১১:৪৪ পি.এম
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের একটি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে দাঁতের চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখা এবং প্রেসক্রিপশনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন তার চেম্বারের কার্যক্রম বন্ধ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অঙ্গীকারনামাও প্রশাসন গ্রহণ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর চেকপোস্ট এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান উপস্থিত ছিলেন। এই অভিযানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও শামিল ছিলেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে জাসাস এর নেতৃবৃন্দের দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেন জাসাস নেতাকর্মী
জেলা প্রশাসন সূত্র জানাচ্ছে, অভিযানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের টেকনোলজিস্ট রবিউল ইসলামের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন প্রদান এবং নিজেকে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এছাড়া, চেম্বারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহান সাংবাদিকদের জানান, ‘উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখা, রোগ নির্ণয় অথবা প্রেসক্রিপশন দেওয়ার সুযোগ পান না। কিন্তু অভিযানে দেখা গেছে, রবিউল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখে আসছিলেন এবং প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন। এটি আইনের পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় তার চেম্বারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়মের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং চেম্বারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
আরও পড়ুন: কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে আবাসন সংকট, ২৩–২৪ অক্টোবর হোটেল-মোটেল-রিসোর্টে কক্ষ খালি নেই
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘তিনি লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন যে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন না। তারপরও যদি একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের উদ্দেশ্যে কাজী মো. শাহান জানান, ‘কেউ যদি তার চিকিৎসাসেবার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সঠিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিকিৎসা পেশায় নির্ধারিত যোগ্যতা ও নিবন্ধনের বাইরে গিয়ে রোগী দেখা বা প্রেসক্রিপশন দেওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভুল চিকিৎসার আশঙ্কা এবং রোগীর জীবনও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত তদারকি ও আইন প্রয়োগ জরুরি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। চিকিৎসক পরিচয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান, অনুমোদনহীন চেম্বার পরিচালনা অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের মতো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: সন্ত্রাসী কাদায়, অহিদুল ইসলাম ও তার ছেলে কে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন তার আব্দুল হালিম
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ডিগ্রি, নিবন্ধন ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম চোখে পড়লে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয় অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন