ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে তাজিয়া শোভাযাত্রাকে ঘিরে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ


ভারতে তাজিয়া শোভাযাত্রাকে ঘিরে ১৫ হাজার মানুষকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ভারতের বাণিজ্যিক নগরী মুম্বাইয়ে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে বিষাক্ত ক্যাপসুল খাইয়ে একযোগে হত্যার ভয়াবহ পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে দেশটির পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ জুন) তাজিয়া মিছিলের অন্তর্ভুক্ত সাধারণ মানুষের মাঝে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলি করার সময় ফাইয়াজ প্রেমজি নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করে যে, মিছিলে উপস্থিত অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষপ্রয়োগ করে মেরে ফেলার জন্য তার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।

মুম্বাই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার তাজিয়া মিছিল চলাকালীন ফাইয়াজের দেওয়া ওই ক্যাপসুল সেবন করে মুহূর্তের মধ্যেই অন্তত ডজনখানেক মানুষ মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই ক্যাপসুলগুলোর ভেতরে জিঙ্ক ফসফাইড নামক অত্যন্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল। সাধারণত, এই রাসায়নিকটি ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আটক ফাইয়াজকে শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: সুবিধাবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক স্বার্থে বিভক্তির চেষ্টা করছে

তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রয়ে রোডের রেহমতাবাদ কবরস্থানের নিকটবর্তী আশুরার মূল শোভাযাত্রায় ফাইয়াজ ওই বিষাক্ত ক্যাপসুলগুলো বিলি করছিল। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য সে ওই মরণঘাতী ক্যাপসুলগুলোকে বিভিন্ন ধরনের ব্যথানাশক এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিকারী ওষুধ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। ফাইয়াজের এই ধোঁকাবাজিতে পড়ে অন্তত ১১ জন মানুষ সেই ক্যাপসুল সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে মারাত্মক পেটের ব্যথা ও বমির সমস্যায় আক্রান্ত হন। তাদের সবাইকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তারা সবাই আশঙ্কামুক্ত বলেই চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার জয়ন্ত মীনা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ফাইয়াজের কাছ থেকে অন্তত ১৪ হাজার ৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল জব্দ করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করার পূর্বেই সে মিছিলে বেশ কিছু ক্যাপসুল বিলি করতে সক্ষম হয়েছিল। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, এই চক্রান্তকে আরও বড় আকার দিতে ফাইয়াজ ইতিমধ্যে বাজার থেকে আরও ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং ৫০ কেজি ফসফরাস কেনার জন্য অগ্রিম অর্ডার দিয়ে রেখেছিল।

মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই দিন তাজিয়া মিছিলে অংশ নেওয়া তিন নারী স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতার কারণেই মূলত এই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ওই তিন নারীর একজন প্রথমে ফাইয়াজকে সন্দেহজনকভাবে ওষুধ বিতরণ করতে দেখেন এবং দ্রুত তাকে বাধা দিয়ে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। একই সঙ্গে তারা মুহূর্তের মধ্যে লাউডস্পিকারে মাইকিং করে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার মানুষকে ওই বিতরণ করা ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধী ফাইয়াজ প্রেমজি স্বীকার করে বলেন, ‘আমি অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম।’ এই চক্রান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে বাইকুল্লা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে, যা বিষ বা অনুরূপ উপায়ে মানুষের ক্ষতি করার অপরাধে শাস্তিযোগ্য। আটক এই মূল পরিকল্পনাকারীর পেছনে কোনো নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে সহিংসতা ঠেকাতে কারফিউ জারি

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, জিঙ্ক ফসফাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক ও মারাত্মক একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। এটি কোনোভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে তা পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে তীব্র বিক্রিয়া ঘটিয়ে ফসফিন নামক এক ধরনের অত্যন্ত প্রাণঘাতী বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে। এই ক্ষতিকর গ্যাসটি সরাসরি মানুষের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্ককে চিরতরে বিকল বা ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে। এই বিষের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেবল লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ু স্থিতিস্থাপক সমাজ গড়তে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


জলবায়ু স্থিতিস্থাপক সমাজ গড়তে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নারীর ক্ষমতায়ন শুধু একটি উন্নয়নমূলক এজেন্ডা নয়, বরং এটি এখন জাতীয় অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই, নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই অভিযোজন সম্ভব নয়। আজ রবিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আলোকি মিলনায়তনে ইমপাওয়ার উইমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলেন্ট সোসাইটিস (ফেজ টু) প্রকল্পের আয়োজনে অনুষ্ঠিত 'জাতীয় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সম্প্রসারণ কর্মশালা' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইমপাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে যে সফল অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার এখনই সময়। মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা বাড়ানো এবং খরার মতো দুর্যোগে গ্রামীণ নারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। তাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ইমপাওয়ার প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষিত নারীরা ইতোমধ্যে নিজেদের জীবনমানের পরিবর্তন এনেছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক কৃষি ও জীবিকা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মন্ত্রী বলেন, এই সাফল্যকে আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। জাহিদ হোসেন জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে তৃণমূল বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নারীর কণ্ঠস্বর নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিকল্পনায় জেন্ডার-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, এটি বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পগুলোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। সরকার চায় দেশের প্রতিটি নারী জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হোক এবং পরিবার ও সমাজকে রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখুক। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন জেলায় বাস্তবায়িত কার্যক্রমের সাফল্য এবং শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় উঠে আসা সফল মডেলগুলো দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের সুপারিশ করেন। কর্মশালায় ইউ এন ওমেন বাংলাদেশের রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি শিং, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন অংশীদার, জাতিসংঘ সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, গবেষক এবং কুড়িগ্রাম, জামালপুর, খুলনা, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার জেলার প্রায় শতাধিক তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্কালোনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৩ পি.এম


কেপ ভার্দেকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না স্কালোনি

চলতি বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে কেপ ভার্ডে এসেছে। গ্রুপ পর্বে আফ্রিকার দেশটি কোনো ম্যাচ না জিতলেও তারা অপরাজিত ছিল। এই কারণে, আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি কেপ ভার্ডেকে একটি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন।

এই সম্পর্কে তিনি রবিবার (২৮ জুন) জর্ডানকে পরাজিত করার পর মন্তব্য করেন।

স্কালোনি জানিয়েছেন, "ওরা ভালো দল। তিনটি প্রতিপক্ষের জন্যই ওরা কঠিন হয়েছিল। ওরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। আমাদের জন্যও ওরা কঠিন হবে। কারণ, ওরা স্পেনের জন্যও কঠিন ছিল, যারা অন্যতম ফেভারিট। উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের জন্যও এটি সত্য। এই বিশ্বকাপে যা দেখতে পাচ্ছি, তাতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ওরা গতিসম্পন্ন, মানসম্পন্ন এবং ভালো দল।"

ম্যাচের সময় নিয়েও স্কালোনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। আর্জেন্টিনার সময়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় খেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেছেন, "আমরা খুব গরমের মধ্যে খেলব। এই সময়টা বোঝা কঠিন। তবে সবাই এভাবে খেলেছে, তাই অভিযোগ করা যায় না।"

জর্ডানের বিরুদ্ধে ম্যাচে স্কালোনি কিছু পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাঝমাঠের খেলোয়াড় এক্সেকিয়েল পালাসিওসকে রাইট ব্যাক হিসেবে মাঠে নামানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই পজিশনে আমাদের বিকল্প দরকার। নাহুয়েল মলিনা দীর্ঘ বিশ্রামের পর ফিরেছেন, তাই তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে চাইনি। গঞ্জালো মন্তিয়েলকেও ঝুঁকিতে রাখতে চাই না। কারণ সে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কাজে লাগতে পারে। আজকের ম্যাচে কাউকে ঝুঁকিতে না ফেলে এই পজিশনে কে খেলতে পারে সেটার সুযোগ ছিল।"

সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, যিনি বিশ্রামে ছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ফ্রি-কিকে গোল করেছেন। স্কালোনি জানিয়েছেন, "মেসি নিজেই বেঞ্চে থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন দলের বাকিরা খেলার সুযোগ পাক।"

কোচ আরও বলেছেন, "আজ সে ৯০ মিনিট খেলতে পারত। প্রতিপক্ষকে ছোট না করে বলছি, সে আরও রেকর্ড গড়তে পারত। কিন্তু সে চেয়েছে সতীর্থরা খেলুক এবং সামনের ম্যাচের জন্য নিজে প্রস্তুত থাকুক।"

তিনি উপসংহার টেনে বলেছেন, "এটা তার সম্পর্কে অনেক কিছু বলছে। কারণ যেগুলো নিয়ে সবাই কথা বলে, সে সেই সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামায় না। এটা বলে দেয় জাতীয় দল, দল এবং সতীর্থরা তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আমিও আপনাদের মতো: আর কোনো কথা নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

কারিগরিতে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে নতুন বই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ পি.এম


কারিগরিতে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য, ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে নতুন বই

দেশের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে আট হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক তুলে ধরেন। ইতিমধ্যে, দুই হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আজ রবিবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম এবং কুমিল্লা–৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য মো. আবদুল হাসনাতের পৃথক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।

স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বে সদস্যদের লিখিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাধারণ ধারা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি নতুন পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ৮৪৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে সাত হাজার ৭৪ জন কর্মরত আছেন। এ সময় আরো বলা হয়, আট হাজার ৪৮৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, নানা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইনস্ট্রাক্টর (৯ম গ্রেড) ও জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (১০ম গ্রেড) পদে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান। ইতিমধ্যে, দুই হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ৪৫তম বিসিএসে পিএসসি ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে তাঁদের নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

শিক্ষামন্ত্রী এও জানান, পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ করা হয়ে থাকে, তবে পদোন্নতিযোগ্য চার হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে কর্মরত জনবল না থাকায় সেসব পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনের প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে সাধারণ ধারা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ বিষয়ে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক চালু হবে। নতুন পাঠ্যপুস্তকটি শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করবে।

আবদুল্লাহ আল আমিনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে যেসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে তাদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা নিরসনের লক্ষ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাদরি ও গারো মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা (এমএলই) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫টি ভাষার (চাকমা, গারো, মারমা, ত্রিপুরা ও সাদারি) শিক্ষকদের মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হবে।

যশোর–৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভার স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ নিশ্চিত করতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করা হবে। এই বই শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে। এভাবে শিখন কার্যক্রম আরও অংশগ্রহণমূলক ও আনন্দময় হয়ে উঠবে।

বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হকের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে বিধি-বিধান অনুসরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নিয়েছে।

এ সময় মন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে বিধি অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কক্সবাজার–৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান এবং ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৭৪টি। এর মধ্যে ৫৬টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ৩০টি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮টি এবং প্রকৌশল, কৃষি, মেডিকেল ও অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ৮টি রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলিদের চোখে যুদ্ধে ‘জয়ী’ ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


ইসরায়েলিদের চোখে যুদ্ধে ‘জয়ী’ ইরান

যে যুদ্ধকে ইসরায়েলের জন্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সেই যুদ্ধ নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন ইসরায়েলের নিজ দেশের মানুষ। বিস্ফোরণের শব্দ থেমে গেছে, কিন্তু পরাজয়ের অনুভূতি যেন এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে ইসরায়েলরাজনীতিতে। নতুন একটি জরিপ বলছে, অধিকাংশ ইসরায়েলির বিশ্বাস এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত জিতেছে ইরান।

হিব্রু ইউনিভার্সিটি ও আগাম ইনস্টিটিউটের যৌথ জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ দশমিক ১ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে তেহরান। শুধুমাত্র তাই নয়, ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও দুর্বল করে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

জরিপে আরও দেখা যায়, ৮৬ শতাংশ মানুষ সম্পূর্ণ যুদ্ধের ফলাফলকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ, সামরিক অভিযান শেষ হলেও সাধারণ মানুষের মনে বিজয়ের অনুভূতি তৈরি হয়নি।

আর এই অসন্তোষের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর। অংশগ্রহণকারীদের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মনে করেন, পুরো যুদ্ধ পরিচালনায় তিনি দুর্বল ছিলেন কিংবা ব্যর্থ হয়েছেন। আর ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন না যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সাফল্যের যে দাবি নেতানিয়াহু করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে। রাজনৈতিক সমর্থনেও তার স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশের বেশি। জুনে সেটি নেমে এসেছে ৩০ শতাংশেরও নিচে। একই সময়ে তাঁর লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তাও কমছে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে ইসরায়েলের ভেতরে যুদ্ধ নিয়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক মনোভাবও। প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পক্ষে। এমনকি এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি নন।

এদিকে সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই অগ্রগতির কথা জানিয়েছে। কিন্তু লেবাননে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় আবারও শান্তি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী চুক্তির ভিত্তি তৈরি করতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও লেবাননের সংকটকে আলাদা করে দেখার আর সুযোগ নেই। কারণ যুদ্ধের প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন কূটনৈতিক আলোচনার ওপরেও প্রভাব ফেলছে সরাসরি। একদিকে জনসমর্থন কমছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ফল নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন হয়তো পার করছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%