ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী কেইকো ফুজিমোরি


পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী কেইকো ফুজিমোরি

প্রায় এক মাসের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ। অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে তিনি বামপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।

পেরুর নির্বাচনী আদালত অনুমোদিত ফলাফলে দেখা যায়, গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার (রানঅফ) নির্বাচনে ৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি ৫০ দশমিক ১৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে, ৫৭ বছর বয়সী রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৮৬৫ শতাংশ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৫০ হাজারেরও কম।

এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে অবশেষে জয় পেলেন কেইকো ফুজিমোরি। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির কন্যা। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সংগঠিত অপরাধ, চাঁদাবাজি ও সহিংসতা দমনে কঠোর অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

আরও পড়ুন: আমরা মাফিয়া ডন বানাব না: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

ফল ঘোষণার পর কেইকো ফুজিমোরি বলেন, “আমি দায়িত্ব, বিনয় এবং গভীর কর্তব্যবোধ নিয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবো।” তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিটি দিন জনগণের কথা শোনা, সংলাপ চালিয়ে যাওয়া এবং নতুন সরকারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার একটি সুযোগ।”

বিশ্লেষকদের মতে, অল্প ভোটের ব্যবধানে জয় পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি এমন বার্তা দিয়েছেন।

অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী রবার্তো সানচেজ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, রানঅফ নির্বাচন ‘গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ’ হয়েছে এবং বিশেষ করে বিদেশে বসবাসরত পেরুভিয়ানদের মধ্যে ফুজিমোরির অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।

ফল ঘোষণার পর সানচেজের দল নির্বাচনী আদালতের ঘোষণার বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং পুরো নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে লাগেজ পাচ্ছেন যাত্রীরা: মন্ত্রী

নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী সানচেজ ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংগঠিত অপরাধ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। এসব ইস্যুকে সামনে রেখেই ফুজিমোরি জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন।

প্রচারণাকালে তিনি তার বাবার বিতর্কিত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকেও সামনে আনেন এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেড়ে যাওয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরি মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচির দায়ে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। তার শাসনামল ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

কেইকো ফুজিমোরি নির্বাচনী ইশতেহারে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কারেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা নির্ধারণ হবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে

এর আগে তিনি ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিবারই অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। এবার জয়ী হওয়ার মাধ্যমে তিনি গত এক দশকে পেরুর নবম প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, যা দেশটির দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্রকেই তুলে ধরে।

আগামী ২৮ জুলাই তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে।

লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থার উত্থান

বিশ্লেষকদের মতে, কেইকো ফুজিমোরির বিজয় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থী শক্তির উত্থানের ধারাবাহিকতারই অংশ। সম্প্রতি কলম্বিয়াতেও ডানপন্থী নেতা আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো বদলাচ্ছে: বিশ্লেষক

এছাড়া এল সালভাদরের নাইব বুকেলে এবং ইকুয়েডরের ড্যানিয়েল নোবোয়ার মতো নেতারাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষমতায় এসেছেন। তাদের অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিল্ভা বর্তমানে লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী রাজনীতির প্রধান মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য ব্রাজিলের নির্বাচনে তাকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্রের মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাস দুর্ঘটনায় সুপারভাইজারসহ ২ জন নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিনে প্রগতিশীলদের ‘দেশছাড়া’ করার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিনে প্রগতিশীলদের ‘দেশছাড়া’ করার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সূচনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের পুনরুত্থান সম্পর্কে দাবি করেন এবং এটিকে দেশের জন্য একটি বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি অবৈধ অভিবাসী এবং যাদের তিনি কমিউনিস্ট আখ্যা দেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে প্রদত্ত এই বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত পরিচয় ফিরিয়ে আনতে হবে। তার দাবি, দেশের সর্বত্র এমন একটি আদর্শিক প্রবণতা বিকশিত হয়েছে যা মার্কিন সংবিধান এবং স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী।

তিনি আরও বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের পর আবার নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের উত্থান ঘটছে। তার মতে, এই প্রবণতা দেশের স্বাধীনতা এবং মূল্যবোধের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কমিউনিস্টদের দ্রুত পরাস্ত করা হবে এবং তাদেরকে দেশ থেকে নির্বাসনে পাঠানো হবে।

ভাষণে ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, প্রগতিশীলরা শিশুদের এমন শিক্ষা প্রদান করছে যা দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র চুরি করা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের ঐতিহাসিক বীরেরা ছিলেন অত্যাচারী। এসব বক্তব্যকে তিনি মার্ক্সবাদী প্রচারণা হিসেবে অভিহিত করেন।

এসময় ট্রাম্প কংগ্রেসের প্রতি সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করার আহ্বান জানান। তার দাবি, এই আইন কার্যকর হলে নির্বাচনী ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ সম্ভব হবে। তবে সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবিত আইনটি ভোটাধিকার সীমিত করার লক্ষ্যে নির্দেশিত হতে পারে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। ইতিহাসবিদ এবং সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, ভাষণে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের কিছু বিতর্কিত অধ্যায়কে এড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে আদিবাসী জনগণের ভূমি দখল এবং দাসপ্রথার ইতিহাস নিয়ে তার বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেছেন।

মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলেও তার আরও একটি ভাষণ এবং আতশবাজির আয়োজন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি বলসোনারো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২১ পি.এম


নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি বলসোনারো

ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো নিজের গৃহেই অন্তরীণ থাকতে পারবেন। গণ-অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

বলসোনারোর আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরাস বলসোনারোকে গৃহবন্দি রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে মানবিক বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্ট তাকে সাধারণ কারাগারে না পাঠিয়ে নিজ গৃহে কারাবাসের অনুমতি দিয়েছেন।

২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান বলসোনারো। তবে ক্ষমতা ধরে রাখতে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তী মাসে অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে তাকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তিনি নিজ গৃহে বন্দি ছিলেন। সেই সময়ে তার পায়ে ইলেকট্রনিক বেড়ি পরানো হয়েছিল। কিন্তু সোল্ডারিং আয়রন দিয়ে ইলেকট্রনিক বেড়ি কাটার চেষ্টা এবং তার বাসার সামনে সমর্থকদের ভিড় জমে যাওয়ার কারণে গত নভেম্বরে তাকে প্রথমে ব্রাসিলিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সেলে অবরুদ্ধ থাকা হয়েছিল। পরে জানুয়ারিতে তাকে পাপুদা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

কারাগারে নিউমোনিয়া ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হলে ৭১ বছর বয়সী বলসোনারোকে হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২৪ মার্চ তাকে ৯০ দিনের জন্য গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেন আদালত। ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইনজীবীরা তার গৃহবন্দিত্ব বজায় রাখার আবেদন করেন। স্বাস্থ্যগত কারণে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

বলসোনারোকে গৃহবন্দি রাখার সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের রাজনীতিতে আপাতত স্বস্তি এনে দিয়েছে। অসুস্থ বলসোনারোকে সাধারণ কারাগারে পাঠানো হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ২৭ বছরের সাজার কারণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বলসোনারো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সাধারণ কারাগারে থাকার অবস্থায় তাকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতে হতো, কিন্তু গৃহবন্দি থাকলে তিনি পরিবার এবং দলের নেতাদের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ রাখতে পারবেন। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন না, তবে গৃহবন্দি থাকলে তিনি আড়াল থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে সক্ষম হবেন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোরাস তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, ৯০ দিনের গৃহবন্দি থাকার সময় সাবেক প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তাছাড়া গৃহবন্দি থাকার সময়ে তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অসদাচরণের’ কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে, মানবিক কারণে গৃহবন্দিত্ব বজায় রাখা যুক্তিসংগত, উপযুক্ত মনে হচ্ছে।’ যদিও গত মাসে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে তল্লাশির সময়ে বলসোনারোর নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে তার মালিকানাধীন একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে সে ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি। আদালতে বলসোনারোর আইনজীবীরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেছেন। আদালতের অনুরোধে ব্রাজিলের অ্যাটর্নি জেনারেল পাওলো গোনেট আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দি রাখার সুপারিশ করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেনাল্টি মিসের পর হ্যারিংটনকে বার্তা দিলেন ইব্রাহিমোভিচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৩ পি.এম


পেনাল্টি মিসের পর হ্যারিংটনকে বার্তা দিলেন ইব্রাহিমোভিচ

বিশ্বকাপের রাউন্ড-৩২-এ পেনাল্টি শুটআউটে মিসরের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই পেনাল্টি মিস করার ফলে অস্ট্রেলিয়ান তরুণ খেলোয়াড় লুকাস হ্যারিংটন নিজের উপর চাপ অনুভব করছেন। অস্ট্রেলিয়ার যুব খেলোয়াড়টির পাশে দাঁড়িয়েছেন সুইডেনের তারকা ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, যিনি উৎসাহমূলক বার্তা পাঠিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে চতুর্থ শট নিতে আসেন ১৮ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাক। শটটি ক্রসবারে লেগে গোল মিস হয়ে যায় এবং এর ফলে মিসরের ফুটবলার হোসাম আবদেলমাগুইদের জন্য জয় নিশ্চিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

অবশ্য, এই সুযোগটি যথাযথভাবে কাজে লাগান হোসাম। এরপর হ্যারিংটনের পর সাউটারও স্পট-কিক মিস করেন।

ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া পেনাল্টিতে ৪-২ গোলে পরাজিত হয়। এর ফলে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম নকআউট পর্বের জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো।

ফক্স টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুইডেনের তারকা ইব্রাহিমোভিচ বলেছেন, ‘পেনাল্টি অনেকটা লটারির মতো। গোল করলে নায়ক হন, আর গোল করতে না পারলে দুঃখজনকভাবে শূন্য হয়ে যান।’ তিনি হ্যারিংটনের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমার বয়স ১৮ বছর, তুমি তরুণ, এইতো তোমার ক্যারিয়ারের শুরু।’

এছাড়া তিনি বলেন, ‘শট নিতে তুমি অনেক সাহস দেখিয়েছ, সবাই এটা করে না। বন্ধু, তুমিই সেরা। তুমি যে কোন বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো।’

ইব্রাহিমোভিচের উৎসাহমূলক বার্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে হ্যারিংটন বলেন, ‘সম্ভবত আমিই একমাত্র ব্যক্তি যে নিজেকে দোষারোপ করি এবং নিজের প্রতি কঠোর হই, কিন্তু কিংবদন্তির কাছ থেকে এমন উৎসাহমূলক বার্তা জীবনে নতুন আশা এনেছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিক্ষোভে অচল পাকিস্তান কাশ্মীর, রাজপথে আজাদী ও অধিকারের চূড়ান্ত লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৪ পি.এম


বিক্ষোভে অচল পাকিস্তান কাশ্মীর, রাজপথে আজাদী ও অধিকারের চূড়ান্ত লড়াই

টানা ২৬ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র অসহযোগ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মির (আজাদ কাশ্মির) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ৩৮ দফা দাবিতে চলমান এই গণআন্দোলন দমাতে পাকিস্তান সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ফলে গত জুনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২০ থেকে ২৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, যার মধ্যে ৪ জন নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, মৃতের সংখ্যা ৩২ ছাড়িয়েছে। এই উত্তপ্ত অবস্থার মাঝেই ৩০ জুন আন্দোলনের শীর্ষ নেতা শওকত নওয়াজ মীর-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আন্দোলনের পটভূমি

নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং বিদ্যুৎ বিলে ভর্তুকির দাবিতে ২০২৩ সালের মে মাসে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এই আন্দোলনে বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্ম নিয়ে গঠিত ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC) নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেও কাশ্মিরে তীব্র শাটডাউন কর্মসূচির মাধ্যমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেসময় সরকারের সাথে একটি চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়ন না করার প্রতিবাদ হিসেবে গত ৯ জুন থেকে শুরু হয় আন্দোলনের নতুন ও চূড়ান্ত পর্যায়। এর আগেই, গত ৫ জুন পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এই আন্দোলনকারী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং শীর্ষ ৪ নেতার মাথার দাম ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) রুপি ঘোষণা করে।

এবারের আন্দোলনে দল-মত নির্বিশেষে নারী ও স্কুল শিশুসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। আন্দোলনকারীদের মুখে স্লোগান উঠছে—‘পাকিস্তানি বাহিনী দূর হটো’, ‘আমরা মৌলিক অধিকার চাই’, ‘আমাদের বিদ্যুৎ আমাদের দাও’। অ্যাকশন কমিটির নেতারা ইসলামাবাদের তীব্র বৈষম্যের ইতিহাস তুলে ধরে বাঙালি, বেলুচ ও পশতুদের সাথে পাকিস্তানের আচরণের উদাহরণ দিচ্ছেন। তারা দাবি না মানলে সরকারকে দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজধানী মুজাফফরাবাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন।

সংকটের কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও সংরক্ষিত আসন

বিক্ষোভকারীদের প্রধান ক্ষোভ হলো—কাশ্মিরে উৎপাদিত সস্তা জলবিদ্যুৎ স্থানীয়দের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে, অথচ পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডের মানুষ ও আমলারা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য কাশ্মির বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিধানসভায় কাশ্মিরের বাইরে (পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে) থাকা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই ১২টি আসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামাবাদ কাশ্মিরের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। তারা এই সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে অনড়। সম্প্রতি কাশ্মিরের সর্বোচ্চ আদালত এই আসন বাতিলের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনীর কথা বললে আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

তীব্র মানবিক সংকট ও বিচ্ছিন্ন উপত্যকা

অ্যাকশন কমিটির শাটডাউন ও লংমার্চ কর্মসূচির ফলে মুজাফফরাবাদ, রাওয়ালকোট ও মিরপুরসহ প্রধান শহরের সমস্ত দোকানপাট, কাঁচাবাজার এবং পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আন্দোলন রুখতে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবা অচল হয়ে পড়েছে। কারফিউ এবং কঠোর মিডিয়া সেন্সরশিপের ফলে উপত্যকাটি বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা এলাকায় বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি এক বিশাল সমাবেশে কাশ্মিরি নেতা সরদার আমান খান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, "পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির কখনোই পাকিস্তানের সাংবিধানিক অংশ ছিল না। আমাদের চেয়ে পাকিস্তানেরই এই অঞ্চলের বেশি প্রয়োজন।"

আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ কাড়তে বর্তমানে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসী কাশ্মিরিরা পাকিস্তান দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। সরকারের শীর্ষ নেতা গ্রেফতার এবং অনড় অবস্থানের বিপরীতে কাশ্মিরি জনগণের এই ঐতিহাসিক প্রতিরোধ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকে ক্রমশ আলগা করে দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%