০৫:০৩ এম
দই-ভাত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজপাচ্য খাবারগুলোর মধ্যে একটি। বিশেষ করে গরমের দিনে বা হজমের সমস্যা হলে অনেকে দই-ভাত খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু বহু মানুষের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে— টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়ে নাকি কমে? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর নিঃসন্দেহে দই-ভাতের পরিমাণ, উপাদান, প্রতিদিনের ক্যালোরি গ্রহণ এবং জীবনযাপনের ওপর।
দই-ভাতের পুষ্টিগুণ
দই-ভাত মূলত দুটি প্রধান উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়, যথা— ‘ভাত ও দই’। ভাত থেকে যা পাওয়া যায় সেটি হলো— কার্বোহাইড্রেট, শক্তি বা ক্যালোরি, অল্প পরিমাণ প্রোটিন, কিছু ভিটামিন এবং খনিজ। অন্যদিকে, দই থেকে যা পাওয়া যায়, সেটি হলো— প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, প্রোবায়োটিক বা স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া, ভিটামিন বি১২ এবং পটাসিয়াম। এই দুটি উপাদানের সম্মিলনে তৈরি দই-ভাত একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাবারে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি প্রদান করে এবং হজমের ক্ষেত্রে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল
দই-ভাত খেলে কি ওজন বাড়ে?
দই-ভাত খেলে ওজন বাড়তে পারে, যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়। সাদা ভাত যদি বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয়, ফুল-ফ্যাট দই যদি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় এবং শারীরিক পরিশ্রম যদি কম হয়, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। দৈনিক ক্যালোরির প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে ওজন বাড়তে পারে। এটি ঘটে মূলত তখনি, যখন শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি জমা হয়। তাই শুধুমাত্র দই-ভাত নয়, যেকোনো খাবার অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে।
দই-ভাত খেলে কি ওজন কমে?
যদি সঠিকভাবে খাওয়া হয়, তাহলে দই-ভাত ওজন কমানোর খাদ্যতালিকার একটি অংশ হতে পারে। কারণ—
আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস
দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে: দইয়ের প্রোটিন এবং ভাতের কার্বোহাইড্রেট সংমিশ্রণ তৃপ্তি বৃদ্ধি করে, ফলে বারবার ক্ষুধা অনুভূত হয় না।
হজমের উন্নতি করে: দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, যা সামগ্রিক বিপাকের প্রতিকার করতে সহায়ক।
কম ক্যালোরির বিকল্প হিসেবে বোঝা যেতে পারে: যদি পরিমিত পরিমাণে লো-ফ্যাট দই এবং সীমিত পরিমাণ ভাতের ব্যবহার করা হয়, তাহলে এটি তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরির একটি খাবার হতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প হতে পারে: ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে দই-ভাত খেলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ কমিয়ে ফেলতে পারেন।
আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা
ওজন কমানোর জন্য কীভাবে দই-ভাত খাবেন?
যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য বিশেষত্ব হল— অতিরিক্ত ভাত না খেয়ে মাঝারি পরিমাণে খাওয়া। ব্যবহার করুন লো-ফ্যাট দই, কারণ কম চর্বিযুক্ত দই ব্যবহার করলে ক্যালোরি কমে থাকে। এর সঙ্গে শসা, গাজর, টমেটো, ধনেপাতা বা অন্যান্য সবজি মিশিয়ে খেলে ফাইবারের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং পেট দীর্ঘ সময় ভরা থাকবে। সাদা ভাতের পরিবর্তে ব্রাউন রাইস ব্যবহার করাও একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। অনেকে দই-ভাতে চিনি মেশায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাদের জন্য এটি এড়ানো ভালো।
গরমের দিনে দই-ভাত খাওয়ার সেরা সময়
দই-ভাত সাধারণত দুপুরের খাবার বা হালকা রাতের খাবার হিসেবে দারুণ কাজ করে। গরমের দিনে এটি শরীরকে শীতল অনুভূতি দিতে পারে এবং হজমেও সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
টানা দই-ভাত খেলে ওজন বাড়বে নাকি কমবে-এর নির্দিষ্ট কোনো উত্তর নেই। কিন্তু যদি অতিরিক্ত পরিমাণে এবং উচ্চ ক্যালোরির উপাদান দিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে এটি ওজন বাড়াতে পারে। আবার, পরিমিত পরিমাণে, লো-ফ্যাট দই ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খেলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এর মানে হলো, ওজন বাড়া বা কমার মূল বিষয় হলো মোট ক্যালোরি গ্রহণ, খাবারের পরিমাণ এবং জীবনযাত্রার ধরন। তাই দই-ভাতকে একটি সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খেলে এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন