ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তানে তুষারধস, ৩ পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার


পাকিস্তানে তুষারধস, ৩ পর্বতারোহীর মরদেহ উদ্ধার

পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালার ব্রড পিকে ভয়াবহ তুষারধসে তিনজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার উদ্ধারকারীরা তিনটি মরদেহ উদ্ধার করেন, যাদের মধ্যে নেপালি, ওমানি এবং মার্কিন পর্বতারোহী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ অন্যদের জন্য তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রড পিকের চূড়ায় ওঠার সময় একটি আন্তর্জাতিক পর্বতারোহী দলের ওপর তুষারধস আঘাত হানে, ফলে পর্বতারোহীরা বেস ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন।

উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—নেপালি পর্বতারোহী পুর বাহাদুর গুরুং, ওমানি পর্বতারোহী নাথিরা আহমেদ এবং মার্কিন পর্বতারোহী ম্যালোরি গাইস। তাদের মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক, চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

এর আগে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন যে, অনুসন্ধানকারী দল চারজন পর্বতারোহীর দেহাবশেষের সন্ধান পেয়েছে, তবে চতুর্থ ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

তীব্র তুষারঝড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

গিলগিট-বালতিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আমজাদ হুসেন জানিয়েছেন, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালানোর পর শনিবার আবারও অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারও অংশ নিয়েছে।

পাকিস্তান আলপাইন ক্লাবের সহসভাপতি কারার হায়দরি জানান, ব্রড পিকের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করার সময় তুষারধসের কবলে পড়ার পর পর্বতারোহীরা তাদের বেস ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন।

আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

দুর্ঘটনাকবলিত দলে বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীরা ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন নেপালি, একজন ওমানি, একজন মার্কিন, একজন পাকিস্তানি, একজন চীনা এবং আরও একজন বিদেশি পর্বতারোহী ছিলেন।

নিখোঁজদের মধ্যে কোনো চীনা নাগরিক রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, চীনা নাগরিকদের সহায়তা এবং পাকিস্তানের উদ্ধার তৎপরতায় সহযোগিতা করতে চীন প্রস্তুত।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৪৭ মিটার (২৬ হাজার ৪০১ ফুট) উচ্চতার ব্রড পিক বিশ্বের দ্বাদশ সর্বোচ্চ পর্বত। পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত এই পর্বত প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। তবে ব্রড পিকসহ কারাকোরাম অঞ্চলের পর্বতগুলোতে তুষারধস, তীব্র ঠান্ডা এবং দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান যুদ্ধে টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরান যুদ্ধে টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ!

মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক মাসের সংঘাতের ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। যুদ্ধের সময় বিপুল পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র ব্যবহার করার কারণে পেন্টাগনের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা উদ্বিগ্ন যে, ভবিষ্যতে একই মাত্রায় পাল্টা হামলা করতে বা বিশ্বের অন্য কোনও অঞ্চলে নতুন সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে নিজেদের বাহিনী এবং ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দিতে পারবে।

ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর মজুত ছিল প্রায় দুই হাজার ৩০০টি। দীর্ঘ সংঘাতের পর এই সংখ্যা ৮২৭টিরও নিচে নেমে এসেছে।

একই ধরনের সংকট যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থাতেও দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে থাড ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা ছিল ৪৫২টি, বর্তমানে সেটি ২৭৮টিরও নিচে নেমে এসেছে।

সিএসআইএস সতর্ক করেছে যে, ব্যবহৃত এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এ কারণে যদি ভবিষ্যতে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কিংবা অন্য কোথাও বড় ধরনের সামরিক সংকট সৃষ্টি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিদেশে সেনা সদস্য, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের নানা অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে। ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে গিয়ে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমবর্ধমান।

এই ঘাটতি মোকাবিলার জন্য পেন্টাগন আগামী ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিলের মধ্যে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বিশেষভাবে বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে।

এই অর্থ ব্যয় হবে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের জন্য। এর মাধ্যমে দ্রুত কমে যাওয়া মজুত পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যতে সামরিক অভিযানের সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম খরচের অস্ত্র সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।

প্রাথমিক ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবে যে অস্ত্রগুলোর চাহিদা জানানো হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই হলো এমন অস্ত্র বা গোলাবারুদ, যার প্রতিটির মূল্য ৬ লাখ ডলার বা তার কম। এর মাধ্যমে ব্যয় কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করেনি; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতির ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে সংকট মোকাবিলা করা ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যথাযথ যত্ন না নেয়ায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে যথাযথ যত্ন না নেয়ায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিশুদের যথাযথ যত্ন না নেয়ার কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য উচ্চমাত্রার প্রোটিন। কিন্তু আধুনিকতার নামে এখন শিশুদেরকে মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত করা হয়। এছাড়া দেশে সিজারিয়ানের মাত্রাও বেড়ে গেছে।’

অল্প বয়সে বিয়ে, অল্প বয়সে শিশু জন্মদান এবং বুকের দুধ না খাওয়ানোর কারণে শিশুরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি এই বিষয়ে বলেন, ‘শিশুর যথাযথ যত্ন না নেয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’

দেশের সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করার মধ্য দিয়ে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হলে সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদেরকে সচেতন করতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে, পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে, পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট।

ঘণ্টায় প্রায় ৮৭০০ কিলোমিটার প্রচণ্ড গতিতে রকেটের অংশটি চন্দ্রপৃষ্ঠে আঘাত হানবে।

এটি চাঁদে একটি বড় গর্ত তৈরির পাশাপাশি মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হবে, যা পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছেন বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’-এর কাছে এই সংঘর্ষ ঘটবে। ৪০ ফুট লম্বা এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটটি আঘাত হানার সময় ৩ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য শক্তি উৎপন্ন করবে।

এর প্রভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া ও ১৬ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে।

সাধারণত প্রাকৃতিক উল্কাপাতের সময় আগে থেকে জানা যায় না। তবে এই ঘটনাটি আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়ায় গবেষণার জন্য এটি এক বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে বিজ্ঞানীদের কাছে।

নাসার ‘লুনার রিকনসান্স অরবিটার’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দানুরি’ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশ থেকে ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে এবং সংঘর্ষের আগের ও পরের ছবি সংগ্রহ করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্দিষ্ট রকেটের ধাক্কায় চাঁদের বড় কোনো ক্ষতি না হলেও, তা মহাকাশে অনিয়ন্ত্রিত আবর্জনা বৃদ্ধির ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

ভবিষ্যতে চাঁদে আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী ও স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বিভিন্ন দেশের।

কিন্তু কক্ষপথে এভাবে পরিত্যক্ত রকেটের অংশ ভেসে বেড়ালে তা আগামী দিনের মহাকাশ মিশনের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে। মানুষ চায় সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুক।

তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে ফাঁসির মঞ্চ, গুম, আয়নাঘর, নির্যাতন, নির্বাসন কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। যে কারণে এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও ব্যতিক্রমধর্মী একটি সংসদ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা -কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আপনারা জেনে থাকবেন, বর্তমান সংসদের প্রত্যেক দিনের প্রতিটি কার্যক্রম গ্রামের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেখেন। অর্থাৎ এই সংসদ ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এই সংসদের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা, যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ করবেন। সেটাই স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি। 

তিনি বলেন, সংসদে আমাদের ভূমিকা সর্বদাই ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। নিরপেক্ষ এবং ন্যায়বিচারই হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে প্রণিধানযোগ্য। যতদিন এই সংসদ পরিচালনার সুযোগ থাকবে, ততদিন আমি আমার ন্যায়পরায়ণতা এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট থাকব।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সরকার এবং বিরোধী দল প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য এবং সাম্য, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তাই এখন বর্তমান সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে- সেটাই জাতি প্রত্যাশা করছে।

তিনি বলেন, দেশের সকল বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ। যেকোনো রাষ্ট্রের তিনটা অঙ্গ থাকে- বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ। আইন বিভাগ থেকে আইন পাস হয়। নির্বাহী বিভাগ সে আইন প্রয়োগ করেন এবং আইনের দুর্বলতা-খুঁটিনাটি বিষয় স্ক্রুটিনাইজ করে বিচার বিভাগ। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। এখানে সরকারি দল তাদের কথা বলার যেমন সুযোগ পাচ্ছেন। ঠিক তেমনিভাবে বিরোধী দলও গঠনমূলক সমালোচনা করার অবারিত সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে- দুইটা পক্ষ থাকবে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। এ থেকে রাষ্ট্র উপকৃত হবে, জনগণ উপকৃত হবে। আমরা যদি হাউস অব কমন্স অর্থাৎ ব্রিটিশ সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বিবেচনা করি, অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি, কানাডিয়ান পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি, ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি- সেখানে প্রত্যেকটা বিষয় আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যে নীতি, সেটা নির্ধারিত হয় সংসদে।

জাতীয় সংসদ দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। সর্বোপরি এ দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তাদের দেশ গঠনের যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যই দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা- এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন হওয়ার পরে দেশের জনগণ প্রতারিত হয়। দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম হয়। এই মহান সংসদেই ১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারি এক মিনিটের ব্যবধানে একটা আইন পাস করে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ যে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল, আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল, স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং এরপর তিনি দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেন। এই গণতান্ত্রিক পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরে সর্বপ্রথম মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধাগুলো পান এবং গণতান্ত্রিক একটা বাংলাদেশ পান। পরবর্তী সময়ে সংসদে নির্বাচন হয়। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংসদ ছিল ১৯৭৯ সালের সংসদ। পরবর্তী সময়ে দুঃখজনকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশি-বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তকারীরা নির্মমভাবে হত্যার পর বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ে। বাংলাদেশ একদলীয় স্বৈরাচার শাসন ব্যবস্থায় চলে যায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। আবারো সেই বিএনপির নেতৃত্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে, শহীদ জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদ আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় ক্ষমতায় ছিল। এরশাদের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শুধু রাজনৈতিক দল নয়, আমাদের কবি-সাহিত্যিক, পেশাজীবী মানুষ, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাংবাদিক- অর্থাৎ সমাজের সচেতন সকল মানুষ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র আবার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, দুঃখজনকভাবে ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আবার নস্যাৎ করা হয়। 

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রশ্নবোধক একটা নির্বাচন। তারপর নবম জাতীয় সংসদে দুঃখজনকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিলোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় ২০১৪ সনের নির্বাচন একতরফাভাবে হয়। ১৫২ বা ১৫৩ জন ব্যক্তিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে এবং ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে ‘আমি এবং ডামি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, ছাত্র-জনতা ও আপামর জনসাধারণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, শত শত প্রাণের বিনিময়ে, হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আবার নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বা নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাণান্তকর চেষ্টায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম একটা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। 

তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছিল। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। সেই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%