বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:০৫ পি.এম
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় পরিচালিত ইকোনমিক অ্যাকসেলারেশন এন্ড ও রেজিলিয়েন্স ফর নিট (ইএআরএন) প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার নিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন আজ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আমেনা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইএআরএন প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো— যুব সম্পৃক্ততা বা ইয়ুথ এনগেজমেন্ট। যুব ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান হচ্ছে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রকল্পের প্রকৃত সার্থকতা আসবে যদি যুবসমাজের দোরগোড়ায় এই সুবিধাগুলো পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য যথাযথ মনিটরিং নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের দেশীয় সার্টিফিকেটের পাশাপাশি বিদেশি সার্টিফিকেট প্রদান করা যাবে কি না সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে মূল প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি সেশনে অন্তত ৫ মিনিটের জন্য নীতি-নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের যুব ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণে না থাকা ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৯ লাখ যুব ও যুব নারীকে (যার মধ্যে ৬০ শতাংশই যুব নারী) প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে এই ইএআরএন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ এবং বিশ্বব্যাংকের অনাপত্তি অনুযায়ী দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান— ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন, কেয়ার বাংলাদেশ এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশন এই প্রকল্পের সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ইএআরএন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান, বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ও টাস্ক টিম লিডার সৈয়দ রাশেদ আল-জায়েদ জশ এবং অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) ড. মেরিনা নাজনীনসহ মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কনসালটেন্টবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধায় ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় পৌর পার্কে জুলাই শহীদ স্মতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম সাজা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, পৌর জামায়াতের আমীর ফেরদৌস আলম, শহীদ সজলের মা শাহিনা বেগম, জুলাই যোদ্ধা জাভেদ হোসেন, এনসিপি নেত্রী কাজল রেখা পিংকি প্রমুখ।
এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, গাইবান্ধায় ৬ শহীদের কবরগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে। আগামী প্রজন্ম যাতে বুঝতে পারে এগুলো জুলাই শহীদদের কবর। যারা কবর সংস্কারের কথা বলে তালবাহানা করেছে তাদের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
এমপি আব্দুল করিম বলেন, রক্তে লেখা ১৬ জুলাই শহীদ দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের অদম্য সাহস, বৈষম্যহীন নতুন রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার গভীর তাৎপর্য বহন করে। তিনি মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত হিসেবে, তিনি আরও বলেন, এই দিবসটি বৈষম্য, দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার নতুন প্রেরণা জোগায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ডাকাতের হামলার নাটক সাজিয়ে বড় জা রিগান আক্তার মিমকে (২৪) শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তার আপন ছোট জা কাজী সুমাইয়া আক্তার মিনা (২৩)। এরই মধ্যে আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার বত্তলা নামক এলাকায় নিজের বসতঘরে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে চাঁদপুরের আদালতে জবানবন্দি দিতে গিয়ে মিনা হত্যার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, নানা কারণে বড় জা মিমের সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছিল না। এ কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে রাতে তাকে হত্যার পথ বেছে নেন। জবানবন্দি শেষে মিনাকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনা সম্পর্কে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. লুৎফর রহমান জানান, বুধবার রাতে মিম খুন হওয়ার পর তার ছোট জা মিনা দাবি করেন, তাদের বসতঘরে ডাকাতদল হানা দেয়। ডাকাতরা তাকে বেঁধে রেখে মিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
লুৎফর রহমান আরও জানান, ঘটনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিনাকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আদালতে পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিনা ও মিম গ্রামের বাড়িতে একসঙ্গে বসবাস করতেন। এর মধ্যে মিমের স্বামী সাইফুল ইসলাম রনী ঢাকায় এবং মিনার স্বামী ইফতেখার আলম রিফাত বিদেশে থাকেন। দুই পরিবারে তিনটি শিশুসন্তানও রয়েছে। তবে একই বসতঘরের আরেকটি কক্ষে বয়োবৃদ্ধ দাদা শ্বশুর নূরুল ইসলাম থাকেন।
এদিকে, মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনে মিমের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে মিনাকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল মাছঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা মূল্যের ট্রলিং জাল ও ২ হাজার ১০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করেছে। এ সময় ১৩ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এই অভিযান পরিচালিত হয়। বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উপস্থাপন করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালী শেখেরখীল মাছ ঘাটসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এই অভিযানে একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। পরে বোটটির তল্লাশি চালিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা মূল্যের ৭টি ট্রলিং জাল, ২ হাজার ১০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ এবং ১৩ জন জেলেকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, জব্দ করা আর্টিসানাল ট্রলিং বোট, ট্রলিং জাল ও সামুদ্রিক মাছ এবং আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা আরো বলেন, দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান চালায়। ভবিষ্যতেও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় তিনি দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেন, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পাশাপাশি দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এর পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র সম্পর্কে অবগত হন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিতে এখানে এসেছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট আমরা উপলব্ধি করি। কেউ নিজেকে একা মনে করবেন না—নির্বাচিত সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যার শুরু থেকেই জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীরা দুর্গত মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে আসছেন এবং এই সহায়তা প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।
পরিদর্শনকালে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন দ্রুত নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ