ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী


ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন,দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে ফেলেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়েছে। এই প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী এর কাছে। প্রধানমন্ত্রীরা অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

আরও পড়ুন: কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার সাংবাদিক রুহেল, ঢামেক আইসিইউতে

উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড় এবং এটিতে টিকে থাকতে হলে, ভবিষ্যতে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে।

সুজন মাহমুদ জানালেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে অভিহিত করে বলেছেন, তিনি এবং তাঁর সরকার এমন এক দেশ গড়ার জন্য কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গঠনের জন্য তিনি সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কাউকে আলাদা মনে করছেন না।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অথবা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করাসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি তুলে ধরা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্র আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে বাধ্য করছে। সকল প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকারের দ্বারা ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। যদি অর্থ পাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) সব সমস্যা সমাধিত হয়ে যেতো।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

তিনি এ কথাও বলেন, আমাদের সরকার সেগুলো সমাধানযোগ্য যেগুলো সেগুলোকে আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।

দেশের বিদ্যমান সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এত সমস্যা এখনো আছে দেখে তিনি অবাক হচ্ছেন। কারণ ১৭ বছর তো এগুলো ঠিক হওয়ার কথা। যদি তখন সমাধান করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো।

তিনি আরো বলেন, আগে যেসব উন্নয়নের গল্প শুনেছি, সেগুলো কোথায়? সব চাপ এখন আমাদের সরকারের উপর। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে খারাপ হয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো তুলে ধরে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

আরও পড়ুন: নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তারা একটি জেনারেশনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। এরপর যখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর তা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল, কিন্তু সেগুলোর কার্যক্রম নেই।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপর কর হ্রাস করার প্রতিও প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন অধরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে চিরুনি অভিযান, ৮১ বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে চিরুনি অভিযান, ৮১ বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ার ক্যামেরন হাইল্যান্ডসের হাবু এলাকায় একটি যৌথ চিরুনি অভিযানে ১১৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা ২টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে মোট ১৪৫ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

পাহাং রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত একটি মিশ্র নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে চালানো এই অভিযানে সেখানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশই বাংলাদেশি নাগরিক। বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, আটককৃতদের মধ্যে ৮১ জন বাংলাদেশি, ২৯ জন ইন্দোনেশিয়ান, ২ জন নেপালি এবং ১ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৭ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী।

অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ, অতিরিক্ত সময় অবস্থান এবং নিয়মবহির্ভূত কাজের অভিযোগে তাদেরকে অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ (আইন ১৫৫) এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

পাহাং রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও জানিয়েছে, আটককৃত সমস্ত বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ ও অধিকতর তদন্তের জন্য ইমিগ্রেশন বিভাগের পাহাং রাজ্য কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বিশেষ অভিযানে পাহাং রাজ্য ইমিগ্রেশন বিভাগ, রাজ্য প্রয়োগকারী ইউনিট এবং রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের জেনারেল অ্যাকশন ফোর্সের মোট ৭০ জন কর্মকর্তা ও সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: কৃষিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর: কৃষিমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর বলেই জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি আরও জানান, সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমঅধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এমন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির দেশ। কুমিল্লার ইতিহাসও হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ইতিহাস।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, যুগে যুগে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করলেও সচেতন জনগণের কারণে তারা কখনো সফল হতে পারেনি।

মন্ত্রী যোগ করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় সফল হবে না। আমাদের পূর্বপুরুষরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে একসঙ্গে বসবাস করেছেন।’

এখন সেই ঐতিহ্যকে ধরে রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে বলেও জানান তিনি।

পৃথিবীর কোনো ধর্মই অন্যায়, হিংসা বা বিদ্বেষকে সমর্থন করে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সব ধর্মই মানুষকে ন্যায়, মানবকল্যাণ, সহনশীলতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। তাই ধর্মকে বিভেদ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।’

রথযাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করতেও তিনি বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট রেখে একটি অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক ভক্ত-অনুরাগী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিএইচডিধারীদের দুই মাসের কাজ এআই করছে মাত্র ২ ঘণ্টায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


পিএইচডিধারীদের দুই মাসের কাজ এআই করছে মাত্র ২ ঘণ্টায়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪১

আধুনিক বিনিয়োগ দুনিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘সিটাডেল’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিনকে। কিছুদিন আগে এআইয়ের ওপর তার ভরসা ছিল না।

ওয়ালস্ট্রিটে এআই নিয়ে মাতামাতিকে তিনি স্রেফ গার্বেজ মনে করতেন।

চলতি বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্যানেলে তিনি বলেছিলেন, ‘এআই-কে ওপর থেকে দেখতে হয়তো দারুণ লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যখনই এর গভীরে যাবেন, দেখবেন সবই আবর্জনা।’

তবে নিজের কম্পানিতে এআইয়ের অসাধারণ গতি এবং উৎপাদনশীলতার এক অভূতপূর্ব নজির দেখে তিনি তার সেই ধারণা বদলে ফেলেছেন।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে এক আলাপচারিতার সময় তিনি বলেন, ‘আপনি যখন নিজের চার দেয়ালের মধ্যে এটি ঘটে যেতে দেখবেন, যখন আপনি দেখবেন কাজগুলো করতে আগে বছরের পর বছর মানুষের শ্রম লাগত, সেগুলো এখন মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহে হয়ে যাচ্ছে, তখন মনে হবে—ওয়াও! এই প্রথম আমি আমাদের চার দেয়ালের ভেতরে বাস্তব এবং বড় কোনো প্রভাব দেখলাম।’

হেজ ফান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সিটাডেল’ এর প্রধান নির্বাহীর ধারণা বদলে দেওয়া এআই সিস্টেমটি তার অফিসের এক কর্মীর বানানো। এই এজেন্টিক এআই সিস্টেম দেখে মুগ্ধ কেন গ্রিফিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের দলের এক সদস্য ফাইন্যান্সের একাডেমিক পেপারগুলো নতুন করে তৈরি করার জন্য একটি এজেনটিক এআই সিস্টেম তৈরি করেছেন। এজেনটিক এআই সিস্টেম মানুষের খুব সামান্য হস্তক্ষেপ বা কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, তরুণ মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের এই একাডেমিক পেপারগুলো নতুন করে তৈরি করতে ছয় থেকে ৮ সপ্তাহ লাগে। আমাদের সহকর্মীর বানানো এআই সিস্টেমের সেই কাজগুলো করতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার সময় লাগে।’

এই তুমুল গতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে গ্রিফিন বলেন, ‘এটি কেবল সাধারণ কোনো হোয়াইট কলার চাকরি নয়। এটি মাস্টার্স বা পিএইচডি-পর্যায়ের একটি কাজ।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই বা তিন বছর আগেও আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই মনে করতেন যে এই ধরনের কাজ এআই-এর ক্ষমতার বাইরে।’

গ্রিফিন স্বীকার করেছেন যে, এআই-এর এই ধরনের অগ্রগতি ব্যবসা এবং সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে বাধ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই যুগান্তকারী সাফল্যের কারণে সিটাডেল-এ কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সফলতা কম্পানিকে আরো বড় হতে এবং আরো বেশি সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করবে।

গ্রিফিন বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত মেধাবী কর্মীরা রয়েছেন। আমাদের সামনে এক বিশাল কর্মক্ষেত্র ও সমস্যা রয়েছে, যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি। আমি কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতার এই অভাবনীয় সুযোগটিকে শতভাগ কাজে লাগাবো। কারণ আমাদের যে মেধাবী কর্মীরা রয়েছেন, তাদের নিয়ে আমরা এখন আরো বড় ও নতুন সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।’

কেন গ্রিফিন হয়তো আপাতত তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছাটাই করবেন না। তবে খুব শিগগিরই এআই আমাদের অনেক মানুষের চাকরির বাজার ছোট করে ফেলবে, সে আশঙ্কা মিথ্যা নয়।

অ্যামাজনের মেশিন লার্নিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব রাস্তোগি এ বছরের শুরুতে বিভিন্ন কম্পানির অনেক কাজই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন, ‘আজ আমরা প্রতিটি কম্পানিতে ম্যানুয়ালি বা হাতে-কলমে অনেক কিছু করি। এর সবই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। ফলে একই কাজ অনেক কম খরচে এবং অনেক কম পরিশ্রমে করা সম্ভব হবে।’

কম খরচে, কম পরিশ্রমে হয়তো কাজ হবে। কিন্তু তাতে মানুষ কাজ হারাবে অনেক বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাওয়ার প্ল্যান্ট বা সেতুতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


পাওয়ার প্ল্যান্ট বা সেতুতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইরানের

যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে পুরো অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কারণ, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাকারি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "যদি ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরানের একটি বড় রেড লাইন এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। আরো তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবারে আগের চেয়ে আরও তীব্র, ব্যাপক এবং বিধ্বংসী আঘাত হানবে।

অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বিরোধ মেটাতে পাকিস্তান তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, এমন তথ্যও এসেছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, তারা নানা বাধা সত্ত্বেও প্রতিটি পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করা এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য উৎসাহিত করে যাবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%