প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানায় মাহবুব হাসান মামুন হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগ নেতা (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক) রবিউল ইসলাম রবিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল আলীম আসামিকে আদালতে হাজির করে আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ আসামির গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, এ আসামি ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এ আসামি মিরপুর বিআরটিএর সামনে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা সেখান ছাত্রজনতার ওপরে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে। যার ফলে ভুক্তভোগী মাহবুব সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।
তারা আদালতে বলেন, এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। ফের নতুন এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
শুনানি শেষে আইনজীবী ফয়সাল ইসলাম জানান, আমরা আদালতে বলেছি, এ আসামির পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে রিট করেছিলাম। উচ্চ আদালতের একটি বেঞ্চ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকলে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে রুল জারি করেছেন।
সেটি আদালতে জমা দেওয়ার পরেও আজকে একটি হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের রুলস ভায়োলেন্স হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২৪ সালের ১৭ জুলাই ছাত্র আন্দোলনের সময়ে মিরপুরের বিআরটিএর সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান মাহবুব হাসান মামুন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাহীনুর ওই বছরের ২১ নভেম্বর মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়।
গ্রেপ্তারের আবেদনে পুলিশ বলেন, উক্ত আসামি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সন্দিগ্ধ এ আসামি ছাত্রলীগ করার কারণে এজাহারনামীয় আসামিসহ ছাত্র জনতার যৌক্তিক আন্দোলন দমনের জন্য গুলি করে ভিক্টিমকে হত্যা করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন