মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি
০৪:৩৭ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশ পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য "এস্কাফ" সিরাপ এবং ০১ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। আজ ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানা পুলিশ কর্তৃক পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ১০/০৭/২০২৬ খ্রি. রাত ১২:২০ ঘটিকায় গোমস্তাপুর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ জেনারুল শেখ, এসআই সজল ঢালী, এসআই এমরান হোসেন এবং এসআই মোঃ শরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোমস্তাপুর থানাধীন রাধানগর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়ি গ্রামের জনৈক মোঃ আলম হোসেন এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ আলম হোসেন ওরফে আলম মেম্বার (৬২)-এর শয়ন কক্ষের কাঠের খাটিয়ার নিচের মেঝে থেকে ০১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা। ধৃত আলম হোসেন শিবরামপুর গ্রামের মৃত ঘাটু শেখ ও মৃত আকিনা বেগমের ছেলে।
পৃথক আরেকটি অভিযানে আজ ভোর ০৪:২৫ ঘটিকায় গোমস্তাপুর থানার এসআই (নিঃ) মোঃ জেনারুল শেখ, এসআই সজল ঢালী, এসআই এমরান হোসেন এবং এসআই মোঃ সৈয়দ আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাধানগর ইউনিয়নের দাড়িপাতা কামারপাড়া গ্রামস্থ বারোদুয়ারী রেল ঘুন্টির দক্ষিণ পার্শ্বের পাকা রাস্তার উপর থেকে মোঃ সাহেদ আলী (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। পরবর্তীতে তার কাছে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভিতর থেকে ২১৭ বোতল অবৈধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য "এস্কাফ" সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১,৭৩,৬০০/- (এক লক্ষ তেহাত্তর হাজার ছয়শত) টাকা। গ্রেফতারকৃত সাহেদ আলী আলীনগর ইউনিয়নের ইমাননগর গ্রামের মোঃ শামসুদ্দিন ও মোসাঃ আশিয়ার ছেলে।
উভয় অভিযানে উদ্ধারকৃত আলামত স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক ২টি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলেই সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়।
এজন্য তিনি বলেন, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যদিও সীমিত জনবল রয়েছে, তবুও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি হাসপাতালে উন্নত এবং রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয় সভা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুস্তাফিজুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. আব্দুল কুদ্দুস, সদর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন, চিকিৎসক এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের পরিচালক হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম, বিদ্যমান সমস্যা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে। সভায় হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুল্যান্স সেবাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যার কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপের কথা বলেছেন তাঁর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি তুলে ধরেন যে, এই সংকটের সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী খুব দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আজ দুপুরে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন একটি ফেসবুক পোস্টে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে এই পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলের এবং মতবাদের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি প্রধান উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে:
১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।
২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। একই সঙ্গে সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে।
৮. ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯. এই দুর্যোগের কারণে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।
১০. টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
ফেসবুক পোস্টের শেষে, মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ আলহাজ জিকে গউছ খোয়াই নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
আজ শুক্রবার বিকেল আড়াইটায় তিনি সদর উপজেলার লস্করপির ইউনিয়নের কালিগন্জ নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় সেখানে জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, এডভোকেট নুরুল ইসলাম, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল, হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জিকে গউছ বলেন, "আগামীকাল থেকেই ভাঙা বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বাঁধ মেরামতে কোনো ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। কেউ দলের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচলিত বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও কম মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল ইউজিসিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বিষয়ক এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ টাকা।
তবে পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক (ওপেক্স) মডেলে তা অর্ধেকেরও কমে নামিয়ে আনা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৪৭টি পাবলিক ও একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, যা অবকাঠামো সম্প্রসারণের পর প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলক ওপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রকল্পের সক্ষমতা ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হলে তা ৭ টাকায় নেমে আসে। ভারতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৩ টাকা ৬৯ পয়সা এবং পাকিস্তানে ৩ টাকা ৯৩ পয়সা। বাংলাদেশেও নীতিগত সহায়তা, শুল্ক ও কর সমন্বয় করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা সম্ভব।’
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীর ওপর। ফলে এতে সরকারের প্রাথমিক কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধুমাত্র তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে।’
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র আহ্বান, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ বিলের বড় সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের সামগ্রিক নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেলের প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বড় পরিসরে প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রকল্পটির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ইউজিসির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস করা।
সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ