০৮:৪০ পি.এম
কামরুদ্দীন আবসার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। উদ্বেগের মধ্যে, সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি মিরপুরে চিরনিদ্রে শায়িত হলেন, যেখানে বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের উদ্যোগে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়েছিল। সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত, সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। সেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিল্পী এবং শুভানুধ্যায়ীরা ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, এবং আরো অনেক সংগঠন। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের জোটভুক্ত সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
আরও পড়ুন: জানাজা থেকে ফেরার পথে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান, অসন্তোষ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আনু মোহাম্মদ, প্রয়াত শিল্পীর ছেলে আদনান মুকিত এবং ডা. হারুন অর রশীদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন জামশেদ আনোয়ার তপন। বক্তারা বলেন, কামরুদ্দীন আবসার শৈশব থেকেই গণসংগীতকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মার্কসবাদী সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক।
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সারাজীবন সক্রিয় ছিলেন। তার হাত ধরে অনেক শিল্পী গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সভা-সমাবেশে তিনি সংগ্রামের গান গেয়ে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গত শনিবার (৩০ মে) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুদ্দীন আবসার মৃত্যুবরণ করেন।
১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর কুমারখালীতে তার জন্ম হয়। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তিনি গভীর অনুরাগী ছিলেন। ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ, মুন্সি রইসউদ্দীন ও আলতাফ মাহমুদ-এর কাছে সংগীতে তালিম গ্রহণ করার পর ১৯৭২ সালে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতন সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে সেগুনবাগিচা মিউজিক কলেজে অধ্যয়ন করেন।
আরও পড়ুন: মিয়ানমারে পাচারের সময় ৪৯২ বস্তা সারসহ ৮ পাচারকারী আটক
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এর সংগীত ও পরিচালনা বিভাগে সহকারী হিসেবে কাজ করা অবস্থায় তিনি গণসংগীত শিল্পী হিসেবেই সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। 'চল রে ভাই, উজান বেয়ে যাই', 'আমি কোনো ভালোবাসার গল্প জানি না, যেটুকু জেনেছি সবটুকুই যুদ্ধের' এবং 'তোমরা যদি বলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, আমি মানবো না'-এ ধরনের গান মানুষের সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত করেছে।
তার প্রকাশিত অ্যালবামের মধ্যে 'মে দিবসের গান' এবং 'বাংলার কমরেড বন্ধু' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনটির সংগীত ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। সত্তরের দশকের দুর্ভিক্ষের সময় গান গেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেছেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা আন্দোলন এবং গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: ভৈরবে চাঁদা দাবির সংঘর্ষে আহত ১৫
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন