ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ নির্মাণের পরিকল্পনা


চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ নির্মাণের পরিকল্পনা

আবু মোশাররফ

চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক ‘এভিয়েশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমানবন্দরটির রানওয়ে সম্প্রসারণ, পৃথক ট্রানজিট সেন্টার এবং কার্গো ভিলেজ নির্মাণের জন্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং চীনের সাথে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

এভিয়েশন সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর ‘আন্তর্জাতিক’ হলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক কিছু রুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পূর্বমুখী অর্থনৈতিক পরাশক্তির দেশগুলোর সাথে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে একটি পত্র পাঠান। ওই পত্রে বিমানবন্দরটির উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সরকারের সাড়া দিয়ে দ্রুতই দীর্ঘদিনের এই সীমাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ সমন্বয়ে প্রকল্পের একটি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম ধাপে ‘কুইক-উইন ফেজ’ বা দ্রুত অবকাঠামো সংস্কার করে বড় আকারের (ওয়াইড-বডি) উড়োজাহাজ ওঠানামা নিশ্চিত করা এবং ট্রানজিট যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি করা হবে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এখান থেকে চীন, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরে সরাসরি ফ্লাইট চালু ছিল; কিন্তু নানা সময়ে অবকাঠামোগত সংকট ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রামের রপ্তানিকারক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রীদের সেসব গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ঢাকা বিমানবন্দর কিংবা বিদেশি সংযোগকারী বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল বৃদ্ধি পাবে এবং কার্গো পরিবহনে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। এতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিমানবন্দরটির বর্তমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৯৪০ মিটার। প্রকল্পের আওতায় এটি পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার ৬০০ মিটারে উন্নীত করা হবে। উড়োজাহাজ পার্কিং স্ট্যান্ড থাকবে ১১টি (ন্যারো-বডি), ওয়াইড-বডি পার্কিং স্ট্যান্ড থাকবে ৮টি। বার্ষিক যাত্রী সক্ষমতা ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি করা হবে। বোর্ডিং ব্রিজের সংখ্যা দু’টি থেকে বাড়িয়ে ছয়টি (যার মধ্যে চারটি ওয়াইড-বডির উপযোগী) করা হবে। ১০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে চালু করা হবে পৃথক ট্রানজিট সেন্টার। এছাড়া রানওয়ে শক্তিশালীকরণ, সমান্তরাল ট্যাক্সিওয়ে নির্মাণ এবং দ্রুত প্রস্থান বা র‌্যাপিড এক্সিট ট্যাক্সিওয়ে তৈরি করা হবে। এই উন্নয়নের মাধ্যমে বোয়িং ৭৭৭, বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার কিংবা এয়ারবাস এ৩৩০ ও এ৩৫০-এর মতো বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহদাকৃতির বিমানগুলো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের বেশির ভাগ আমদানি-রপ্তানি পরিচালিত হলেও পচনশীল পণ্য, তৈরি পোশাকের উচ্চমূল্যের নমুনা, ইলেকট্রনিকস এবং জরুরি ওষুধপত্রের আন্তর্জাতিক পরিবহনে আকাশপথই একমাত্র ভরসা। কিন্তু বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে সেই সেবাও সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়েছে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। একটি নতুন কার্গো ভিলেজ নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে কোল্ড-চেইন ব্যবস্থাপনা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপন করা হবে। এতে পচনশীল কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও ওষুধসামগ্রী সরাসরি চীনসহ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পথ সুগম হবে। তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি ক্রেতারা দ্রুত চট্টগ্রাম সফর করতে পারবেন এবং তৈরি পোশাকের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল চীন থেকে সরাসরি আনা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় আনুমানিক ৩০০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে সরকারি ও সহযোগী খাত থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। ফাস্টট্র্যাক এই মেগা প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ঋণ বা অর্থ সহায়তা চেয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি); যার পরিমাণ প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। বাকি ৭৫ মিলিয়ন ডলার জোগাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বেবিচক। বিমানবন্দরের আশপাশে হোটেল, শপিং মল, কমার্শিয়াল স্পেস এবং অন্যান্য সেবামূলক অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব মডেলে আরও ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বাসস-কে বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত বাস্তবতায় চট্টগ্রাম অনেক আগেই এই অঞ্চলের আকাশ যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এতদিনেও তা হয়নি, এটা দুঃখজনক। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১৫ আগস্ট আমি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে চট্টগ্রাম চেম্বারের পক্ষ থেকে একটি পত্র প্রেরণ করি। মাননীয় অর্থমন্ত্রী পত্র পাওয়ার পর আমাদের দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ‘চট্টগ্রাম রিজিওনাল এয়ার হাব’ নামে ফাস্টট্র্যাক মেগা প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে। এটা এক কথায় ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। আমরা চাই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। এতে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থান যেমন দ্রুত বদলে যাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও নতুন গতির সঞ্চার হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের মূলকেন্দ্র অনেকটা পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে ধাবিত হয়েছে। বিশেষ করে চীন অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প অবকাঠামোর উন্নয়ন কার্যক্রম বিগত দুই দশকে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চীনা বিনিয়োগকারী ও কর্মীদের উপস্থিতি এখন উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এখান থেকে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ না থাকায় একটা নেতিবাচক পরিস্থিতি আমরা দেখছি। প্রস্তাবিত এয়ার হাব প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সেদিক থেকেও একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।’

আরও পড়ুন: ড্যাবের বিরুদ্ধে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রাম এভিয়েশন ক্লাবের সভাপতি মো. আছিফ চৌধুরী বাসস-কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে এই অঞ্চলের এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কার্গো ভিলেজ, চেকিং কাউন্টার, বোর্ডিং ব্রিজ, লাগেজ বেল্ট ও যাত্রীদের জন্য উন্নত লাউঞ্জ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বিমানবন্দরটি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালু থাকে। এটিকে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের ৭ দিন চালু রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের ল্যান্ডিং চার্জ (অবতরণ মাশুল) প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে আনতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করতে কার্যকর বিপণন ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম চালাতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, হংকং ও তাইওয়ানসহ পূর্ব এশিয়ামুখী বিমান সংস্থাগুলোকে আকৃষ্ট করে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে জ্বালানি ভরার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উড়োজাহাজের জ্বালানির দামও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমান চলাচলের কেন্দ্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা গতি পাবে এবং এর মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।’

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বাসস-কে বলেন, ‘কোনো উড়োজাহাজ এখানে অবতরণের পর যদি তাদের সমস্ত আনুষাঙ্গিক প্রয়োজনীয়তা যেমন— হোটেল সুবিধা, জ্বালানি নেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা পায় তখনই তারা এই বিমানবন্দরটিকে একটি ‘হাব’ হিসেবে গণ্য করবে। একবার এটি অর্জিত হলে, পৃথিবীর প্রায় সব এয়ারলাইন কোম্পানিকে আকৃষ্ট করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানেও এই বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার মতো অবকাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি কার্গো ফ্লাইটও অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য এয়ারলাইনগুলোকে কার্যকর বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যদি এয়ারলাইনের ফ্লাইটের সংখ্যা এবং সহায়ক অবকাঠামো বাড়ানো যায়, তবে এই বিমানবন্দরটি দেশের একটি বিকল্প হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। ট্রানজিট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এয়ারলাইনগুলোর এমন চাহিদা থাকা প্রয়োজন, যাতে তারা যাত্রীদের নিজ দেশ থেকে চট্টগ্রাম হয়ে অন্য গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে। তাই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে, কারিগরি যাত্রাবিরতি বা ‘টেকনিক্যাল স্টপওভার’ সেবা প্রদানের ওপর মনোযোগ দেওয়াটা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।’

আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতার জানাজার পরপরই গুরুদাসপুরে প্রবাসীর শপিংমলে হামলা-লুটপাট

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯ লাখ ৭৭ হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এই সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে সীমাবদ্ধ ছিল। কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে প্রস্তুত: উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


রাশিয়া ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে প্রস্তুত: উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক

রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় সরবরাহ বৃদ্ধির পরিকল্পনাও করছে। রুশ জ্বালানি সপ্তাহের একটি প্লেনারি অধিবেশনে এই মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা ইউরোপে আরও বড় পরিসরে জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। এটা আমরা নই, যারা রাশিয়া থেকে সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউরোপ রাজনৈতিক কারণে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমরা আমাদের চুক্তিগুলো পূরণ করে যেতে এখনো প্রস্তুত আছি।"

উপপ্রধানমন্ত্রী নোভাক আরও বলেন যে ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার করা চুক্তিগুলো দীর্ঘমেয়াদী এবং গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত চুক্তিগুলোর মেয়াদ ২০৩৫ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এই চুক্তিগুলোর অধীনে জ্বালানি গ্রহণ একতরফাভাবে প্রত্যাখ্যান করা কোনো বিদ্যমান আইন ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত, যা তাদের নিজেদের ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করে না।" সূত্র: তাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা: সৌর প্যানেলের ছাদের আয়তন নির্ধারণ করতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা: সৌর প্যানেলের ছাদের আয়তন নির্ধারণ করতে হবে

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ছাদের পরিমাণ-আয়তন নির্ধারণ করে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত লিংকের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পক্ষ থেকে এক জরুরি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে মাউশি অধিদপ্তরের সব অঞ্চল পরিচালক ও সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাউশি অধিদপ্তরের সব দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার যেসব ভবনের ছাদে ‘সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল’ স্থাপন করা সম্ভব, সেসব ছাদের পরিমাণ-আয়তন নির্ধারণ করে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক মামলায় নতুন অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক মামলায় নতুন অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক অনিয়মের মামলায় নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্লাবটির আপিলের শুনানির জন্য এখনো কোনো নির্ধারিত তারিখ নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, মামলাটি পর্যালোচনার জন্য স্বাধীন প্যানেল গঠনের প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি।

২৯ সেপ্টেম্বর স্বাধীন প্রিমিয়ার লিগ কমিশন ১১৫টি আর্থিক অভিযোগের মধ্যে ১১৪টি অভিযোগকে বহাল রেখেছে। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্থিক তথ্য প্রদান, বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলা এবং প্রতিযোগিতার বিধি সংক্রান্ত বিষয়। অভিযোগগুলোর সময়কাল ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

ম্যানচেস্টার সিটি শুরু থেকেই কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছে। ১ অক্টোবর কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল করে ক্লাবটি। তাদের দাবি, কমিশনের সিদ্ধান্তে আইন, তথ্য ও নীতিগত ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে গুরুতর ভুল রয়েছে এবং সেই ভুল সংশোধনের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।

এখন আপিলের পরবর্তী ধাপ হলো স্বাধীন প্যানেল গঠন করা। এই প্যানেলকে বিপুল পরিমাণ প্রমাণ পর্যালোচনা করতে হবে, উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি শুনতে হবে এবং প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে কি না, তা নির্ধারণ করতে হবে। মামলার ব্যাপকতা ও জটিলতার কারণে প্যানেল গঠনে সময় লাগছে। ফলে কবে শুনানি শুরু হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়।

এই বিলম্বের কারণে মামলার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও অপেক্ষা বাড়ছে। সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া কিংবা প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এসবের কোনোটি চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে আরোপ করা হয়নি।

আগের কিছু প্রতিবেদনে চলতি মৌসুমের মধ্যেই মামলাটির বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছিল। স্বাধীন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও ২০২৭ সালের শুরুর দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। তবে আপিল শুনানির তারিখ এখনো নির্ধারিত না হওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তির আগে আরও বেশ কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে।

মাঠের খেলায় ম্যানচেস্টার সিটি এখন পর্যন্ত দারুণ ছন্দে রয়েছে। এঞ্জো মারেস্কার অধীনে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ছয় ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে তারা। ১৭ অক্টোবর ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে পরবর্তী লিগ ম্যাচ খেলবে সিটি।

তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক মামলাটিও ক্লাবটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। আপিল প্যানেল গঠন ও শুনানির তারিখ নির্ধারণের পরই এই বহুল আলোচিত মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিশার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন খায়রুল বাসার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


তিশার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন খায়রুল বাসার

শোবিজ অঙ্গনে প্রায়ই অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রসায়ন নিয়ে বাস্তব জীবনের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে সাদিয়া আয়মানের সঙ্গে প্রেমের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন খায়রুল বাসার। এবার তিনি তানজিন তিশার সঙ্গে কথিত প্রেম ও বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে খায়রুল বাসার নিজের প্রেমের গুঞ্জন, সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বিয়ের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তানজিন তিশার সঙ্গে কথিত প্রেমের সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিনেতা বিষয়টি সরাসরি নাকচ করেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘ওর সঙ্গে আমার কবে প্রেম ছিল? প্রেম থাকলে তো ব্রেকআপ হবে! তার সঙ্গে আমার আগেও কথা হতো, এখনো কথা হয়।’

নাটকে নিয়মিত অভিনয়ের সুবাদে বিভিন্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে প্রেমের গুঞ্জন ছড়ানোর প্রসঙ্গেও মজার ছলে জবাব দেন খায়রুল বাসার। তিনি বলেন, ‘আমি সারা দিন নায়িকাদের সঙ্গে কাজ করি। তাহলে নায়িকাদের সঙ্গে গুঞ্জন হবে না তো কার সঙ্গে হবে! আমাকে তো আর কারো সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না।’

এছাড়া, সাদনিমা বিনতে নোমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো গুঞ্জনও উড়িয়ে দেন তিনি। এসব খবরের কোনো সত্যতা নেই বলে স্পষ্ট জানান খায়রুল বাসার। সাদনিমা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাকে চমৎকার ও স্পষ্টবাদী সহশিল্পী হিসেবে উল্লেখ করেন এই অভিনেতা।

তবে নিজের নামে এ ধরনের গুঞ্জন ছড়ানোয় বিরক্ত হওয়ার বদলে সেগুলো বেশ উপভোগ করেন বলেও জানান তিনি।

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন খায়রুল বাসার? এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা জানান, আপাতত বিয়ে নিয়ে ভাবছেন না তিনি। পারিবারিক কিছু দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের বেশ কিছু কাজও বাকি রয়েছে তার।

এ প্রসঙ্গে খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমি বিয়ে নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই করতে পারছি না। বিয়ে নিয়ে এখন পর্যন্ত আমার একদমই কোনো ভাবনা নাই। আগে এগুলো শেষ করব, তারপর হয়তো অবকাশে বিয়ের ব্যাপারটি নিয়ে ভাবা যেতে পারে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%