জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি
০৩:৫১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অনিয়মিত অভিবাসন রোধে যৌথভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। এর প্রেক্ষিতে ঢাকায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে তাঁর অফিসকক্ষে ইইউর আন্তর্জাতিক বিষয়ক, রিটার্ন ও ভিসা সংক্রান্ত পরিচালক এবং ইউরোপীয় কমিশনের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মহাপরিচালক হেনরিক নিলসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বৈঠক করে।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ এবং স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনারের আসন্ন বাংলাদেশ সফরসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
স্বরাস্ত্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে হেনরিক নিলসেন মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের প্রদত্ত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। তবে গত চার মাসে সময়োচিত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে সার্বিক পরিস্থিতির সন্তোষজনক উন্নতি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানের মানবাধিকার কমিশন গঠনে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি ডায়ালগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার মানব পাচার, অভিবাসী চোরাচালান এবং সকল ধরনের অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ২০১৭ সালের ইইউ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের আওতাধীন সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
এ সময় ইইউর নতুন অ্যাসাইলাম অ্যান্ড রিটার্ন বর্ডার প্রসিডিউর নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এই বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।
হেনরিক নিলসেন, নিয়মিত অভিবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি নিরাপত্তা খাতের সংস্কারে ইইউর সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আগামী অক্টোবর মাসে ইইউর হোম অ্যাফেয়ার্স কমিশনার ম্যাগনাস অসওয়াল্ড ব্রুনারের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ পক্ষ এ সফরের বিষয়ে স্বাগত জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
বৈঠকে মাইকেল মিলার, আলেকজান্দ্রা ডোমানস্কাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ৫৫তম বাজেটের ঘোষণার অধিবেশন শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এর আগে সকাল বেলা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার একটি বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেটের মাধ্যমে শুরু হওয়া বাংলাদেশ এখন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও বেড়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর এই বাজেট বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট। সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা অপরিবর্তিত থাকছে। তবে, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই বাজেট উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুসারে, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকবে।
এছাড়া, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়িয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম ৩০ হাজার টাকা, বীর বিক্রম ২৫ হাজার টাকা এবং বীর প্রতীক ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এদিকে, জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা বর্তমান বিএনপি সরকার বহাল রেখেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে আহতদের জন্য যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অব্যাহত রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাসুক বলেছেন, “সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। আমরা যেমন আয়নার মাধ্যমে নিজেদের চেহারা দেখতে পাই, তেমনি সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। তাই দুষ্টের দমনে সাংবাদিকদের কলম তরবারির মতো ব্যবহার করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে মাদারীপুর জেলা পরিষদের সভাকক্ষে জেলা পরিষদের আয়োজনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার মাশুকুর রহমান মাসুক বলেন, “আমার বিষয়ে কোনো তথ্য বা অভিযোগ শুনলে আগে আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন। আমি যদি তার সঠিক উত্তর দিতে না পারি, তাহলে আপনারা যা সত্য মনে করবেন তা লিখবেন। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা আমাকে সঠিক পথে চলতে সহযোগিতা করবে।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান বাদল, এম আর মর্তুজা, বেলাল রিজভী, এস আর শফিক স্বপন, ফরিদ উদ্দিন মুপ্তি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আরাফাত হাসান, সাগর হোসেন তামিম, আরিফুর রহমান মোল্লা, মনজুর হোসেন, মহসিন তালুকদার, শাহাদাত জুয়েলসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ