০৪:৫১ পি.এম
দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচলিত বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও কম মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গতকাল ইউজিসিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বিষয়ক এক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ টাকা।
তবে পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক (ওপেক্স) মডেলে তা অর্ধেকেরও কমে নামিয়ে আনা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৪৭টি পাবলিক ও একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, যা অবকাঠামো সম্প্রসারণের পর প্রায় ৬০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলক ওপেক্স মডেলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ট্যারিফ ছিল ৭ টাকা ৫০ পয়সা। প্রকল্পের সক্ষমতা ৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হলে তা ৭ টাকায় নেমে আসে। ভারতে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের ট্যারিফ ৩ টাকা ৬৯ পয়সা এবং পাকিস্তানে ৩ টাকা ৯৩ পয়সা। বাংলাদেশেও নীতিগত সহায়তা, শুল্ক ও কর সমন্বয় করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ৬ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা সম্ভব।’
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীর ওপর। ফলে এতে সরকারের প্রাথমিক কোনো বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শুধুমাত্র তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করবে।’
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে দরপত্র আহ্বান, তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যুৎ বিলের বড় সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর দেশের সামগ্রিক নির্ভরতাও হ্রাস পাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই মডেলের প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বড় পরিসরে প্রকল্প সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। এ পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রকল্পটির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
ইউজিসির লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ব্যবহার গড়ে ২০ শতাংশ কমানো এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়িয়ে মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ৫ থেকে ১০ শতাংশ হ্রাস করা।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
সভায় কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম এবং ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন