হুমায়ুন কবির, বানারীপাড়া প্রতিনিধি
০৬:৫৫ পি.এম
“শিকড়ে লেখা ইতিহাস, পাতায় জীবনের গান, শতবর্ষী এই বৃক্ষ আমাদের গর্ব, আমাদের সম্মান।”
প্রকৃতি শুধু মানবজাতিকে অক্সিজেন ও ছায়াই দেয় না, বরং বুকে ধারণ করে রাখে শতাব্দীর ইতিহাসও। আর সেই ইতিহাসেরই এক जीवন্ত মহাকাব্য হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী এক শিমুল-তুলা গাছ, যার বয়স প্রায় ২০০ বছর।
বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণবাড়ি এলাকার ঐতিহ্যবাহী 'সরকার বাড়ি'র আঙিনায় অবস্থিত এই বিশাল বৃক্ষটি এখন ওই অঞ্চলের একটি অনন্য গৌরব।
প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ঋতু পরিবর্তন, ঝড়-ঝঞ্ঝা, খরা আর প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে অটল দাঁড়িয়ে আছে এই গাছটি। এর বিশাল কাণ্ড, আকাশছোঁয়া উচ্চতা এবং চারদিকে বিস্তৃত ডালপালা যেন প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।
যা দূর থেকেই পথচারীদের মুগ্ধ করে।
প্রতি বছর বসন্তের আগমনীতে এই শিমুল-তুলা গাছটি এক অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়। পাতাঝরা ডালে ডালে ফোটে টকটকে লাল রঙের দৃষ্টিনন্দন ফুল।
ফুল ঝরে যাওয়ার পর যখন ফল পরিপক্ব হয়, তখন ভেতর থেকে বের হওয়া সাদা তুলা বাতাসে ভেসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামীণ প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে এবং আলোকচিত্র ধারণ করতে প্রতি বছরই দূর-দূরান্ত থেকে বহু প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকরা এখানে ছুটে আসেন।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, বহু বছর ধরে এই গাছের ছায়ায় গ্রামের মানুষ বিশ্রাম নিয়েছেন, আড্ডা দিয়েছেন এবং নানা সামাজিক মেলবন্ধনের সাক্ষী হয়েছে এই প্রাচীন বৃক্ষ।
এটি কেবল একটি গাছ নয়, বরং ব্রাহ্মণবাড়ি এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক।
তবে গাছটি দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই এলাকার অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
সরকার বাড়ির উত্তরসূরী উত্তম সরকার এই প্রতিবেদককে জানান:
"আমাদের এই গাছটির বয়স প্রায় ২০০ বছর।
এটি দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, এমনকি দেশের বাইরে থেকেও পর্যটকরা আসেন।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় দর্শনার্থীদের আসার পথে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়।
ঐতিহ্যবাহী এই গাছটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।"
একটি শতবর্ষী গাছ কেবল একটি বৃক্ষ নয়; এটি একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং মানুষের স্মৃতির অমূল্য সম্পদ।
এমন গাছ হারিয়ে গেলে গ্রামীণ ইতিহাসের একটি বড় অধ্যায় বিলীন হয়ে যাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল, পরিবেশবাদী এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে যেন—এই প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন শিমুল-তুলা গাছটিকে 'সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
একই সাথে এর প্রয়োজনীয় পরিচর্যা, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন করা জরুরি।
সর্বোপরি, গাছ বাঁচলে বাঁচবে প্রাণ।
প্রকৃতির এই অমূল্য দানকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকিয়ে রাখতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দর্শনার্থী ও স্থানীয় প্রশাসনকে এখনই এগিয়ে আসতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বেলিংহ্যামের জাদুর সাহায্যে পানামাকে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। এই জয় তাদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছে এবং নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে হ্যারি কেইনরা। নকআউট পর্বে ইংল্যান্ড ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। এছাড়া, এই ম্যাচে অংশ নিয়ে ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি অনন্য নজির গড়েছেন জর্ডান হেন্ডারসন।
এই ফুটবলার দেশের হয়ে চারটি ফিফা বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছেন। বর্তমানে, তিনি ৩৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার প্রিমিয়ার লিগে ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে খেলছেন। এদিকে, ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পানামার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ‘গ্রুপ এল’-এর ম্যাচে ৮৪তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন।
২০১৯-২০ মৌসুমে লিভারপুলকে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতানোর সময় দলের নেতৃত্ব দেওয়া হেন্ডারসন এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ইংলैंडের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পানামার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল 'থ্রি লায়ন্স'-এর হয়ে তার চতুর্থ বিশ্বকাপ অভিযান।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ফিফা বিশ্বকাপ আসরে অংশগ্রহণের রেকর্ডটি যৌথভাবে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির মনজনে। এই দুই কিংবদন্তিই ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এদিকে, হ্যারি কেইনও এই ম্যাচে অংশ নিয়ে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনি এখন ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা ৩২ বছর বয়সী এই ইংলিশ স্ট্রাইকার ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন।
পানামার বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যমে তার বিশ্বকাপে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। এর ফলে, গ্যারি লিনেকারকে ছাড়িয়ে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের একক সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন। গ্যারি লিনেকার ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে মোট ১২টি ম্যাচ খেলে ১০টি গোল করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মুর শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিতি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম সেখানে গিয়েছেন। এ বিষয়ক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের বাসায় নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী এবং সারজিস আলম গিয়েছিলেন। মাসুদ আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাম্মুর শ্বশুর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়াও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক এমপি জিল্লুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে কাউন্সিলর মাসুদ আহমদ পরিচিত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সারজিস আলমের ওই সফরের বিষয়ে কিংবা ছাত্রলীগের নেতার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া বলেন, "একান্ত ব্যক্তিগত দাওয়াতে এনসিপির নেতারা মাসুক কমিশনারের বাসায় গেছেন। এছাড়া মাসুক কমিশনার আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য বা কর্মী নন। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় আমাদের খাবার ও পানি দিয়ে সবসময় সহযোগিতা করেছেন।"
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, "এ বিষয়ে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) নিমতলী, চুড়িহাট্তা ও এফআর টাওয়ারের মতো অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে ১১ দফা সুপারিশ করেছে।
এ সংক্রান্ত সুপারিশগুলো রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘নিমতলী ট্র্যাজেডি : অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড থামবে কবে?’ শীর্ষক সেমিনারে তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির।
১১ দফা সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে: আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পকারাখানাগুলোকে সম্পূর্ণ স্থানান্তর করতে হবে। জাতীয় রাসায়নিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
আইন ও বিল্ডিং কোডের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল লাইসেন্সিং ও নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জন্য একটি জাতীয় ডেটাবেস ও প্রকাশ্য তালিকা তৈরি করতে হবে। ভবনের নিরাপত্তা সনদ বাধ্যতামূলক করতে হবে। জরুরি প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আইন বাস্তবায়নে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অগ্নিদুর্যোগমুক্ত এবং নিরাপদ নগরায়ণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। নগর অগ্নি ও রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সেমিনারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম মন্তব্য করেন, সমাজের শিক্ষিত এবং ধনী শ্রেণির নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের মূলগত পরিবর্তন সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র আর্থিক লোভের কারণে কিছু লোক আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের জন্য বাসা ভাড়া দেয়। এর ফলে সাধারণ মানুষ নিমতলী-চুড়িহাট্টার মতো অগ্নিদুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি বিল্ডিং কোডের নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ দরকার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মো. ছালেহ উদ্দিন বলেন, দেশে যে কোনো দুর্ঘটনায় প্রথমেই ফায়ার সার্ভিস কাজ শুরু করে। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক নীতিমালা মানা হয় না। অনুমোদন ৫ তলা থাকলেও বন্ধন করা হয় ১০ তলা। এটি রাজউক জানলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না। এখানে দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স দাবি করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের সঠিক নীতিমালা তৈরি করা উচিত। পরিবেশ এবং জনবান্ধবতার কথা চিন্তা করে ঢাকাকে আর সম্প্রসারণ করা উচিত নয়। সিটি গভর্নমেন্টের নিয়ন্ত্রণে ঢাকাকে আনা প্রয়োজন। পরিবেশ ও জনবান্ধব উন্নয়নশীল ঢাকা গড়তে সঠিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে বাপার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জমান মজুমদার মন্তব্য করেন, শিল্পায়নের প্রসার, রাসায়নিকভিত্তিক ব্যবসায়ের বিস্তার এবং নগর জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর সাথে সঙ্গেই নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নগর পরিকল্পনা এবং আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বিপুল পরিমাণ দাহ্য, বিস্ফোরক ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবহারের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরই নির্মম পরিণতি ছিল ২০১০ সালের নিমতলী কেমিক্যাল ট্র্যাজেডি। নিমতলী, চুড়িহাট্তা, বনানীর এফআর টাওয়ার, সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপো অথবা সাম্প্রতিক বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ড, সবকিছুই বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং এটি নীতিগত ব্যর্থতা, দুর্বল নগর শাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার ধারাবাহিক প্রমাণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কের জামুর্কি এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ের মধ্যে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়, এবং সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়, যা যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
অবরোধ কর্মসূচিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, সেহড়াতৈল, ইসলামপুর ও পড়াইখালী এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি মির্জাপুর উপজেলার মহেরা, জামুর্কি ও পাকুল্লা এলাকার বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষও অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের দাবী, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর কোনো সমাধান না পাওয়ার কারণে মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
পরে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। তাদের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
গোড়াই হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পীযূজ দে সজিব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সাত দিনের সময় দিয়েছেন, এবং পরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ