১০:৫৩ এম
জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান জানিয়েছেন, তার দলকে নিয়ে যে ধরণের সংশয় ও সমালোচনা রয়েছে, তা দূর করতে হবে বিশ্বকাপ জয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই মন্তব্য তিনি শেষ-৩২ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে করেছেন।
গ্রুপ 'ই'-তে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে এবং আইভরি কোস্টকে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে জার্মানি এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ-৩২ নিশ্চিত করেছে। তবে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হারের পর, টুর্নামেন্টে তাদের অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছে আবারও প্রশ্ন।
সোমবার বোস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ডি গ্রুপের তৃতীয় দল প্যারাগুয়েকে হারাতে পারলে, শেষ-১৬-তে জার্মানির সামনে শক্তিশালী ফ্রান্সের মতো প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করতে পারে।
আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নাগেলসম্যান বলেন, "জার্মান জাতীয় দলকে নিয়ে কথা বললে লক্ষ্য থাকে প্রতিটি ম্যাচ জেতা। আগামীকালের ম্যাচ জেতা এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। প্রত্যাশার চাপ সামলানোর উপায় হলো আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, ভালো পরিকল্পনা করা এবং খেলোয়াড়দের এমন পরিকল্পনা দেওয়া যাতে তারা মাঠে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারা যেন মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারে।"
তিনি আরো বলেন, "ফুটবলে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই জয়ের ওপর নির্ভর করে। জিতলে সবকিছু নিখুঁত মনে হয়, আর হারলে সবকিছু খারাপ লাগে। তাই আগামীকাল আমাদের জিততেই হবে।"
সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ কোচ নাগেলসম্যান স্বীকার করেছেন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পরও তার দল "কৌশলগত আত্মহত্যা" করেছে। যেখানে অন্য অনেক কোচ শেষ গ্রুপ ম্যাচে পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন, সেখানে নাগেলসম্যান তার দলের প্রায় পূর্ণশক্তির খেলোয়াড়দের নামিয়েছিলেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, সেই পরাজয়ের কোনো নেতিবাচক প্রভাব দলের ওপর পড়বে না।
তিনি বলেন, "আগামীকাল আমাদের নিখুঁত পারফরম্যান্স দিতে হবে। অনুশীলনে ছেলেদের দেখে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমি নিশ্চিত, তারা আগামীকাল নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে।"
আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২,৪৪৬ মামলা করেছে ডিএমপি
প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দারুণ প্রভাব দেখানো কেই হাভার্টজ একাদশে থাকবেন এমন ধারণা করা হচ্ছে। আর্সেনালের এই ফরোয়র্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। কারণ আগের দুই বিশ্বকাপেই জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় হয়েছিল।
হাভার্টজ বলেন, "আমার মনে হয় বড় ম্যাচ খেলতেই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কেন এমন হয় আমি জানি না। তবে এসব ম্যাচে আমি খুব স্বস্তিতে থাকি।"
চেলসি ও আর্সেনালের হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করা এই ফরোয়ার্ড বলেন, "আশা করি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপেও আমি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।"
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বড় জয়ে দুটি গোল করেছিলেন হাভার্টজ। তবে ইউরো ২০২৪-এ নিজেদের মাঠে ফ্লোরিয়ান রিটজ ও জামাল মুসিয়ালাকে নিয়ে যে আক্রমণভাগ দারুণ ছন্দে ছিল, বিশ্বকাপে এখনো সেই সমন্বয় দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
চোটের কারণে হাভার্টজ ও মুসিয়ালার মৌসুম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেয়েছেন রিটজ।
হাভার্টজ বলেন, "আমরা খুব কাছাকাছি আছি। কোথায় উন্নতি করা যায়, কীভাবে আরও ভালো হওয়া যায়, এসব নিয়ে আমরা নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা তিনজনই জানি আমাদের পূর্ণ সামর্থ্য এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি এবং সেটাই করতে চাই।"
তিনি আরো বলেন, "আগামীকালের ম্যাচের আগে আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে জিততে পারব। আমরা তিনজনই এর আগে বড় মঞ্চে খেলেছি এবং নিজেদের উপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।”
আরও পড়ুন: সাজেক সড়কের অবরোধ সপ্তম দিনে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন