বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:২৮ পি.এম
বুধবার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ডিসি ফরিদা খানম।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, ‘স্বাধীনতা, ন্যয়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কখনোই বিনা ত্যাগে অর্জিত হয়নি। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
এই সময় তিনি আন্দোলনের অসংখ্য শহীদ, আহত এবং সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেন।
বুধবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আহত বীর যোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, সুধীজন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘১৬ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে আত্মত্যাগ, সাহস ও নতুন অভিযাত্রার এক অনন্য দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যে আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল এবং গণ-অভ্যুত্থানে নতুন গতি এনে দিয়েছিল।’
এসময় তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
ফরিদা খানম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সাহসী আন্দোলন দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ সেই আন্দোলনকে নতুন শক্তি ও দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।’
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ শুধু গর্বের বিষয় নয়, এটি সবার জন্য একটি দায়িত্বও। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনবান্ধব, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে ঢাকা জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও ন্যায়সংগত সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অঙ্গীকার।’
তিনি আরো বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না; তাঁদের আদর্শ, সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ধারণ করতে হবে। তাহলেই তাঁদের আত্মদান সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
আলোচনা সভা শেষে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনের রাজধানী বেইজিংকে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। সাম্রাজ্যিক রাজধানী থেকে আধুনিক চীনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র- বেইজিং বরাবরই এমন একটি শহর, যেখানে এসে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছে লাখো মানুষ।
মধ্যযুগে সাম্রাজ্যিক প্রশাসনে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা যেমন বেইজিংয়ে এসে পরীক্ষায় অংশ নিতেন, তেমনি সাম্প্রতিক কয়েক দশকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা তরুণ, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রদেশের শ্রমিকরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে রাজধানীতে ভিড় জমিয়েছেন।
কিন্তু সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় যে শহরে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়াই ছিল সাফল্যের প্রতীক, আজ সেই বেইজিং ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বহু তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Escaping Beijing’ (বেইজিং থেকে পালিয়ে যাওয়া) হ্যাশট্যাগের জনপ্রিয়তা এই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
২৯ বছর বয়সী ওয়াং লেইও ছিলেন এমনই একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। প্রতিবেশী হেবেই প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং ছোটবেলায় প্রথমবার বেইজিংয়ে এসে বিশাল অট্টালিকা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে আমি আর আমার বন্ধু প্রথমবার আকাশচুম্বী ভবন দেখেছিলাম। তখনই তাকে বলেছিলাম, বড় হয়ে আমি একদিন ওই ভবনের চূড়ায় দাঁড়াব।” ২০২০ সালে তিনি রাজধানীতে চলে আসেন এবং চীনের একসময়ের অত্যন্ত লাভজনক রিয়েল এস্টেট খাতে চাকরি শুরু করেন। তার বিশ্বাস ছিল, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন সফল হওয়া সম্ভব হবে।
কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়ে। বর্তমানে তিনি মনে করেন, তার ভবিষ্যৎ আর বেইজিংয়ে নয়।
চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের পেছনে ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভ্যন্তরীণ জনস্থানান্তর। কোটি কোটি মানুষ গ্রাম ও ছোট শহর ছেড়ে বেইজিং, সাংহাইসহ বড় নগরগুলোতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বাসিন্দা হওয়াই ছিল সামাজিক মর্যাদা ও সাফল্যের পরিচয়।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। দীর্ঘদিনের দুই অঙ্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট এবং করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা।
যেসব পরিবার তাদের অধিকাংশ সঞ্চয় বাড়ি কেনায় বিনিয়োগ করেছিল, তারা বাড়ির দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মানুষকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ফলে ভোগব্যয় কমেছে, ব্যবসা সম্প্রসারণ থেমে গেছে এবং কর্মসংস্থানের বাজারও সংকুচিত হয়েছে।
ওয়াং লেই বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতের সংকটের কারণে তার ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “রিয়েল এস্টেট বাজার খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।” বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে একটি ছোট বার পরিচালনা করছেন। কাজের স্বাধীনতা বাড়লেও আর্থিক সংকট কাটেনি।
তিনি বলেন, “আমার আশপাশের অনেক মানুষ- সহকর্মী ও বন্ধুরাও- একই ধরনের চাপে আছেন। তাদের বেতন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে যদি সম্পর্ক, বাড়িভাড়া কিংবা মাঝেমধ্যে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার খরচ যোগ হয়, তাহলে অর্থ একেবারেই যথেষ্ট থাকে না।”
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন অনেক তরুণ রাজধানী ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। অধিকাংশের অভিযোগ একই- অস্বাভাবিক ব্যয়বহুল বাসস্থান, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অনিশ্চিত কর্মজীবন। ওয়াংয়ের মতে, একই পরিমাণ অর্থ অন্য কোনও শহরে ব্যয় করলে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো জীবনযাপন সম্ভব।
অবশ্য বেইজিং ছেড়ে যাওয়ার সঙ্গে এখনও সামাজিক একটি নেতিবাচক ধারণা জড়িয়ে আছে। অনেকেই এটিকে ব্যর্থতা কিংবা ‘সম্মান হারানো’ হিসেবে দেখেন। তবে ওয়াং মনে করেন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই মানসিকতা দ্রুত বদলাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে চীনে ‘৯৯৬’ কর্মসংস্কৃতি- অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, সপ্তাহে ছয় দিন কাজ- সফলতার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হতো। প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বহু জন এই সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে পুরোনো প্রজন্মের মধ্যে ‘চি কু’, অর্থাৎ কষ্ট সহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। এরই ফলে ২০২১ সালে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘ট্যাং পিং’ কিংবা ‘লাইং ফ্ল্যাট’ ধারণা। এই ধারণায় বিশ্বাসীরা অতি প্রতিযোগিতামূলক জীবন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং শুধুমাত্র উচ্চ আয়ের পেছনে ছুটে চলার পরিবর্তে সহজ, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানসিকভাবে শান্ত জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেন।
ওয়াং লেই জানান, তার অনেক বন্ধু ইতোমধ্যেই রাজধানী ছেড়ে অন্য শহরে চলে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পেরেছি, যারা বেইজিং ছেড়ে অন্য শহরে গেছে তারা আমার চেয়ে অনেক বেশি সুখে আছে। তাদের জীবনে চাপ ও উদ্বেগ অনেক কম।” তবে তিনি মনে করেন না যে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা। তার ভাষায়, “হয়তো কিছু তরুণ কঠোর পরিশ্রম করতে চায় না, কিন্তু অনেকেই এখনও চায়। শুধু আজকের বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।”
শৈশবে ওয়াং বিশ্বাস করতেন, চীনের সবচেয়ে বড় শহরে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই জীবনের সাফল্য। কিন্তু এখন তার কাছে সাফল্যের অর্থ বদলে গেছে। তিনি বলেন, এখন সাফল্য মানে এমন একটি শহর খুঁজে পাওয়া, যেখানে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই জীবন গড়ে তুলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বিডি ক্লিন কাজ করবে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও টেকসই করার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই লক্ষ্যে দুই সিটি করপোরেশন ও বিডি ক্লিনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন নিয়ে বিডি ক্লিনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জন্য চারা সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
অসচেতনভাবে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, যার ফলে ড্রেন, খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তনে সময় লাগবে তবে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় বিডি ক্লিনের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। বিডি ক্লিনের প্রধান সমন্বয়ক চম্পা আক্তার সংগঠনের কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং এসব কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করতে সরকারের সহযোগিতা চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক, যিনি টালিউড ইন্ডাস্ট্রির একজন পরিচিত মুখ, ভারতের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে তার পদত্যাগ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে চলছিল নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই), তিনি নিজে সরাসরি উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং এভাবে পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এর আগে, তৃণমূলের মনোনয়ে রাজ্যসভায় যাওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছিলেন। কোয়েল মল্লিক তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন। আগের জুনে, যখন কোয়েল মল্লিক প্রথমবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন তিনি ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়, সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি হাজির হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে।
সেই সময়, দেশের বাইরে থাকার কারণে তার এই পদত্যাগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। অবশেষে, আজ তিনি দিল্লিতে গিয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেন।
এই পদত্যাগের ফলে, রাজ্যসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সংখ্যা কমে বর্তমানে ৯-এ দাঁড়িয়েছে। এর ফলে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
দিল্লির রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, পদত্যাগের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই, কোয়েল মল্লিক বিজেপির শীর্ষ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন প্রশ্ন উঠেছে—তৃণমূলের চারজন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের পর কি কোয়েল মল্লিক বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন?
এটি মনে রাখতে হবে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে, তখন সেখানে রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয় ও মেনকা গুরুস্বামীর সঙ্গে কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল। এরপর, গত এপ্রিলে তিনি দিল্লিতে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
শপথগ্রহণের পর, এই টালি তারকা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এমন নয়। তবে এটি অনেক বড় একটি মহৎ দায়িত্ব। দেশ ও মানুষের সেবা করার চেয়ে বড় কোনো মহৎ কাজ আর হতে পারে না।’ তবে, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় তিনি ইস্তফা দিলেন, তা নিয়ে চর্চা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, '২৪-এর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সকলের ত্যাগ ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাতে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্মম গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত।'
তিনি আরো বলেন, 'শহীদ ওয়াসিম ও অন্যান্য সকল শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিটি জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনা বা তার দলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। একইসাথে যারা এই গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পালন করেছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যকর করা হবে।'
অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম বলেন, 'আজকে আমি আমার হাজারো সন্তানকে এখানে দেখতে পাচ্ছি। আমার আকুল আবেদন, কেউ যেন নিজেদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি না করে। দেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।'
এই অনুষ্ঠানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ