বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:৩৪ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ঘর দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) উপজেলা ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ঘরদুটি উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রুটি গ্রামের বাসিন্দা ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রউফ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ঘর অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শেষে উপজেলা প্রশাসন ঘরদুটি দখলমুক্ত করে।
ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য। কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে এসব ঘর দখল করে রাখলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জন রোগীর শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৫ শিশুর। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু ঘটেনি।
এখন পর্যন্ত গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশে হামের উপসর্গের কারণে মোট ৬৩১ জন শিশু মারা গেছে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মানে হলো, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৭২৪ জন শিশু মারা গেল।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৫৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৬৫। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০২টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, অপরদিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৭৭টি শিশু।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ এনে তাঁর শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে বিদায়ী এই জেলাপ্রশাসকের বিরুদ্ধে নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। এদিকে ঝাড়ু মিছিলের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ‘চুপিসারে’ তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এখন তাঁর নাম ‘দুর্নীতির বরপুত্র’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সরকারিভাবে গরিব, দুস্থ ও অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য আসা বিভিন্ন অনুদান ও বরাদ্দের টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে লোপাট ও নয়ছয় করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দের টাকা এবং বিভিন্ন খাতের তহবিল থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
দেশে তেল সংকটের সময় সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং কালোবাজারির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ লোপাট করার অভিযোগ আনা হয়েছে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে।
বিদায়ী জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ও সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ সাগর স্কুল মাঠে মেলার অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি এই মেলা পরিচালনার অনুমতি দেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এই ঘটনাটি বরিশালজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
আজ দুপুর ১২টায় শত শত ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা খাইরুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হাতে ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দুর্নীতিবাজ এই ডিসির অনতিবিলম্বে বিচার করতে হবে এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার করতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দুপুরের দিকে কার্যালয়ের সামনে ঝাড়ু মিছিল ও গণ-অসন্তোষের খবর পেয়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদায়ী জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন চুপিসারে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রামীণ কৃষির ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে পাওয়ার টিলার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে এই পাওয়ার টিলার বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে ব্র্যাকের রামগতি উপজেলা কার্যালয়ে (লক্ষ্মীপুর-১ অঞ্চল) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ। অনুষ্ঠানে সংস্থাটির দাবি কর্মসূচির এলাকা ব্যবস্থাপক নাজমুল হোসেন মজুমদার, প্রগতি কর্মসূচির এলাকা ব্যবস্থাপক মো. হাফিজুর রহমান, রামগতি শাখা ব্যবস্থাপক মো. রইস উদ্দিন এবং রামদয়াল শাখার ব্যবস্থাপক শেখর সিংহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ব্র্যাকের রামগতি শাখা ব্যবস্থাপক মো. রইস উদ্দিন জানিয়েছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসারে ব্র্যাক এই কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় উপজেলার চররমজি এলাকার রোকসানা আক্তার এবং আবদুল মন্নান দম্পতির মধ্যে বিনামূল্যে পাওয়ার টিলার বিতরণ করা হয়েছে। তদুপরি, তাদেরকে এটির সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমান কৃষি খাতে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্র্যাকের উদ্যোগ টেকসই কৃষির বিকাশে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। ব্র্যাকের এই কর্মসূচি গ্রামীণ কৃষিতে প্রযুক্তির প্রভাব ফেলতে, উৎপাদন বৃদ্ধি করতে এবং কৃষি শ্রমিকদের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানায় মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ নেতা (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক) রবিউল ইসলাম রবিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল আলীম আসামিকে আদালতে হাজির করে আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ আসামির গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এ আসামি ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এ আসামি মিরপুর বিআরটিএর সামনে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা সেখান ছাত্রজনতার ওপরে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে। যার ফলে ভুক্তভোগী মাহবুব সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।
তারা আদালতে বলেন, এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। ফের নতুন এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম জানান, আমরা আদালতে বলেছি, এ আসামির পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকলে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে রুল জারি করেছেন।
সেটি আদালতে জমা দেওয়ার পরেও আজকে একটি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের রুলস ভায়োলেন্স হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ সালের ১৭ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময়ে মিরপুরের বিআরটিএর সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মাহবুব হাসান মামুন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাহীনুর ওই বছরের ২১ নভেম্বর মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তারের আবেদনে পুলিশ বলেন, উক্ত আসামি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সন্দিগ্ধ এ আসামি ছাত্রলীগ করার কারণে এজাহারনামীয় আসামিসহ ছাত্র জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দমনের জন্য গুলি করে ভিক্টিমকে হত্যা করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ