ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ দিয়ে ফিরতে পারেন নেইমার


বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ দিয়ে ফিরতে পারেন নেইমার

বিশ্বকাপে ২৪ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর মিশনে ব্রাজিল আবারও নেইমারের ওপর ভরসা রাখছে। ৩৪ বছর বয়সী নেইমার এখন তার চতুর্থ ও শেষ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবারও নেইমারকে ঘিরে প্রতিভার ঝলক ও বিশাল প্রত্যাশার চাপের সাথে রয়েছে শারীরিক অনিশ্চয়তার সেই পরিচিত গল্পও। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে চোট বারবার তার পথ রুদ্ধ করেছে, আর এবারও সেই আশঙ্কা ঘিরে ধরেছে এমন এক টুর্নামেন্টে, যেটিকে তিনি নিজের জন্য ব্রাজিলের জার্সিতে শেষ মহাকাব্যিক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

হাঁটুর সমস্যার কারণে বাছাইপর্বের বড় একটা সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও, ড্রেসিংরুমে তার গুরুত্ব একটুও কমেনি। সতীর্থরা যেমন জানেন, তেমনি কোচ কার্লো আনচেলত্তিরও তার ওপর বিশ্বাস রয়েছে। ইতালিয়ান এই কোচের বিশ্বাস, ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অনেকটাই নির্ভর করছে ১০ নম্বর জার্সিধারী এই তারকার ওপর। এটা শুধু মাঠে তার অবদানের কারণে নয়, বরং দলের মধ্যে তিনি যে মানসিক শক্তি ও নেতৃত্বের প্রতীক, তার জন্যও।

নেইমার নিজেও এই চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব আড়াল করেননি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, 'দ্য লাস্ট ড্যান্স'। এই কথাটি যেন তার বর্তমান অবস্থার সারাংশ; নেইমারের জন্য শেষটা আসছে। তার লক্ষ্য একটাই, সেরা শারীরিক অবস্থায় বিশ্বকাপে পৌঁছানো। তবে সেই পথে অবার সহজ নয়।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে সবচেয়ে আলোচিত অন্তর্ভুক্তিগুলোর একজন ছিলেন বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক তারকা। তবে তিনি ব্রাজিল শিবিরে যোগ দেন চোট নিয়েই। গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের একটি ম্যাচে কাফে আঘাত পান তিনি। শুরুতে তার ক্লাব সান্তোস বিষয়টিকে সাধারণ ফোলা (এডিমা) বলে গুরুত্ব কমিয়ে দেখা শুরু করে, ফলে তিনি ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা পান।

কিন্তু জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর মেডিকেল পরীক্ষায় উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আসে। এমআরআই স্ক্যানে তার গ্রেড-২ পেশির চোট ধরা পড়ে, যার জন্য দুই থেকে তিন সপ্তাহের পুনর্বাসন প্রয়োজন বলে জানানো হয়। ফলে পানামা ও মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচগুলোও মিস করতে হয়েছে তাকে। একই সঙ্গে ১৩ জুন নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তার খেলা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

নেইমার এখন সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়াচ্ছেন। যদিও আশা এখনও বেঁচে আছে, তবে দলের মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে গ্রুপ পর্ব চলাকালীন ধীরে ধীরে মাঠে ফিরতে পারেন তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের পর ১৯ জুন ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর পাঁচ দিন বিরতি দিয়ে মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্ব শেষ করবে সেলেসাওরা। বর্তমানে সেই শেষ ম্যাচটিকেই নেইমারের প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক অগ্রগতি আশাবাদ জাগাচ্ছে।

ব্রাজিল দলের সর্বশেষ মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'নেইমারের পুনর্বাসন ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ব্যক্তিগত অনুশীলনে তার উন্নতি দারুণ। এই সপ্তাহান্তে নতুন এমআরআই করা হবে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী সপ্তাহে তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরতে পারবেন।'

আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন

এমনকি ৮ জুন বিশ্রাম শেষে দলের অনুশীলনে ফেরার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চোটগ্রস্ত খেলোয়াড় বদলানোর সুযোগ থাকায় ব্রাজিলে আলোচনা শুরু হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে নেইমারের সম্ভাব্য বিকল্পদের নামও আলোচনায় আসে। তবে আনচেলত্তি দ্রুতই সেই বিতর্ক থামিয়ে দেন।

নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত কিন্তু দৃঢ় ভঙ্গিতে তিনি বলেন, 'পরিষ্কারভাবে বলছি, নেইমার আমাদের সঙ্গেই থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি সে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। আর যদি না পারে, তাহলে হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য অবশ্যই প্রস্তুত থাকবে।'

আনচেলত্তির আত্মবিশ্বাস শুধু নেইমারের তারকাখ্যাতির কারণে নয়। এর পেছনে রয়েছে সান্তোসে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও। মার্চের ফিফা উইন্ডোর পর তিনি অবশেষে ধারাবাহিকভাবে খেলার সুযোগ পান। ক্লাবটির খেলা ১৩ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে অংশ নেন এবং সাতটিতে পুরো ৯০ মিনিট খেলেন। এই সময়ে তিনি চারটি অ্যাসিস্ট করেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার প্রতিভা এখনও অটুট রয়েছে। যা ২৪ বছর পর আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখা ব্রাজিলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ডেভিড ইমনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠাল আদালত

এদিকে দলের অন্য খেলোয়াড়রা প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও নেইমার নিউ জার্সিতেই বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুসরণ করছেন। লক্ষ্য হলো, অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মাঠে ফিরানো। ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা হলো গ্রুপ পর্বের মধ্যেই তাকে খেলার মতো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, তবে এমনভাবে যাতে চোট পুনরায় না বাড়ে এবং তার শেষ বিশ্বকাপ হঠাৎ করেই শেষ হয়ে না যায়।

এই লক্ষ্য পূরণে নেইমারকে নিবিড় তত্ত্বাবধানের মধ্যে বিশেষ অনুশীলন করানো হচ্ছে। তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মূল দায়িত্বে রয়েছেন চিকিৎসক ফেলিপে কালিল, ফিটনেস কোচ ক্রিস্টিয়ানো নুনেস এবং ফিজিওথেরাপিস্ট রাফায়েল মার্থিনি। এই তিনজনই এখন ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত পুনর্বাসন প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু।

কারণ বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই একটি দেশের প্রার্থনা এক জায়গায় এসে মিলছে; তাদের সবচেয়ে বড় তারকাটি যেন সময়মতো সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে পারেন, আর শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের সেই বিখ্যাত নাচটি উপহার দিতে পারেন।

আরও পড়ুন: আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে মারধরের অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫২ পি.এম


বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলায়, বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার। রবিবার, ৭ জুন সকাল বেলায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে।

ডামুড্যা থানার এবং বিদ্যালয় সূত্র জানাচ্ছে, ডামুড্যা উপজেলা সদরে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টির অবস্থান। প্রধান শিক্ষক হিসেবে, সুজিত কর্মকার ২০১৩ সালে সেখানে নিযুক্ত হন। দুই বছর আগে, স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং সেই কারণে ওই পক্ষটি তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তোলে।

বিরোধের প্রেক্ষিতে, ২০২৪ সালে সরকার পতনের পরে, সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর, তিনি ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যালয়ে যেতে পারেননি এবং বিভিন্ন উপায়ে ছুটি কাটাচ্ছিলেন।

এদিন সকালে, প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে পৌঁছান। কিন্তু নামার পর, বেশ কয়েকজন অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষ তাকে মারধর করতে শুরু করেন। আবার, কিছু তরুণ তাকে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন এবং তখন সেখানে আরো কয়েকজন তরুণ তাকে অটোরিকশার ভেতর মারধর করছিলেন। স্থানীয় কিছু মানুষ ওই মারধরের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখেন।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহানা ডেইজি বলেন, ‘আমরা সুজিত কর্মকার নামের এক ব্যক্তিকে ভর্তি করেছি। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়েছে। মুখসহ শরীরের নানা স্থানে ফুলে গেছে। আমরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার জানান, ‘আমি বিদ্যালয়ের কাজ থাকার কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। কাজ শেষ করে বিদ্যালয়ে ঢোকার পথে স্থানীয়রা আমার উপর হামলা করে। কেন বা কি কারণে করেছে, তা আমি জানি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার বলেছেন এই বিষয়ে মামলা হবে। তবে আমাকে আগে চিকিৎসা নিতে বলেছেন।’

ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষক যখন বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন কিছু অভিভাবক তাকে বাধা দেন এবং বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি। আমি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কোনো বিরোধে নেই। তিনি কেন এসবের জন্য আমাকে দায়ী করছেন তা আমি বুঝতে পারছি না।’

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ূবী জানিয়েছেন, ‘সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ওসিকে জানিয়েছি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার নির্দেশ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার নির্দেশ বিদ্যুৎ মন্ত্রীর

পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও স্মার্ট করতে ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সোমবার (৮ জুন) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা, এর দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিডের প্রয়োজনীয়তা, এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালুর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মন্ত্রী বলেন, "পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।" এ লক্ষ্যে একটি ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি ওঠান।

তিনি বলেন, "উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে উপযোগী করতে হবে।" এ জন্য বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডকে (পিজিসিবি) প্রয়োজনীয় স্টাডি করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিদেশি অভিজ্ঞ কনসালট্যান্টদের মাধ্যমে এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন পরিকল্পনা নেওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, "দেশের বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসনির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের দিকে অগ্রসর হয়েছি, এখন লক্ষ্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ।" তবে এর জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন লাইনকে সমন্বিত ও স্মার্টভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি, এ কথা তিনি সতর্কতার সঙ্গে তুলে ধরেন।

তিনি জানান, স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিস্তারিত কনসেপ্ট ও ওয়ার্কিং পেপার প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জমা দেবেন বলে সভায় জানানো হয়।

মন্ত্রী বলেন, "পারমাণবিক বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তবে এটি জটিল ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।"

এ সময় তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতে অনাবশ্যক প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব প্রকল্পের পেছনে দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

সভা শেষে, তিনি বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম, পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাক্রেডিটেশন দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার শক্তিশালী হাতিয়ার : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


অ্যাক্রেডিটেশন দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার শক্তিশালী হাতিয়ার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অ্যাক্রেডিটেশন শুধুমাত্র একটি সনদ কিংবা স্বীকৃতি নয়, বরং এটি দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

আগামীকাল বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য হল, ‘উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন : অ্যাক্রেডিটেশনের শক্তি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যা নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে পণ্য এবং সেবার গুণগত মান যাচাই করে। অ্যাক্রেডিটেশন কেবল একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়, এটি দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।’

তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাক্রেডিটেশনের মাধ্যমে বিএবি বাংলাদেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরও গ্রহণযোগ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য করে তুলছে। এখন পর্যন্ত বিএবি দেশে ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক বিশ্ব অ্যাক্রিডিটেশন দিবস ২০২৬ উদযাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী।’

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য আমাদের উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি। বর্তমানে ভোক্তারা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধুমাত্র পণ্যের গুণগত মানই নয়, বরং উৎপাদনের নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং পরিবেশের ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করেন।

বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস প্রতিবছর আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং আস্থার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতিবছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস পালন করে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস দেশের মান অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া তিনি দিবসটির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বজ্রাঘাতজনিত প্রাণহানি কমাতে সচেতনতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


বজ্রাঘাতজনিত প্রাণহানি কমাতে সচেতনতা ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে সরকার

দেশে বজ্রাঘাতজনিত প্রাণহানি কমাতে সরকার বিভিন্ন সচেতনতামূলক ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলেছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জাতীয় সংসদে।

মন্ত্রী আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় জনগণকে বজ্রপাতের ঝুঁকি ও করণীয় বিষয়ে অবহিত করতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, লিফলেট, পোস্টার, প্রশিক্ষণ এবং মহড়ার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে, জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের আগাম পূর্বাভাস প্রদান করছে।

এসব পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ইন্টিগ্রেটেড ভয়েস রেসপন্স (আইভিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে বজ্রপাতের সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ আগাম সতর্ক হতে পারেন।

মন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি এবং কৃষকদের জন্য ছাউনি-সংবলিত বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের অপর সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, প্রস্তুতি, সাড়া প্রদান, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২', 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫', 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা' এবং 'স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার (এসওডি)-২০১৯' প্রণয়ন করেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও যুগোপযোগী করার জন্য সরকার বর্তমানে 'এসওডি-২০১৯ সংশোধন' ও 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (এনপিডিএম) ২০২৬-২০৩০' প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি 'জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট' নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন।

এই প্রতিষ্ঠান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এমন আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%