০৩:৪৭ পি.এম
দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানির ক্ষেত্রে আগাম অর্থ পরিশোধের নিয়মে শিথিলতা এনেছে। নতুন নির্দেশনা অনুসারে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি ছাড়াই আমদানিকারকরা বিদেশে অগ্রিম অর্থ পাঠাতে পারবেন।
একই সঙ্গে এলসির (লেটার অব ক্রেডিট) বাইরের বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থার ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যদি বিদেশি ব্যাংকের রিপেমেন্ট গ্যারান্টি থাকে, তাহলে আমদানির জন্য যেকোনো পরিমাণ আগাম অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। তবে বর্তমানে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো সাধারণ অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে অগ্রিম পাঠাতে পারবে, যেখানে বিদেশি ব্যাংকের কোনো গ্যারান্টি প্রয়োজন হবে না। আর ইআরকিউ (ERQ) হিসাব থেকে এই সীমা হবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ওলামা লীগ নেতার বিএনপিতে যোগদান নাকি সৌজন্য সাক্ষাৎ?
যদি নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি অর্থ বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি ছাড়াই অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো এই আবেদন অফিস চলাকালে ই-মেইেলের মাধ্যমে করতে পারবে এবং পূর্ণাঙ্গ আবেদন পাওয়ার পর সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এলসি এখনো এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, কিন্তু বিশ্বব্যাপী ওপেন অ্যাকাউন্ট ট্রেড, ডকুমেন্টারি কালেকশন, সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স ও ফ্যাক্টরিংয়ের মতো বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে এসব পদ্ধতির ধীরে ধীরে প্রসারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রপ্তানিকারকরা ওপেন অ্যাকাউন্ট ভিত্তিতে পণ্য রপ্তানি করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে ডকুমেন্টারি কালেকশন পদ্ধতিতে আমদানি ও রপ্তানি লেনদেন পরিচালনার সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে রিভার্স ফ্যাক্টরিং, সাপ্লায়ার ফাইন্যান্সিং এবং বায়ার ফাইন্যান্সিংয়ের মতো সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স সুবিধা চালুর জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য কার্যক্রমকে আরো আধুনিক এবং দ্রুততর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ট্রেড প্রসেসিং ও ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ৯ নভেম্বর শুরু হবে
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগাম অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই শিথিলতা আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে এলসিনির্ভরতা কিছুটা কমে বাণিজ্য অর্থায়নে অধিক নমনীয়তা প্রদান করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন