০৫:২১ পি.এম
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো নিজের গৃহেই অন্তরীণ থাকতে পারবেন। গণ-অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
বলসোনারোর আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরাস বলসোনারোকে গৃহবন্দি রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। স্বাস্থ্যগত কারণে মানবিক বিবেচনায় সুপ্রিম কোর্ট তাকে সাধারণ কারাগারে না পাঠিয়ে নিজ গৃহে কারাবাসের অনুমতি দিয়েছেন।
২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে হেরে যান বলসোনারো। তবে ক্ষমতা ধরে রাখতে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার দাবানলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
পরবর্তী মাসে অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে তাকে ২৭ বছর ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের পর প্রথমে তিনি নিজ গৃহে বন্দি ছিলেন। সেই সময়ে তার পায়ে ইলেকট্রনিক বেড়ি পরানো হয়েছিল। কিন্তু সোল্ডারিং আয়রন দিয়ে ইলেকট্রনিক বেড়ি কাটার চেষ্টা এবং তার বাসার সামনে সমর্থকদের ভিড় জমে যাওয়ার কারণে গত নভেম্বরে তাকে প্রথমে ব্রাসিলিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সেলে অবরুদ্ধ থাকা হয়েছিল। পরে জানুয়ারিতে তাকে পাপুদা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
কারাগারে নিউমোনিয়া ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হলে ৭১ বছর বয়সী বলসোনারোকে হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২৪ মার্চ তাকে ৯০ দিনের জন্য গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দেন আদালত। ৯০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইনজীবীরা তার গৃহবন্দিত্ব বজায় রাখার আবেদন করেন। স্বাস্থ্যগত কারণে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
বলসোনারোকে গৃহবন্দি রাখার সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের রাজনীতিতে আপাতত স্বস্তি এনে দিয়েছে। অসুস্থ বলসোনারোকে সাধারণ কারাগারে পাঠানো হলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ২৭ বছরের সাজার কারণে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বলসোনারো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। সাধারণ কারাগারে থাকার অবস্থায় তাকে বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতে হতো, কিন্তু গৃহবন্দি থাকলে তিনি পরিবার এবং দলের নেতাদের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ রাখতে পারবেন। আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন না, তবে গৃহবন্দি থাকলে তিনি আড়াল থেকে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে সক্ষম হবেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোরাস তার রায়ে উল্লেখ করেছেন, ৯০ দিনের গৃহবন্দি থাকার সময় সাবেক প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। তাছাড়া গৃহবন্দি থাকার সময়ে তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর অসদাচরণের’ কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: সংবিধান অনুযায়ী সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে
রায়ে বলা হয়েছে, ‘এই মুহূর্তে, মানবিক কারণে গৃহবন্দিত্ব বজায় রাখা যুক্তিসংগত, উপযুক্ত মনে হচ্ছে।’ যদিও গত মাসে একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে তল্লাশির সময়ে বলসোনারোর নিরাপত্তা কর্মীদের কাছ থেকে তার মালিকানাধীন একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের রায়ে সে ঘটনার কোনো প্রভাব পড়েনি। আদালতে বলসোনারোর আইনজীবীরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য গৃহবন্দি রাখার আবেদন করেছেন। আদালতের অনুরোধে ব্রাজিলের অ্যাটর্নি জেনারেল পাওলো গোনেট আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সত্ত্বেও সাবেক প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দি রাখার সুপারিশ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন