১২:১৬ পি.এম
হাম ও রুবেলার ভ্যাকসিন (টিকা) যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং টিকার অভাবে দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শিশু মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমও আছেন।
ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় এই মামলার আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আদালতে উপস্থিত আছেন। মামলায় অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ী হামলা মামলায় আনিসুল হক ও পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়। তবে ১নং আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির প্রচলিত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণের কারণে দেশের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স (যিনি মামলার ২নং সাক্ষী) গণমাধ্যমে ২০ মে জানিয়েছেন, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট সম্পর্কে তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। আসামিরা সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি, যার ফলে দেশে টিকার অভাবে হামের মহামারি দেখা দেয়।
মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হিসাব মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫,৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। টিকার অভাবে প্রায় ৬১০ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে এবং ৭৫,৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষ করে, বিগত ২ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও ইশরাত জাহান দম্পতির সন্তান এবং ২২ মে ঢাকার হাসপাতালে আবদুল্লাহ আল নোমান নামে আরেক শিশু মারা যায়। এছাড়া ২২ এপ্রিল ঢাকা শহরের হাসপাতালে জাফরজান ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিমের মৃত্যুরও উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি হওয়ায় বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলাটি গ্রহণ করেনি এবং আদালতে দায়ের করার পরামর্শ দেয়। তাই বিজ্ঞ আদালতে এই মামলা করা হয়েছে। আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরয়ানা জারি করে জেলহাজতে আটকে রাখার এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের প্রার্থনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন