মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৫ এম
নেত্রকোনার পূর্বধলায় চায়ের দোকানে কর্মচারী ছাড়াই ক্রেতার কাছে চা পৌঁছে দিচ্ছে কাঠের তৈরি বিশেষ ক্রেন। কোনো মানুষের হাতের স্পর্শ ছাড়াই তারের টানে এক বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে পৌঁছে যাচ্ছে চায়ের কাপ। ব্যতিক্রমী এই যান্ত্রিক কৌশল তৈরি করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন ৫২ বছর বয়সী কাঠমিস্ত্রি ও চা-বিক্রেতা মো. হাতেম আলী।
উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের বারহা বোর্ডবাজারে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পাশে তার চায়ের দোকান। প্রতিদিনই তার তৈরি এই কাঠের ক্রেন দেখতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
অভাব থেকেই উদ্ভাবন
হাতেম আলী জানান, চায়ের দোকানে একজন কর্মচারী রাখলে বেতন ও খাওয়াসহ মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হতো। আর্থিক সংকটের কারণে কর্মচারী ছাড়াই দোকান পরিচালনার বিকল্প ভাবতে শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে কাঠ, তার ও কয়েকটি বিয়ারিং দিয়ে নিজ হাতে তৈরি করেন বিশেষ এই ক্রেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।
বর্তমানে দোকানে বসেই কাঠের হাতল ঘুরিয়ে ক্রেনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে চা, বিস্কুট ও অন্যান্য পণ্য পৌঁছে দেন তিনি। একই ব্যবস্থায় ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকাও সংগ্রহ করেন।
আগেও দেখিয়েছেন কারিগরি দক্ষতা
হাতেম আলীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তবে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তৈরি করেছেন নানা ব্যতিক্রমী জিনিস। প্রায় ৩০ বছর আগে রেললাইনে মালামাল পরিবহনের জন্য বিয়ারিং ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের একটি যান তৈরি করেছিলেন তিনি। কাঠ দিয়ে মানবমূর্তি তৈরিতেও রয়েছে তার দক্ষতা।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, ব্যতিক্রমী কিছু করার আগ্রহ হাতেম আলীর দীর্ঘদিনের। তার এই উদ্ভাবন সেই সৃষ্টিশীলতারই আরেকটি উদাহরণ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমান জানান, অনেকে শুধু চা পান করতে নয়, তার তৈরি যন্ত্রটি দেখতেও দোকানে আসেন।
জারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও হাতেম আলী অত্যন্ত সৃষ্টিশীল একজন মানুষ। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার মতো মানুষের মেধা আরও বড় পরিসরে কাজে লাগানো সম্ভব।
সামান্য অর্থ ব্যয়ে তৈরি কাঠের ক্রেন দিয়ে কর্মচারী ছাড়াই চায়ের দোকান পরিচালনা করছেন হাতেম আলী। তার এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি গ্রামীণ পর্যায়ে উদ্ভাবনী চিন্তা ও কারিগরি দক্ষতার সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ।
এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি নারীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণ করেন এবং উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নগদ অর্থসহায়তা প্রদান করেন। এ ছাড়া পূজামণ্ডপের উন্নয়নে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইস্রাফিল মোল্যা, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নেয়ামত হোসেন পারভেজসহ স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মন্তব্য করেছেন যে, সুবিধাবাদী একটি গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভক্তির রেখা টানতে চায়।
তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম মিশনের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আবহমান কাল থেকেই বাংলাদেশের মূল শক্তির জায়গা হচ্ছে মানুষের মেলবন্ধন। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- এই ধরনের ভেদাভেদ বাংলাদেশের মানুষ হৃদয়ে ধারণ করে না। কিন্তু একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলে আমাদের মধ্যে বিভক্তির রেখা টানতে চায়। দিনশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা বারবার উঠে দাঁড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ অস্থিরতা তৈরি করতে চাইতেই পারে, কিন্তু সেটাকে সরকার আমলে না নিয়ে বরং গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংবেদনশীল আচরণ করছে। ঘটনার পরও আজ নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী কুষ্টিয়ায় লালন উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে আমি অংশ নিয়েছি। অর্থাৎ এসব ঘটনার পরও বাংলাদেশের মানুষ বা সরকার বিচলিত নয়। আরও পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এ ধরনের বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।’
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সকল ধর্মের মানুষকে এক হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা, রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ জ্ঞান প্রকাশনন্দ মহারাজসহ জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কওমিপন্থি সাতটি দল জোটবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এনসিপি এবং এবি পার্টিসহ আরও কিছু ছোট ও বড় দল এই জোটে যুক্ত হতে পারে। নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়া হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে চলছে।
গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে বেশিরভাগ কওমি ধারার রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধ হয়েছিল। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এতে সন্তুষ্ট ছিল না। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত দলীয় প্রতীক ছাড়া একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কিন্তু কওমিপন্থি দলগুলোর পরিকল্পনা ভিন্ন। নেতারা কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় স্থানীয় নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াইয়ের জন্য নতুন জোট গঠনের দারপ্রান্তে রয়েছেন।
এই জোটের নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম থাকতে পারে। সাতটি দল হল: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
গাজী আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব, মনে করেন যে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সাতটি দল একসঙ্গে অংশ নিতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, "বিএনপি ও জামায়াত ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৭টি দল একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারে। এখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করবে। এজন্য বিষয়টা সহজ হবে বলে মনে হচ্ছে।"
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন জানান, এনসিপি, এবি পার্টিসহ আরও কয়েকটি ছোটবড় দল জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, "সাত দলের বাইরেও এনসিপি ও এবি পার্টি আছে। এছাড়াও আরও কিছু দল আছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয় নির্বাচন করতে পারে। আমরা কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে আলোচনা করছি। অনেক দলের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। জামায়াত-বিএনপির বাইরে বড় ধরনের একটা জোট হয়ে যেতে পারে।"
হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহিবুল্লাহ রব্বানী বলেন, কওমি ধারার দলগুলোর একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তারা উৎসাহ দিচ্ছেন। তিনি যোগ করেন, "স্থানীয় নির্বাচনে এই ৭টি দল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী দিয়ে যদি ভোট করে কওমি অঙ্গনের জন্য ভালো অবস্থান দেশে তৈরি করতে পারে, তাহলে সেটা আমাদের জন্য বড় অগ্রসর হওয়ার পথ তৈরি হবে। এটা আমারা আশাও করি যে, তারা ভালো কিছু করবে।"
সূত্র জানায়, নতুন জোটের আবির্ভাবের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ৭ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে তিনি তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে রংপুরের দিকে যাত্রা শুরু করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তিনি রংপুরের ধর্মসভা বা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে যাবেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তিন বিভাগের তিন জেলা সফর করবেন। প্রথমে রংপুর, এরপর রাজশাহী এবং সবশেষে চট্টগ্রাম সফর করবেন তিনি।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন।’
সফরসূচি অনুযায়ী, রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। দুপুর দেড়টায় তিনি সেখানকার ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন। পরে রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষ করে বিমানে চট্টগ্রাম পৌঁছাবেন তারেক রহমান। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ক্ষণিকের বিশ্রাম শেষে রাতেই বিমানযোগে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ