাল।

তিনি সোমবার উত্তর চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাজিরহাট কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

নওশীন আরজান হেলাল বলেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার।" তিনি আরও জানান, "একটি আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষার্থীদের প্রথমে নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।" তিনি জোর দেন যে সুশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার উপরও গুরুত্ব প্রদান করেন।

মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও নৈতিকতা অর্জনের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিচালনা পরিষদ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।" তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহির উদ্দীন ছিদ্দিকী শাহীনের সভাপতিত্বে, অধ্যাপক ড. দোলন কান্তি ভট্টাচার্য এবং প্রভাষক মিসেস মোসফেকা চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গভর্নিং বডির সদস্য ও অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন, গভর্নিং বডির সদস্য কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল, উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, গভর্নিং বডির সদস্য জাহেদা ইকবাল চৌধুরী, সেলিম জাহাঙ্গীর, অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, অধ্যাপক লিটন ভট্টাচার্য এবং অধ্যাপক এস. এম. কাউছার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল আলম, কাজী কামাল উদ্দীন, মো. মঞ্জুর মিয়াসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

দিনের কর্মসূচির শুরুতে, সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে একটি ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে বিদায় সংবর্ধনা শুরু হয়। স্টাফ কাউন্সিলের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

প্রভাষক দেলাওয়ার হোসেনের পরিচালনায় দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বটি শেষ হয়। পরে অধ্যাপক রোজী মজুমদারের নির্দেশনায় এবং প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ার ওপর জোর গভর্নরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ার ওপর জোর গভর্নরের

দেশের কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য পুঁজিবাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি ধাপে ধাপে ১০ শতাংশে উন্নীত করতে একটি শক্তিশালী, গভীর ও গতিশক্তি সম্পন্ন পুঁজিবাজার প্রয়োজন।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, পিএলসি (সিএসই)-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সিএসই চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

গভর্নর বলেন, পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ হলে উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইকুইটি অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, ব্যাংক ঋণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং বেসরকারি খাতের ক্রমবর্ধমান অর্থায়নের চাহিদা পূরণে কার্যকর বিকল্প উৎস গড়ে উঠবে।

তিনি আশা করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেলে ও পরবর্তী বছরগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে, পুঁজিবাজার হবে বেসরকারি খাতের অর্থায়নের একটি শক্তিশালী উৎস। এটির ফলে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ কমবে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

গভর্নর আরও জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের ২০ মে জারি করা এফইআইডি সার্কুলার নং-০২ এর মাধ্যমে ‘নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস’ টাকা অ্যাকাউন্ট (নিটা) পরিচালনার বিধিমালা সংশোধন করেছে। সংশোধিত নির্দেশনার মাধ্যমে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নিটা হিসাবে জমা হবে এবং অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো প্রযোজ্য মূলধনী মুনাফা কর কর্তন ও সরকারি কোষাগারে জমা দেবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী হবে।

এ সময় সিএসই প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, মহাব্যবস্থাপক মোর্তূজা আলম এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনিরুল হক। বৈঠকের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাবির সমাজকর্ম বিভাগের সঙ্গে কারিতাসের সমঝোতা চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


শাবির সমাজকর্ম বিভাগের সঙ্গে কারিতাসের সমঝোতা চুক্তি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সমাজকর্ম বিভাগ এবং কারিতাস বাংলাদেশ, সিলেট অঞ্চলের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এটি সোমবার (২৯ জুন) সমাজকর্ম বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তুলসী কুমার দাস, অধ্যাপক ড. শফিকুর রহমান, অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল, অধ্যাপক ফখরুল আলম, অধ্যাপক আবুল কাশেম, কারিতাস বাংলাদেশ সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক বনিফাস কংলা, বিভাগের শিক্ষক, ইন্টার্ন ও শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সমঝোতা চুক্তির ফলে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীরা কারিতাস বাংলাদেশ সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ইন্টার্নশিপ ও মাঠপর্যায়ের কাজের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সমাজকর্ম বিভাগ ও কারিতাস বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করবে।

তারা আরও জানান, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৯ বছর শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


৩৯ বছর শিক্ষকতা শেষে প্রধান শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়

 দীর্ঘ ৩৮ বছর ৮ মাস ২০ দিনের শিক্ষকতার জীবনের ইতি টানলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১২৪ নম্বর নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাস।

কর্মজীবনের শেষ দিনে তাঁকে দেওয়া হয় ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায়। ফুলে সজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী তাঁকে তাঁর নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এমন সম্মানজনক বিদায়ের দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

আজ সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্যে তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।

অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদায়ী বক্তব্যে সুখ রঞ্জন বিশ্বাস শিক্ষকতা জীবনের সুখ ও দুঃখের নানা স্মৃতি স্মরণ করেন এবং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, চরপাথালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী কৃষ্ণ পাল, সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, উপজেলা স্কাউট কমিশনার শাহজাহান, স্কাউট সম্পাদক আক্তার হোসেন, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সুমন খান, ডা. মোহন মিয়া, সহকারী শিক্ষক পারুল রানী বিশ্বাস, সালেহা আক্তার, বিল্লাল হোসেন, হাসনেয়ারা আক্তার এবং ঝুমুর আক্তার প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাসকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।

পথের সঙ্গীদের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী হাত নেড়ে এবং ফুল ছিটিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তের দৃশ্যে অনেকের চোখেই অশ্রু দেখা যায়।

জানা গেছে, সুখ রঞ্জন বিশ্বাস ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর সাদুল্ল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮৮ সালের ১০ অক্টোবর তিনি দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৬ সালের ২৯ জুন অবসরে যান।

সহকর্মীরা বলেন, সুখ রঞ্জন বিশ্বাস কেবল একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং আদর্শ মানুষ ছিলেন। তাঁর সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়ভাবে থাকবে।

ব্যক্তিগত জীবনে সুখ রঞ্জন বিশ্বাস স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ের জনক। তাঁর বড় ছেলে একজন ব্যাংকার, মেয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছোট ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।

বিদায়ের শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন একটি কথাই মনে করিয়ে দেয় যে একজন প্রকৃত শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন পদ বা পুরস্কার নয়, বরং শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%