প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ ৩৮ বছর ৮ মাস ২০ দিনের শিক্ষকতার জীবনের ইতি টানলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১২৪ নম্বর নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাস।
কর্মজীবনের শেষ দিনে তাঁকে দেওয়া হয় ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায়। ফুলে সজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী তাঁকে তাঁর নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এমন সম্মানজনক বিদায়ের দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
আজ সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্যে তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।
অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদায়ী বক্তব্যে সুখ রঞ্জন বিশ্বাস শিক্ষকতা জীবনের সুখ ও দুঃখের নানা স্মৃতি স্মরণ করেন এবং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, চরপাথালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী কৃষ্ণ পাল, সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, উপজেলা স্কাউট কমিশনার শাহজাহান, স্কাউট সম্পাদক আক্তার হোসেন, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সুমন খান, ডা. মোহন মিয়া, সহকারী শিক্ষক পারুল রানী বিশ্বাস, সালেহা আক্তার, বিল্লাল হোসেন, হাসনেয়ারা আক্তার এবং ঝুমুর আক্তার প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাসকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।
পথের সঙ্গীদের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী হাত নেড়ে এবং ফুল ছিটিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তের দৃশ্যে অনেকের চোখেই অশ্রু দেখা যায়।
জানা গেছে, সুখ রঞ্জন বিশ্বাস ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর সাদুল্ল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। এরপর ১৯৮৮ সালের ১০ অক্টোবর তিনি দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৬ সালের ২৯ জুন অবসরে যান।
সহকর্মীরা বলেন, সুখ রঞ্জন বিশ্বাস কেবল একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং আদর্শ মানুষ ছিলেন। তাঁর সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়ভাবে থাকবে।
ব্যক্তিগত জীবনে সুখ রঞ্জন বিশ্বাস স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ের জনক। তাঁর বড় ছেলে একজন ব্যাংকার, মেয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছোট ছেলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
বিদায়ের শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন একটি কথাই মনে করিয়ে দেয় যে একজন প্রকৃত শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন পদ বা পুরস্কার নয়, বরং শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন