ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেত্রকোণায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ


নেত্রকোণায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম।

প্রধান অতিথি বলেন, "সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।" তিনি উপস্থিৎ কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, সঠিকভাবে বিতরণকৃত উপকরণ ব্যবহার করে ফসলের অধিক উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: কৃষকের দুই পায়ের রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নির্বাচিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের রোপা আমন ধানের বীজ, হাইব্রিড মরিচের বীজ এবং গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের লেবুর চারা, বিভিন্ন ফলজ ও ওষুধি বৃক্ষের চারা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও জৈব সারসহ অন্যান্য উপকরণও বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, "কৃষি বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকারের এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা উপকারভোগী কৃষকরা।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জের নিয়ামতিতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়ক সংস্কার, পরিদর্শনে সোহেল ফরাজী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবিতে ‘শহীদ আবু সাঈদ হল’ নির্মাণের ঘোষণা উপাচার্যের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


বেরোবিতে ‘শহীদ আবু সাঈদ হল’ নির্মাণের ঘোষণা উপাচার্যের

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) নির্মাণাধীন চারটি নতুন আবাসিক হলের মধ্যে একটি হলের নাম ‘শহিদ আবু সাঈদ হল’ রাখা হবে, এ ঘোষণা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

রবিবার (৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত ‘শহিদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (সিজন-২)’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনের শহিদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ও টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহিদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী এবং বকুল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘২৪-এর জুলাই আন্দোলনের বীরদের স্মৃতি ও জুলাইয়ের চেতনাকে আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় করে রাখতে হবে।’ তিনি শহিদ আবু সাঈদকে ‘জাতীয় বীর’ আখ্যায়িত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাসনের চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন চারটি নতুন আবাসিক হলের একটি হলের নাম ‘শহিদ আবু সাঈদ হল’ রাখা হবে।

উপাচার্য আরো বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। উদ্বোধনী ম্যাচে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ মুখোমুখি হয় মার্কেটিং বিভাগের। এবারের টুর্নামেন্টে ছেলেদের ২২টি এবং মেয়েদের ৪টি বিভাগ অংশ নিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি নির্ভরযোগ্য ডাটা : আমির খসরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি নির্ভরযোগ্য ডাটা : আমির খসরু

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য ডাটা।

তিনি বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সক্ষমতা, পেশাদারিত্ব এবং তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা আরো জোরদার করতে হবে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, বিবিএস’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. মীর হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবিএস কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও নিয়োগবিধি হালনাগাদের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি নীতি প্রণয়নে সরকারি পরিসংখ্যানের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী আগারগাঁওয়ে বিবিএস প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন এ ল্যাবের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জাতীয় শুমারি ও জরিপের নাম-পরিচয়বিহীন মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণের সুযোগ পাবেন।

তিনি আরো বলেন, বিবিএস নিয়মিতভাবে বিপুল পরিমাণ মাইক্রোডাটা উৎপাদন করে। এ ল্যাবের মাধ্যমে সেই তথ্য আরো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও গবেষণাবান্ধব উপায়ে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। গবেষণা, থিসিস, নীতি বিশ্লেষণ, কর্মসূচি মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে এ ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী বলেন, ‘ডাটা থেকে জ্ঞান, জ্ঞান থেকে উন্নয়ন’-এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিবিএসের মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব উপাত্তভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সরকারি তথ্য ব্যবহারের সুযোগ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করায় তিনি বিবিএস-কে ধন্যবাদ জানান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিবিএসের মাইক্রোডাটা বিশ্লেষণ ল্যাব শিক্ষার্থী, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও নীতি প্রণয়নে জাতীয় তথ্যের ব্যবহার আরো কার্যকর হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার বলেন, মাইক্রোডাটায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উত্তরদাতাদের গোপনীয়তা রক্ষা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিবিএসের এ ল্যাব নিরাপদ তথ্য ব্যবহার, দায়িত্বশীল গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গড়াইয়ের বুকে কোটি টাকার সেতু, আলোর অভাবে ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


গড়াইয়ের বুকে কোটি টাকার সেতু, আলোর অভাবে ঝুঁকিতে জননিরাপত্তা

সন্ধ্যার পর গড়াই নদীর স্নিগ্ধ হাওয়া খেতে একসময় মানুষের ঢল নামত কুষ্টিয়ার কুমারখালী-যদুবয়রা সেতুতে। দিনের ক্লান্তি শেষে একটু প্রশান্তির খোঁজে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত চারপাশ। কিন্তু সেই চিরচেনা রূপ এখন আর নেই।

৮৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬৫০ মিটার দীর্ঘ এই বিশাল সেতুটি এখন গিলে খাচ্ছে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বছর খানেক আগে চুরি হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক ক্যাবল আর পুনস্থাপন না হওয়ায়, সেতুর ৩৬টি সড়কবাতি এখন শুধুই দাঁড়িয়ে থাকা শোভাবর্ধক পোল। বিশাল এই সেতুর বুকে মাত্র চারটি সোলার প্যানেলের নিভু নিভু আলো যেন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার প্রতীক হয়ে জ্বলছে।

সেতু এলাকার ঝালমুড়ি বিক্রেতা আলী হোসেনের কণ্ঠে এখন কেবলই হতাশা। একসময় এই সেতুটি ছিল তার উপার্জনের দারুণ এক জায়গা। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সেতুটি একটি শান্তির জায়গা। দোকানপাট বন্ধ করে রাত ৮টার পর মানুষ এখানে ঘুরতে আসত। সেতু চালুর সময় দিনের মতো লাইট জ্বলত, তখন হাজার-বারোশ টাকা বিক্রি হতো। এখন লাইট নেই বলে ৮টা বাজলেই মানুষ ভয়ে চলে যায়, বিক্রি অর্ধেকও হয় না।

আলী হোসেনের মতো ভ্যানচালক রেজাউল ইসলামও থাকেন আতঙ্কে। অন্ধকারে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, আর এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। রেজাউল বলেন, রাতে সেতুর ওপর ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। এই সুযোগে প্রায়ই ভ্যান-রিকশা ছিনতাই হচ্ছে। সেতু চালুর প্রথম ছয়-সাত মাস আলো ছিল, মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরত। এখন অন্ধকারে ভয়ে কেউ আসতেই চায় না।

কোটি টাকার সেতুতে এমন ভুতুড়ে পরিবেশ মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এটি আক্ষরিক অর্থেই 'প্রদীপের নিচে অন্ধকার'। রাত ১০টা বাজলেই এই অন্ধকারে বসে মাদকসেবীদের আসর। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন, কোটি টাকার সেতুতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার পরও চোরদের কেন ধরা গেল না? চোরেরা তো আর মঙ্গলগ্রহ থেকে আসেনি!

অথচ ২০২৩ সালে সেতুটি যখন উন্মুক্ত করা হয়, তখন প্রতিটি বাতি স্থাপনে খুঁটি, তার ও বাল্ব বাবদ খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এখন অযত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে এসব দামি যন্ত্রাংশ। শুধু আলো না থাকার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনের ঝুঁকিও বাড়ছে।

২০২৩ সালের ২৮ জুন সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া স্বপ্নের এই সেতুটি নির্মাণ করেছিল নেশনটেক কমিউনিকেশন ও রানা বিল্ডার্স। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কাজ শেষে হস্তান্তরের পর তাদের এক বছরের মেরামতের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন এর পুরো দায়ভার এলজিইডির।

কুমারখালী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, বকেয়া বিলের কারণে কিছুদিন সংযোগ বন্ধ থাকায় অনেক বাতি নষ্ট হয়। পরে বকেয়া পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৭টি বাতি মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই বছর জুলাই মাসে চার লাখ টাকা মূল্যের ৬৫০ মিটার দামি ক্যাবল চুরি হয়ে যাওয়ায় আবারও পুরো সেতু অন্ধকারে তলিয়ে যায়। তিনি জানান, নতুন করে ক্যাবল কেনা ও বাতি জ্বালানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

আপাতত সাময়িক সমাধানের একটি চেষ্টা চোখে পড়ে। কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, জনস্বার্থে ইতিমধ্যে চারটি সোলার বাতি স্থাপন করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ পেলে পুনরায় সব বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তবে কবে সেই বরাদ্দ আসবে, আর কবে গড়াই নদীর বুকের এই সেতুটি আবারও আলোয় ঝলমল করে কাটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন কুমারখালীবাসী। হেডলাইটের আলোয় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা যানবাহন আর অন্ধকার হাতড়ে চলা পথচারীদের আপাতত এই ভুতুড়ে পরিবেশেই অভ্যস্ত হতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামিনের ৭ মাস পরও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিনদের, গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


জামিনের ৭ মাস পরও ঘরে ফেরা হয়নি আলাউদ্দিনদের, গ্রামে প্রবেশে বাধার অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে চলমান সংঘাত, লুটপাট ও ভাঙচুরের কারণে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাত মাস ধরে আলাউদ্দিন গংসহ প্রায় ২০০ পরিবার নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেনি। জামিন লাভের পরেও পুলিশ তাদের গ্রামে প্রবেশে বাধা প্রদান করেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত ও পাঁচজন আটক হওয়ার দাবি করেছে ভুক্তভোগীরা।

তারা বলছেন, তারা বৈধভাবে জামিনে মুক্ত থাকা সত্ত্বেও গ্রামে ফিরতে গেলে পুলিশ বাধা দিচ্ছে। একই মামলার অন্য একটি পক্ষের লোকজন গ্রামে অবস্থান করবে, কিন্তু তাদের থাকতে দেয়ার কথা হচ্ছে না।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম সাংবাদিকদের জানান, “আমরা জানতে পেরেছি এখানে তিনজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে এসেছি। অন্য কোনো সমস্যা নেই।” তবে ভুক্তভোগীদের দাবির সঙ্গে তার বক্তব্য মেলে না। তাদের অভিযোগ, পুলিশ বলেছে, “আপনারা এখানে থাকতে পারবেন না। থাকতে হলে এমপি সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”

এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে ২০০টিরও বেশি পরিবারের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ঘরের আসবাবপত্র নয়, প্রায় ৩০টিরও বেশি বাড়ির গ্রিল, দরজা, জানালা ও গেট কেটে নেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, মামুন, জিয়া, জীবন, ওবায়েদুল হক, কামাল, শেখ ফরিদ, সজিব, মুন্না, রিংকা, ইউসুফ, ফখরুলসহ ৭০-৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের দাবি, এর পেছনে একটি প্রভাবশালী পক্ষের ছত্রছায়া কাজ করছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনা চললেও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেই, যার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে, ফলে গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেছেন, “বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

অন্যদিকে, নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ৭০-৮০ জনের নাম রয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ৪ জন আহতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। এটি মিথ্যা। আলিয়ারা গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, যারা প্রবেশ করেছেন তারা চলে গেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%