বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৩৮ পি.এম
কুমিল্লার তিতাসে তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় বরাদ্দের ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বরাদ্দ থাকলে প্রকল্পের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ১ দশমিক ০৬৭ কিলোমিটার খাল খনন হওয়ায় অব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাঁও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন।
প্রকল্প অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল খননকাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
খননকাজ, শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। আর অবশিষ্ট ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের অগ্রগতি, ব্যয় ও গুণগত মান নিয়মিত তদারকি করেছেন সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় তিনি ৩০ জুন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এদিকে, অসম্পূর্ণ খননের কারণে স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাঁদের ভাষ্য হলো, বছরের পর বছর ভরাট হয়ে থাকা খালটির কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট দেখা দেয়। পুরো খাল পুনঃখনন হলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বাড়ত এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুল ইসলাম বলেন, 'সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এ অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ পরিচালনার চেষ্টা করেছি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় যে ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা ব্যয় হয়নি, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। শেখ হাসিনাসহ ভারতে থাকা অন্য আসামিদের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে ভারতের।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে পলাতক হিসেবে আছেন এবং সেখানে তার কোনো অফিশিয়াল স্ট্যাটাস নেই। এ ছাড়া তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট না থাকায় তাকে দেশে ফেরাতে অবশ্যই ছবিযুক্ত প্রমাণপত্র নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর এবং রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নতুন কোনো দেশ সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৭ বছরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি জিইয়ে রেখে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি এবং কূটনৈতিক ও অকূটনৈতিক বিভিন্ন চ্যানেলে আলোচনা চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব জুলায় গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর গ্রামে অবস্থিত আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন।
আইনসম্মত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, ছাত্রদল সভাপতি কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে। কবর জিয়ারতের পর, শহীদ আবু সাঈদের বাবা, মা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন। ছাত্রদল সভাপতি আবু সাঈদের পরিবারের বিভিন্ন দাবির কথা শোনেন এবং এই দাবিগুলো সরকারী শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।
এসময় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এম এম মুসা, রংপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শরীফ নেওয়াজ জোহাসহ অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের সিদ্ধার্থনগরে যৌতুকের জন্য এক লাখ টাকা দিতে না পারার কারণে মুফিদুন্নিশা নামের এক তরুণীকে বিয়ের ৪৫ দিনের মধ্যে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, মে মাসে মুফিদুন্নিশার বিয়ে হয়েছিল সিদ্ধার্থনগরের শামসের আহমদের সাথে। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে যৌতুকের টাকার জন্য নানাভাবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন স্বামী। বিষয়টি অবগত করেন তিনি তার বাবার বাড়িতে। তাদের বাড়ি থেকে বিষয়টির মিটমাটের চেষ্টা হয়।
নিহত মুফিদুন্নিশার মা জানান, গত ১৪ জুলাই তার মেয়ের জামাই ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আপনার মেয়েকে মেরে ঘরে পুঁতে দিয়েছি। এসে নিয়ে যান।’ এই ফোনটি পাওয়ার পরই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি আত্মীয়দের নিকট জানিয়ে দেন। এরপর বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়।
পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মুফিদুন্নিশার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এই অভিযানের ফলে আটক করা হয় মুফিদুন্নিশার স্বামী, শ্বশুর এবং শাশুড়িকে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শামসের দাবি করেন, ঘরের মধ্যেই স্ত্রীকে পুঁতে রেখেছেন।
শামসেরের দাবি অনুযায়ী, ঘরের মেঝে খোঁড়া হয়। সেখানেই মেলে মুফিদুন্নিশার দেহ। এরপরেই গ্রেপ্তার করা হয় মুফিদুন্নিশার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্খা পূরণ এবং জুলাই শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সেক্টরে নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধরে-ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি স্মরণ করে অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আত্মদানকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের বয়স প্রায় পাঁচ মাস হতে চললো। এই স্বল্প সময়েই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান-প্রধান বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সবাই কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক মত, পথ বা আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একসাথে কাজ করে যেতে হবে। এই নতুন বাংলাদেশে সরকারের মূলনীতিই হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই, যার ভিত্তি হবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার।’
মাহদী আমিন আরও বলেন, গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের পাশে থাকা এই দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিক।
সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির দর্পণ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যেভাবে আপনারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সত্য, সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়গুলো জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’
বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় দেশে সবচেয়ে বেশি গণমাধ্যমের পথচলা শুরু হয় এবং কোনো বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়নি।
ডিআরইউ-এর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ