বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৩৬ পি.এম
জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, যিনি টালিউড ইন্ডাস্ট্রির একজন পরিচিত মুখ, ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে তার পদত্যাগ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই), তিনি নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং এভাবে পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এর আগে, তৃণমূলের মনোনয়ে রাজ্যসভায় যাওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন। কোয়েল মল্লিক তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন। আগের জুনে, যখন কোয়েল মল্লিক প্রথমবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তিনি ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি হাজির হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
সেই সময়, দেশের বাইরে থাকার কারণে তার এই পদত্যাগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। অবশেষে, আজ তিনি দিল্লিতে গিয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন।
এই পদত্যাগের ফলে, রাজ্যসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সংখ্যা কমে বর্তমানে ৯-এ দাঁড়িয়েছে। এর ফলে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
দিল্লির রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, পদত্যাগের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই, কোয়েল মল্লিক বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন প্রশ্ন উঠেছে—তৃণমূলের চারজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর কি কোয়েল মল্লিক বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন?
এটি মনে রাখতে হবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে, তখন সেখানে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় ও মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল। এরপর, গত এপ্রিলে তিনি দিল্লিতে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
শপথগ্রহণের পর, এই টালি তারকা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এমন নয়। তবে এটি অনেক বড় একটি মহৎ দায়িত্ব। দেশ ও মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় কোনো মহৎ কাজ আর হতে পারে না।’ তবে, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তিনি ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে চর্চা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, '২৪-এর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সকলের ত্যাগ ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাতে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্মম গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত।'
তিনি আরো বলেন, 'শহীদ ওয়াসিম ও অন্যান্য সকল শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিটি জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনা বা তার দলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। একইসাথে যারা এই গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পালন করেছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যকর করা হবে।'
অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম বলেন, 'আজকে আমি আমার হাজারো সন্তানকে এখানে দেখতে পাচ্ছি। আমার আকুল আবেদন, কেউ যেন নিজেদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি না করে। দেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।'
এই অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, আহত যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কামনা করে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এটি অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাদ জোহর।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম এই তথ্য জানিয়েছেন।
এসময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. হারুনুর রশীদসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান।
কালের কণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে ৫৪ বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন।
আজ সকালে বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন এর উদ্যোগে ৫৪ বিজিবির প্রশিক্ষণ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক পরিবারের মাঝে বিজিবির পক্ষ থেকে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। দুপুরের এই কার্যক্রমে ৫৪ বিজিবি বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন ফারুকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দুর্গতদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর জোন অধিনায়ক মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসাধারণের পাশে থেকে কাজ করে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাউল, ১ লিটার তেল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ৫০০ গ্রাম গুড়, ১ কেজি চিড়াসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে বিজিবির মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন হাসান ইমাম, সহকারী পরিচালক ওমর ফারুকসহ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার তিতাসে তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় বরাদ্দের ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বরাদ্দ থাকলে প্রকল্পের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ০৬৭ কিলোমিটার খাল খনন হওয়ায় অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাঁও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন।
প্রকল্প অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল খননকাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
খননকাজ, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। আর অবশিষ্ট ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের অগ্রগতি, ব্যয় ও গুণগত মান নিয়মিত তদারকি করেছেন সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় তিনি ৩০ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এদিকে, অসম্পূর্ণ খননের কারণে স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাঁদের ভাষ্য হলো, বছরের পর বছর ভরাট হয়ে থাকা খালটির কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট দেখা দেয়। পুরো খাল পুনঃখনন হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়ত এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুল ইসলাম বলেন, 'সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এ অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ পরিচালনার চেষ্টা করেছি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় যে ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা ব্যয় হয়নি, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ