ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাকৃবিতে ওয়াই-ফাই আছে, নেই কাঙ্ক্ষিত গতি


বাকৃবিতে ওয়াই-ফাই আছে, নেই কাঙ্ক্ষিত গতি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা থাকলেও, শিক্ষার্থীরা ধীরগতির ওয়াই-ফাই ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, যদিও সংযোগ রয়েছে, তবুও অনেক সময় যথেষ্ট গতি থাকে না।

ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে ওয়াই-ফাই ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত আসতে পারে না। এর ফলে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। সামান্য বৃষ্টিতেও অনেক সময় ‘নো ইন্টারনেট’ দেখায় বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রভোস্টদের কাছে এই বিষয়টি জানালেও কোন কার্যকর সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেটকে ‘কচ্ছপ গতির’ ইন্টারনেট নামে আখ্যা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল প্রকল্প ডিসেম্বরে চালুর পথে, ২২ জেলার যান চলাচল উন্নত হবে

এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবখানে ইন্টারনেট ও পাওয়ার পেয়ে থাকেন তারা। কিন্তু কানেকশন খুব দুর্বল। যার ফলে অনলাইন শিক্ষার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ফেসবুকে ন্যূনতম একটি মেসেজ পাঠাতেও সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে নেট আসতে এসে ৪-৫ ঘণ্টার সময় লেগে যায়।

হলের শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন ইন্টারনেট সমস্যার বিষয়ে। এছাড়া, মোবাইল নেটওয়ার্কেও তারা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে জিপি ও এয়ারটেল সিমের নেটওয়ার্ক হলে খুব একটিও কাজ করছে না। সেই সঙ্গে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেটের সমস্যা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের ভোগান্তি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশুনার পরিবেশকে বিঘ্নিত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ৯টি ও মেয়েদের ৬টি আবাসিক হলে ওয়াইফাই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াইফাইয়ের গতি অত্যন্ত কম। আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে সমস্যায় পড়ছেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রীর চিৎকারে ‘জুব্বা ও পায়জামা হাতে’ দৌড় দিলেন মাদরাসাশিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সম্রাট আল হাসান বলেন, হল ব্লকের ওয়াইফাইয়ের পরিস্থিতি খুবই খারাপ, মাঝে মাঝে স্পিড থাকে আবার কখনো তা সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।

শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, নানান সমস্যার মধ্যে তারা নিয়মিত অনলাইন মিটিং পরিচালনা করতে পারেন না, যার কারণে স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে বাধা আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক জানান, ইন্টারনেটের স্পিড অত্যন্ত খারাপ।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামীণফোনের। অনলাইনে কার্যক্রম করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ ওয়াইফাইও ঠিকঠাক কাজ করে না।

এই সমস্যার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, সার্ভার রুমের সমস্যাগুলোর কারণে বিদ্যুতের ওঠানামার ফলে একাধিক ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ডিভাইসটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতে পারেনা।

আরও পড়ুন: স্বর্ণের দামে ফের পতন, বাজারে বাড়ছে চাপ

তিনি আরো জানান, সমস্যার সমাধানে ঢাকার সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিমের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা আসবে এবং ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে। প্রয়োজনে ডিভাইসটির ব্যাকআপ ব্যবস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে মানসম্মতভাবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

আজ সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে, ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’-এর সার্বিক অগ্রগতি, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রকল্পের নানা প্যাকেজের বর্তমান ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মাঠপর্যায়ে কাজের বর্তমান অবস্থা, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্মাণ কাজের গতি আরও বৃদ্ধি করতে এবং উদ্ভূত যেকোনো জটিলতা দ্রুত সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দিকনির্দেশনা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, নিয়মিত তদারকি এবং প্রকল্পের আরডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছে।

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে।

পরে, সেতু সচিব প্রকল্পের কিছু নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান এবং নির্ধারিত সময় ২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিক দল নেতা মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ পি.এম


শ্রমিক দল নেতা মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী মৃত্যুবরণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী আজ রাতে বাসসকে এই তথ্য জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মিজানুর রহমান চৌধুরী ১৯৮১ সালের ২৯ মে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন এবং তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মুহিবুল হাসানের সঙ্গে এক নম্বর কক্ষে অবস্থান করেছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার পর মিজানুর রহমান চৌধুরী একটি কাপড় দিয়ে তাঁর (জিয়াউর রহমান) মরদেহ যত্নসহকারে মুড়িয়ে রেখেছিলেন।’

মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মিজানুর রহমান চৌধুরী (৭৩) বুধবার ভোরে রাজধানীর ইউনিভার্সাল হাসপাতালে (পূর্বে ইউনাইটেড হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি স্ত্রী, দুটি সন্তান এবং পাঁচ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে আজ তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৩ এম


চার সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন

ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ চারটি সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ছাত্রদল নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের স্বাক্ষরিত পৃথক পাঁচটি বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে মো. আব্দুল্লাহ আর রায়হানকে আহ্বায়ক এবং মেশকাত শরীফ ভূঁইয়াকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এছাড়া, কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জাকারিয়া আশরাফ আশফি দায়িত্ব পালন করবেন। মিনহাজুল আবির ও আব্দুর রাজ্জাককে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে আহ্বায়ক পদে জহিরুল ইসলাম জহির এবং সদস্যসচিব পদে ইফতেখার আহমেদ শিহাব দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। খোন্দকার সিফাত-উল হক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. মহসিন আলী ও মো. আরাফাত রহমান যুগ্ম আহ্বায়ক হতে যাচ্ছেন।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটিতে রানভীন খানকে আহ্বায়ক এবং মাহাথির মুহাম্মদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে আবদুল্লাহ আল কাফি দায়িত্ব পেয়ে রয়েছেন। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে জাহিদ হাসান, সাদীদ আহনাফ, তানজিম ওয়াসেত, মো. মাসুম, নাদিম আঞ্জুম খান ও মো. নাঈম হোসেন বক্তব্য রাখবেন।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের ১৭ সদস্যের কমিটিতে আলভী ওমায়ের মাহমুদকে সভাপতি এবং আহনাফ ইফতেখার ইরামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে অমিত পাল এবং সহ-সভাপতি হিসেবে মো. আব্দুল মোকাদ্দেম ফাইদ নিযুক্ত হয়েছেন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সাজিদুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আজিজুল হাকিম জিওন নির্ধারিত হয়েছেন।

ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পদে মিজানুর রহমান সিফাত, সহ-দপ্তর সম্পাদক পদে মো. ইসতিয়াক আহমেদ, প্রচার সম্পাদক পদে আব্দুল কাদের রুমি, সহ-প্রচার সম্পাদক পদে মাজিদুল আলম, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক পদে আজরা মাহমুদা হিলারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মুঈদ চৌধুরী রাফি, স্বাস্থ্য সম্পাদক পদে রাফসান রেজা বাপ্পি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে রকিবুল হাসান রুমি এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে রিপন মিয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। এছাড়া, কমিটিতে সদস্য হিসেবে এমামুল আহসান রাফিম ও সামিনুর রহমান রয়েছেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ঐ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি কারা ছিলেন গোলাম মোর্শেদ সজীব এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাইফুল ইসলাম বাদশা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হয়েছিল তাওহীদুল ইসলাম সৈকত এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছিল ইমরান হোসেন। আর ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হয়ে গিয়েছিল মাজহারুল ইসলাম জাহিদ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়ে গিয়েছিল মো. নকিবুল হাসান। কেননা পরে, ২০২০ সালের ২৪ জুলাই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয় যেখানে আহ্বায়ক হন মেহেদি হাসান সাকিব এবং সদস্যসচিব হন সাদ বিন নেওয়াজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়াকে সমর্থন করে যেভাবে লাভবান হয়েছে উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১০ এম


রাশিয়াকে সমর্থন করে যেভাবে লাভবান হয়েছে উত্তর কোরিয়া

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধকালীন সহযোগিতা থেকে পাওয়া বিপুল অর্থ উত্তর কোরিয়ার স্বৈরাচারী নেতা কিম জং উনের ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

দেশটির অর্থনীতিতে কিছুটা সমৃদ্ধির চিত্র দেখা গেলেও, এর সুফল পাচ্ছে অল্পসংখ্যক মানুষ। বরং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের চাপে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বছরের পর বছর রাতে উত্তর কোরিয়ার স্যাটেলাইট চিত্রে মাত্র কয়েকটি ছোট আলোর ছোপ দেখা যেত। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশটির শহরগুলোও অনেকটা অন্ধকারে পরে থাকত। তবে ২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত ছয় বছরে পিয়ংইয়ংয়ের কেন্দ্রস্থলের আলোকিত এলাকার আয়তন তিনগুণ বেড়েছে।

এনকে নিউজের মতে, শহরাঞ্চলের এই বাড়তি আলোকসজ্জা দেখাচ্ছে যে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলের নতুন রাস্তা ও ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

২০২১ সালের সর্বশেষ পার্টি কংগ্রেসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাজধানীতে ৫০ হাজার নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ঘোষণা দেন। পরে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নও শুরু হয়। এর উদাহরণ হিসেবে হোয়াসংয়ের নতুন এলাকায় হোয়াসং আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আকৃতিতে দুটি ৪০ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক নির্মাণ করা হয়েছে।

নতুন উঁচু ভবন নির্মাণই উত্তর কোরিয়ার পরিবর্তনের একমাত্র চিত্র নয়। দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ং যাতায়াত করা ব্যক্তিরাও বলছেন, শহরটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক মনে হয়।

শহরে চীন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দেখা যাচ্ছে। অর্থ পরিশোধ বা ট্যাক্সি ডাকতে কিউআর কোড ব্যবহার করা স্মার্টফোন অ্যাপও রয়েছে। পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে পশ্চিমা ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও প্রসাধনী সামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে।

শাসকগোষ্ঠী পিয়ংইয়ংয়ে দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এবং নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের সমান আকারের একটি গ্রিনহাউস নির্মাণ শেষ করেছে। ২০২৫ সালের জুনে কিম পূর্ব উপকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট উদ্বোধন করেন। সেখানে ২০ হাজার অতিথির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

জুনে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল উত্তর কোরিয়াকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধির গল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে পাওয়া বিপুল অর্থেই এই উন্নয়নের বড় অংশের অর্থায়ন হচ্ছে। মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের (আইএনএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মস্কোর কাছে অস্ত্র বিক্রি ও সৈন্য মোতায়েন করে উত্তর কোরিয়া ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন থেকে ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের সাম্প্রতিক এক হিসাব বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দিয়ে উত্তর কোরিয়া ১৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। এর বাইরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য, বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক পাঠানো, রফতানি ব্যবসা এবং অনলাইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকেও দেশটি আরও ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট প্ল্যাটফর্ম হ্যাকের ঘটনা ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি ডাকাতি। সন্দেহভাজন উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইথেরিয়াম হাতিয়ে নেয়। তুলনা করলে, আগের বছর উত্তর কোরিয়ার মোট জিডিপি ছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার।

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহারের ধারণাটি রাশিয়া নাকি উত্তর কোরিয়া প্রথম দিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে কিয়েভের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাশিয়ার রণাঙ্গনে ব্যবহৃত গোলাবারুদের অর্ধেকের পাশাপাশি স্বচালিত কামান, মাল্টিপল রকেট লঞ্চার এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া।

ইউক্রেনের দাবি, বর্তমানে উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে রাশিয়ার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এতে থাকবে ৯০ জন সৈন্য, ছয়টি লঞ্চ প্যাড এবং সর্বোচ্চ ১২০টি ক্ষেপণাস্ত্র।

এরই মধ্যে ১৬ হাজার থেকে ২২ হাজার উত্তর কোরীয় সৈন্য রাশিয়াকে সীমান্তবর্তী কুর্স্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরিয়ে দিতে এবং পরে ওই এলাকা মাইনমুক্ত করতে সহায়তা করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মতে, কিম এখন রাশিয়ায় আরও ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন।

এই সহযোগিতা বেশ লাভজনক। আইএনএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম প্রতি মাসে একজন উত্তর কোরীয় সৈন্যের জন্য ২ হাজার ৮০০ ডলার, একজন কর্মকর্তার জন্য ৩ হাজার ডলার এবং যুদ্ধে নিহত প্রত্যেক সৈন্যের জন্য ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পান।

সোভিয়েত আমলের মতোই এই পারস্পরিক ব্যবস্থা মূলত বিনিময় লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল। অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সৈন্যের বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য, শস্য এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন তৈরির প্রযুক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দিচ্ছে।

রাশিয়ার সমর্থক হিসেবে কিমের নতুন ভূমিকা তাকে আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সামরিক শক্তি দিয়েছে। এর প্রমাণ হিসেবে দুটি ৫ হাজার টন ওজনের ডেস্ট্রয়ারের উদ্বোধনের বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ক্ষমতায় থাকার ১৫ বছরে এই স্বৈরাচারী নেতার হাতে এত প্রভাব বা অর্থ আগে কখনো ছিল না। এটি কিমের জন্য একটি বড় পরিবর্তন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি স্বীকার করেছিলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল ‘প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনেকাংশে ব্যর্থ হয়েছে’।

পাঁচ বছর পর পরবর্তী দলীয় কংগ্রেসে ভবনের বাইরে সাত সারি কামান সাজিয়ে কিম বলেন, ‘সবকিছু মৌলিকভাবে বদলে গেছে।’

রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব উত্তর কোরিয়াকে বিশ্ব রাজনীতিতে একঘরে অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতেও সহায়তা করেছে। ২০২৪ সালের জুনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পিয়ংইয়ংয়ে কিমের সঙ্গে দেখা করেন। এর তিন মাস পর বেলারুশের স্বৈরশাসক আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো সেখানে সফর করেন।

চলতি বছরের জুনে চীনের নেতা শি জিনপিংও পিয়ংইয়ং সফর করেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বেইজিংয়ের আয়োজনে কিম, শি ও পুতিন একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই অর্থনৈতিক উন্নতির সুফল দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এরই মধ্যে নাজুক অবস্থায় থাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগান না থাকা অনেক পরিবার খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জাতীয় মুদ্রা ওনের অবমূল্যায়নে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে অনেক পরিবারে নারীদেরও বাইরে কাজ করতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের বসন্তে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের বাইরের অঞ্চলগুলোর জন্য ‘২০x১০’ উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেন কিম। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পাওয়া অতিরিক্ত রাজস্ব দিয়ে এই কর্মসূচির অর্থায়ন করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনার আওতায় প্রতি বছর ২০টি শহর বা অঞ্চলে আধুনিক কারখানা নির্মাণের কথা রয়েছে। ১০ বছরে এর মাধ্যমে মোট ২০০টি আঞ্চলিক শিল্প প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে সিউলের কুকমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ল্যাঙ্কভের মতে, অধিকাংশ ২০x১০ প্রকল্পই ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, এর কারণ শুধু কারখানার অবকাঠামোর অভাব নয়; বিদ্যুৎ, সরঞ্জাম ও কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবস্থাও এসব প্রকল্পে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।

কারখানাগুলো পরিকল্পিত অর্থনীতির নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে, যা ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য উপযোগী নয়। ল্যাঙ্কভ বলেন, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়ায় যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, তার বিপরীতে বর্তমান প্রবৃদ্ধি কোনো অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের ফল নয়। বরং এটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি থেকে পাওয়া সুবিধার ওপর নির্ভরশীল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%