০৫:১১ এম
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় পুলিশ পৃথক দুটি মামলা করেছে। এর মধ্যে হাটহাজারীতে দায়ের হওয়া মামলায় উল্লেখযোগ্য নানান অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে দুজন কাতার প্রবাসী, একজন ফটোসাংবাদিক এবং সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, পুলিশ ওই মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই।
অপরদিকে, ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সভা ও মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আসামির তালিকায় চট্টগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ারও অন্তর্ভুক্ত আছেন। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে আরও ৯০ জনকে করা হয়েছে। মামলার জব্দ তালিকায় উল্লেখ রয়েছে চারটি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ
গত বুধবার ভোরে হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ রোড এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার পর্যালোচনার পর দেখা যায়, ৫৪ নম্বর আসামি মোহাম্মদ অভি (২৪) এবং ৬৮ নম্বর আসামি আব্দুল্লাহ ইব্রাহীম আবির (৩০) বর্তমানে কাতারে কর্মসূত্রে অবস্থান করছেন। অভির পরিবার জানিয়েছে, তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এক ভিডিওবার্তায় অভি জানিয়েছেন, ‘আমি দেশে না থেকেও আমাকে মামলার ৫৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’
বৃহস্পতিবার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ফটিকছড়িতে একটি মিছিল বের করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ফটিকছড়ি থানায় এসআই মো. জামাল হোসেন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মিছিল করার সময় পুলিশ যখন এসেছিল, তখন আসামিরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামি যথাক্রমে মো. জামান বাবু ও সাইফুল ইসলাম সজিবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার ও জব্দ করে।
ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন