ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এআই ভিডিও দিয়ে খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, যা বলল ইরান


এআই ভিডিও দিয়ে খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের, যা বলল ইরান

রবিবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ট্রাম্পের পোস্ট করা ভিডিওটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টা পরেও খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের সরকারি ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্দ ট্রাম্পের পোস্টকে হাস্যকর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, খার্গ দ্বীপের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত এবং স্বাভাবিক রয়েছে। তেল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং পূর্বের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত ও স্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

যুদ্ধের পূর্বে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি খার্গ দ্বীপের মাধ্যমে পরিচালিত হত। তাই যদি দ্বীপটিতে হামলা হয়, তাহলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যে তা বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, সবাই নাগরিক’ : আহমেদ সোহেল

ট্রাম্পের খার্গ দ্বীপ সংক্রান্ত পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালীতে সমুদ্র মাইন স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের বাহিনীর বিরুদ্ধে এই হামলা পরিচালিত হয়। জুলাইয়ের পর এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত সামরিক হামলা।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানে দুটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি করা হয়েছে, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে দুটি নৌমাইনের আঘাতে একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে সেটি অচল হয়ে পড়েছে বলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে।

সূত্র:

আরও পড়ুন: গ্রিসে বাড়ি কিনছেন ইসরায়েলিরা, ফিলিস্তিনপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভ

রয়টার্স

এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিগত নির্বাচনে ডিসি ইউএনও-ওসিকে ঘুষ দেওয়া হতো, এবার দেওয়া হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৫৯ পি.এম


বিগত নির্বাচনে ডিসি ইউএনও-ওসিকে ঘুষ দেওয়া হতো, এবার দেওয়া হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, বিগত নির্বাচনের সময় ইউএনও, ওসি এবং ডিসিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হতো, কিন্তু এবারের নির্বাচনে কাউকেই ১০ টাকাও দেওয়া হয়নি।

মন্ত্রী সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১২টায় মানিকগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, "বিগত আমলে নির্বাচন হয়েছে, আমি ফ্র্যাংকলি একটা বলি, নির্বাচন আসলে ইউএনও সাহেব পেতেন ১ কোটি মিনিমাম ৫০ লাখ টাকা থানার পরিধি বেধে। ওসি সাহেব পেতেন ১ কোটি, ডিসি সাহেব পাইতেন। সব ছিল ঘুষের দুর্নীতির মহাঅরণ্য। এবারে একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছে? আমি দেই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।"

তিনি আরও বলেন, "কাজ করেছে আগের চেয়ে বেশি, কি কাজ নেই কাজ! জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে কোন ফিনান্সিয়াল বেনিফিট ছাড়া। অনৈতিক সুবিধা তাদেরকে জোর করে দেওয়া হয়েছে একদিকে চাকরি হারানোর ভয় আরেকদিকে খুশি রাখতে হবে, নিতে হবে নেন, চুরি করতে হবে নেন। সেই দিনগুলো চলে গিয়েছে, এখন আমরা সবাই বুঝেছি আমাদের কিছু করতে হবে ঈমানের সঙ্গে পবিত্রতার সঙ্গে।"

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, "আগে কন্ট্রাকটারা টুটু করে ঘুরতে মন্ত্রীর রুমে পিওনদেরকে টাকা দিয়ে রুমে যেতো, একটা সাইন করেন তো নার্সের ট্রান্সফার ও ডাক্তারের ট্রান্সফার ৩ লাখ, ৫ লাখ ডাইরেক্টর হলে, দুই কোটি এরকম ঘুষ খেয়েছে। টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অফ করাপশন, এগুলো থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে, আমরা বেরিয়ে আসছি ইনশাআল্লাহ। কাজেই এই কাজটা কিন্তু একার না, সমন্বিত।"

এছাড়াও, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক, জুয়া, স্বাস্থ্য খাত ও অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কর্মকর্তাদের বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খান রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, সহ জেলায় কর্মরত সকল দপ্তরের কর্মকর্তা বৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


বর্ণাঢ্য আয়োজনে মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আধুনিক মালয়েশিয়ার ৬৯তম ‘হারি মেরদেকা’ বা স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসটি বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে।

সোমবার সকাল থেকে প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার ‘দাতারান পুত্রজায়া’ প্রাঙ্গণে মানুষের বিশাল সমাগম ঘটে। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বিদেশি নাগরিকও এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং রানি রাজা জারিথ সোফিয়া। রাজপরিবার দাতারান পুত্রজায়ায় পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। এ সময় যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিলও উপস্থিত ছিলেন।

রাজা ও রানির উপস্থিতিতে জাতীয় দিবসের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দাতারান পুত্রজায়াজুড়ে তূর্যের গম্ভীর ধ্বনি ভেসে ওঠে। এরপর মূল সম্মান রক্ষী বাহিনীর ব্যান্ডদল জাতীয় সংগীত ‘নেগারাকু’ পরিবেশন করে।

রাজা ও রানি রাজকীয় মঞ্চে আসন গ্রহণ করার পর আকাশে পতাকা প্রদর্শনী শুরু হয়। এ সময় মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখা— সেনা, রাজকীয় নৌ ও রাজকীয় বিমানবাহিনীর পতাকা বহন করে পাঁচটি হেলিকপ্টার।

পরে রাজা সুলতান ইব্রাহিম কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং মূল সম্মান রক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে রাজকীয় অভিবাদন গ্রহণ করেন। সুঙ্গাই বুলোহ ক্যাম্প থেকে আসা রাজকীয় গোলন্দাজ রেজিমেন্টের ৪১তম ব্যাটারি এই অভিবাদন জানায়।

এই বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে ৭৬টি দলের হয়ে মোট ১০ হাজার ৮১৯ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সঙ্গে ছিল ২২টি ব্রাস ব্যান্ড। আয়োজক কমিটির তথ্যমতে, জাতীয় দিবসের এই আয়োজনে ৮০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মালয়েশিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে। সেই সময় থেকে প্রতিবছর ৩১ আগস্ট দিনটি ‘হারি মেরদেকা’ বা স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। জাতীয় ইতিহাসে দিনটি দেশের গৌরব, আত্মপরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রতীক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীর আলোচিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


রাজবাড়ীর আলোচিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার
 
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাট থানার আলোচিত শিক্ষার্থী রিপন মন্ডল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ঘাতক জামাল পত্তনদার (৪৫) কে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের চৌকস আভিযানিক দল গত রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার সময় গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং র‌্যাব-৬ এর সহযোগিতায় নড়াইল জেলার সদর থানার কালিয়া রোড ভবানীপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
সোমবার দুপুরে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ অধিনায়কের পক্ষে সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা, এডি বলেন, অভিযানে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দঘাটে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন মন্ডল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গোয়ালন্দঘাট থানার উত্তর দৌলতদিয়া গ্রামের হোসেন পত্তনদারের ছেলে ঘাতক জামাল পত্তনদারকে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ২০১৪ সালের ০৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকায় আসামি জামাল পত্তনদার গুলি করে শিক্ষার্থী রিপন মন্ডলকে হত্যা করে। এ হত্যার ঘটনায় রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিচারকার্য পরিচালনা শেষে গত ২০২৩ সালের ০৬ আগস্ট রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলায় ঘাতক জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায় প্রদানের সময় থেকেই মৃত্যুদণ্ড এড়াতে ঘাতক জামাল পত্তনদার দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক ছিল। 
তিনি আরও বলেন, সাজা এড়াতে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আসামি জামাল পত্তনদারকে গত ২০২৫ সালের ১০ আগস্ট ভারতের মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিআইইউ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের কামাঠিপুরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক মাস ভারতের কারাগারে থাকার পর সে জামিনে মুক্তি পেয়ে দুই মাস পূর্বে কৌশলে পুশব্যাকের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর র‌্যাব ঘাতক জামাল পত্তনদার-এর ওপর বিশেষ নজরদারি শুরু করে। পরে স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সে পুনরায় কন্ট্রাক্ট কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে হত্যাকাণ্ড শেষে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গোপন নজরদারি জোরদার করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং তাকে নড়াইল জেলার সদর থানার কালিয়া রোড ভবানীপুর এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার নিকট হতে নগদ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক জামাল পত্তনদার এ হত্যা মামলা ছাড়াও ২টি অস্ত্র, ২টি মাদক, ১টি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ১টি চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় আসামি।   
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রিপনকে মাথায় ও বুকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ফরিদ শেখও গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় রিপনের মামা খলিল মণ্ডল বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোছা. জাকিয়া পারভীন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সাইফুল ইসলাম রিপন হত্যা মামলায় জামাল পত্তনদারকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছিলেন। এছাড়া এ মামলায় ১২ আসামিকে খালাস দিয়েছিল আদালত। রায়ের ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামাল পত্তনদার অনুপস্থিত ছিল। 
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


চীনের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিল্পে নতুন সম্ভাবনা

একবিংশ শতাব্দীর ভূ-অর্থনৈতিক মেরূকরণ আর আটলান্টিকের তীরে সীমাবদ্ধ নেই; বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির মূল কেন্দ্র শক্তভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের জলরাশিতে আবর্তিত হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক আধিপত্যের যে মিথ কয়েক শতাব্দী ধরে বিশ্বকে শাসন করে এসেছে, তা আজ অনেকটাই অস্তমিত। একটি জাতির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড় করানোর জন্য ইউরোপ বা আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। বাংলাদেশের মতো একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য ভ্রান্ত আভিজাত্যের খোলস ছেড়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। আমাদের সামনে এখন একটি সুস্পষ্ট পথ খোলা— আর তা হলো 'Look East Policy' বা পূর্বমুখী নীতি। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই বাস্তবতায় চীন আমাদের বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র; আগামী দিনের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অংশীদার এবং সার্বিক উন্নয়নের চূড়ান্ত 'রোল মডেল' হওয়ার যোগ্যতা রাখে একমাত্র চীন।

পশ্চিমা বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার প্রতি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি মোহ, সামষ্টিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে চরম অলাভজনক। পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপীয় অর্থনীতি বর্তমানে একটি দীর্ঘস্থায়ী মন্থরতা ও স্থবিরতার (Stagnation) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নরওয়ে, সুইডেন বা সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের কার্যত কোনো কৌশলগত বা গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। আমাদের দেশের সবচেয়ে মেধাবী অংশটি পশ্চিমা দেশগুলোতে পড়তে যায় এবং সেখানকার স্থায়ী নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। এই মেধাপাচার (Brain Drain) যার রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য শূন্য। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য আমাদের রেমিট্যান্সের বড় উৎস হলেও সেখানে জ্ঞানভিত্তিক বা প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতির কোনো ভিত্তি তৈরি হচ্ছে না।

ঠিক এই শূন্যস্থানে চীন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। গত এক দশকে চীনের শিক্ষাব্যবস্থায় যে অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটেছে, তা পশ্চিমাদের আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। 'টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং ২০২৪'-এর শীর্ষ ৫০-এ চীনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান প্রমাণ করে যে তাদের শিক্ষা এখন কতটা বিশ্বমানের। চীনের শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত বাস্তবমুখী, প্রযুক্তি-নির্ভর এবং ফলিত বিজ্ঞানভিত্তিক। চীন প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি স্টেম (STEM- বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। আমাদের যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এখন চীনে যাচ্ছে, তারা শুধু ডিগ্রি নিয়েই ফিরছে না; তারা চীনের আধুনিক প্রযুক্তি, Supply Chain Management এবং শৃঙ্খলিত কর্মবোধ আয়ত্ত করছে। পশ্চিমা বিশ্বে পড়াশোনা করতে যাওয়া তরুণদের মত চিরতরে চলে যাচ্ছে না; বরং তারা দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিটুবি (B2B) নেটওয়ার্ক এবং চীনা মেগাপ্রকল্পগুলোতে যুক্ত হয়ে 'Brain Circulation'-এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সহজ ও সাবলীল ভিসা নীতি এবং বাংলাদেশের প্রতি চীনের ইতিবাচক মনোভাব আজ চীনকে আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ গন্তব্যে পরিণত করেছে।

ইতোমধ্যে মেগা প্রজেক্ট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃষি প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতে চীনের সাথে বাংলাদেশের গভীর কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের পরীক্ষিত সহায়তার পাশাপাশি তাদের বিপুল বিনিয়োগ সক্ষমতা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক 'সুযোগের জানালা' (Window of Opportunity) খুলে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ কানামে আকামাতসুর 'ফ্লাইং গিজ' (Flying Geese) তত্ত্ব অনুযায়ী, একটি দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়, তখন তারা শ্রমঘন শিল্প ছেড়ে উচ্চ প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হয়। চীন ঠিক এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বেসিক ম্যানুফ্যাকচারিং ছেড়ে ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল ও উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। চীনের ছেড়ে দেওয়া এই বিশাল বেসিক ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সাপ্লাই চেইনের শূন্যস্থানে বাংলাদেশ অনায়াসেই জায়গা করে নিতে পারে। সার্বিক এই পার্টনারশিপ ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের সমীকরণই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ নিশ্চিন্তে চীনকে তার উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে নিতে পারে। আমরা যদি চীনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে আন্তঃদেশীয় পাইকারি বাণিজ্যের (Wholesale agency) শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং আধুনিক লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারি, তবে এটি আমাদের নতুন উদ্যোক্তা তৈরির এক বিশাল হাব হিসেবে কাজ করবে। আমাদের ২ থেকে ৫ কোটি শিক্ষিত তরুণ শ্রমশক্তি সরাসরি এই বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হয়ে দেশের কর্মসংস্থানের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে সক্ষম।

চীনের ঠিক পাশেই থাকা ভিয়েতনামের দিকে তাকালে আমরা এর প্রমাণ দেখতে পাই। মাত্র এক দশকের ব্যবধানে ভিয়েতনাম আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, যা আমাদের ৪৫ বছরের দীর্ঘ যাত্রাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এর মূল কারণ হলো ভিয়েতনামের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তাদের নাগরিকদের কঠোর শৃঙ্খলাবোধ। ভিয়েতনামিরা অত্যন্ত কর্মঠ এবং তারা খুব দ্রুত পশ্চিমা ও চীনা বিনিয়োগ নিজেদের দেশে টেনে নিতে সক্ষম হয়েছে।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিজ বলেছেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং সফল রূপান্তরের একটি পরীক্ষিত মডেল প্রয়োজন।” আর ঠিক এই বাস্তবতায় ব্যবসা-বাণিজ্য, জয়েন্ট ভেঞ্চার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন—সব ক্ষেত্রেই আমাদের চীনের সাথে যৌথ বিনিয়োগ ও সমন্বয়ের দিকে যেতে হবে। হাজারো চীনা উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। তাদের আকৃষ্ট করতে হলে কার্যকর 'One Stop Solution' নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ব অর্থনীতির এই পালাবদলের দিনে টিকে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন নির্মোহ বাস্তববাদ। ইউরোপ-আমেরিকার দিকে তাকিয়ে অলীক স্বপ্ন দেখার দিন শেষ হয়ে গেছে; এখন 'Look East Policy'-কে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির মূলভিত্তি করতে হবে। চীনের বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, অপ্রতিরোধ্য বাণিজ্য নীতি ও অদম্য কর্মস্পৃহা হতে পারে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন ব্লু-প্রিন্ট। শিক্ষা, শিল্প ও বাণিজ্যে চীনের সাথে নিবিড় অংশীদারিত্বের বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের বর্তমান উপলব্ধি তাই অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। চীনের এই পরীক্ষিত কাঠামোকে পুঁজি করেই রচিত হোক আমাদের স্বনির্ভরতার নতুন ইতিহাস। আর এই পথ ধরেই এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী উৎপাদনমুখী অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করুক বাংলাদেশ।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা; পরিচালক, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (IBA), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%