০১:০৫ এম
পটুয়াখালী সদর উপজেলায়, তিন তরুণকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পিটুনির একটি ঘটনায় মামলার বাদীকে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত ৩ জুন ব্যাটারি চুরির অভিযোগে সদর উপজেলার বোতলবুনিয়া গ্রামের বায়জীদ মোল্লা, মিরাজ মৃধা ও আসলামকে বাড়ি থেকে ধরে একটি পরিত্যক্ত বাগানের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের ঘটনার সময় একই এলাকার আসামিরা নূর মোহাম্মদ মোল্লা, সুমন মোল্লা, মনির গাইন, ইমরান ও মুসা নির্যাতনে অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে তাদের হুমকি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত
মামলার বাদী আব্দুর রব মোল্লা জানান, তার মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মনির গাইন (৩৫), সুমন মোল্লা (৩৪) এবং মুসা (২৮)। আসামিরা তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোনে কল করে মামলা তুলে নিতে বলছেন। তিনি দাবি করেন, যদি মামলা তুলে না নেন, তবে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ওই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আসামিরা তাদের হাতে থাকা লাঠি বা শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে বায়জীদ নামে এক তরুণকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এই সময় বায়জীদ চিৎকার করে তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাগানের মধ্যে ছোটাছুটি করেন। পরে আসামিরা তাকে ধরে এনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আবার নির্যাতন চালান। একইভাবে মিরাজ ও আসলামকেও মারধর করা হয়েছে।
পুলিশ এবং ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় ১০ জুন মারধরের শিকার বায়জীদের বাবা আব্দুর রব মোল্লা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। ১২ জুন অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বায়জীদ বলেন, মারধরে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ কিছুদিন আগে তার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর নূর মোহাম্মদ তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শাশুড়ির কাছ থেকেও টাকা দাবি করেন। সেখানেও ব্যর্থ হয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বায়জীদ ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বায়জীদ ঈদুল আজহা উপলক্ষে তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। গত ৩ জুন আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে এনে একটি পরিত্যক্ত বাগানে নিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে নির্যাতন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আরও পড়ুন: ৮ বছর ধরে বিদ্যুৎ খুঁটি-মিটার থাকলেও সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে নেই বিদ্যুৎ
বায়জীদের বাবা ও মামলার বাদী কৃষক আব্দুরRab মোল্লার অভিযোগ, এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ইমরান ও নূর মোহাম্মদ পলাতক থাকলেও বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তারা তার আত্মীয়স্বজনের মুঠোফোনে কল করে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আসামিরা প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আসামি মনির গাইন ও সুমন মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়ার পরও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানা-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কমল বড়াল বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। বাদীকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগ থাকলে বাদী থানায় এসে অভিযোগ করার পাশাপাশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে পারেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আসামিদের হুমকির কারণে বাদী নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন, সে বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: দেশ প্রতিদিন পত্রিকার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, অর্থ ফেরত ও পত্রিকার নিবন্ধন বাতিল করতঃ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক যাদুর শাস্তি চায় ভুক্তভোগীরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন