বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:১১ পি.এম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া দুই কিশোরীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীর মধ্যে একজন হলো চৌদ্দগ্রামের কাশিনগর এলাকার বসন্তপুর গ্রামের মহিন উদ্দিনের মেয়ে মাহিমা ইসলাম মাহি (১২) এবং অন্যজন হলো যুগিরকান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে তানিসা আক্তার (১৪)।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন) লুৎফর রহমান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহিমা ও তানিসা কাশিনগর এলাকার আল-আমিন মহিলা মাদরাসায় যাওয়ার জন্য নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তারা মাদরাসায় পৌঁছায়নি এবং বাড়িতে ফিরে আসেনি। ফলে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজ করতে থাকে। পরে সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
এ ঘটনার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে নিখোঁজ দুই কিশোরীর সন্ধানে পুলিশ কার্যক্রম শুরু করে। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা পুলিশ ও কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান চালায়।
অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে কিশোরী দুটির অবস্থান কক্সবাজারে শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের সহায়তায় সমুদ্রসৈকত এলাকার গ্রিন প্যারাডাইজ হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষ থেকে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী দুজন জানায়, তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কক্সবাজার চলে যায়।
প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম শেষে উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ মো: রফিকুল ইসলাম। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক। সরকারের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কৃষি প্রধান উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে।
গতকাল সরকারী এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের খবরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উৎসবের পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন পর একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ পেলো প্রতিষ্ঠানটি। জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দেশ বরেণ্য অর্থনীতিবিদ প্রফেসর এম রফিকুল ইসলাম স্যারকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভূমিমন্ত্রী জনাব মিজানুর রহমান মিনু এবং রাজশাহী -৩ আসনের এমপি এ্যাড মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনকে জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতা নজরুল হুদা এবং আব্দুস সালাম মোহাম্মদ বিপ্লব অভিনন্দন জানিয়েছেন। রাজশাহী নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দও অভিনন্দন জানান। আশা করা হচ্ছে, তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষক বান্ধব এই ব্যাংক আরও উন্নতি করবে ইনশাল্লাহ। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাবে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চান্দিনায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ অটোচালকের বিরুদ্ধে উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
রাতের সময় অভিযুক্ত অটোচালক আল আমিন (৪০) কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃত আল আমিন দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার গ্রামের বজলুর রহমানের সন্তান। তিনি চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর ভাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি আল আমিনের ভাড়া বাসার সামনে অটোরিকশায় বসে ছিল। ওই সময় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে আল আমিন কৌশলে শিশুটিকে তার বাসার কক্ষে নিয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে শিশুটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং আল আমিনকে আটক করে জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
চান্দিনা থানার ওসি নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত আল আমিনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একে একে দশটি সন্তানকে নিজ হাতে কবরে শায়িত করেছেন, আর বছর খানেক আগে চিরতরে ছেড়ে চলে গেছেন তার একমাত্র জীবনসঙ্গী স্বামী।
চরম শোক, নিঃসঙ্গতা এবং দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বৃদ্ধা মাহফুজা খাতুন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই বিধবা বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই। সরকারি স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় না থাকায় প্রতিবেশীদের সাহায্য এবং অনাহার-অর্ধাহারেই দিন পার করছেন তিনি।
মাহফুজা খাতুনের জীবনের ইতিহাস দুঃখ ও শোকের এক জীবন্ত দলিল। তার গর্ভে জন্ম নিয়েছিল মোট ১০টি সন্তান, যার মধ্যে ৬ জন ছেলে এবং ৪ জন মেয়ে; কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শৈশব ও বিভিন্ন বয়সে একে একে তার সব সন্তানই মৃত্যুবরণ করেছে। মাতৃত্বের সব অবলম্বন হারানোর পর বছরখানেক আগে তার স্বামীও মারা যান। ফলে, এই বৃদ্ধ বয়সে তার খবরাখবর নেওয়ার কিংবা একমুঠো অন্ন মুখে তুলে দেওয়ার মতো কোনো নিকটাত্মীয় বা আপনজন আর রইল না। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি অভিভাবকহীন অবস্থায় একা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নির্জন স্থানে ভাঙাচোরা, ঝরঝরে এবং স্যাঁতসেঁতে একটি টিনের ঝুপড়িতে মাহফুজা খাতুনের বসবাস। ঘরের টিনগুলোতে মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি চুইয়ে পড়ার উপক্রম হয়। ছাউনি ও বেড়া প্রায় ধ্বংসের মুখে। বয়োবৃদ্ধ শরীরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত ঘরে একা বসবাস করা সাধারণ মানুষের জন্যও চরম ভীতি ও কষ্টের। যেকোনো দুর্যোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় আশ্রয়টুকু ধসে পড়ার আতঙ্কে কাটে তার প্রতিটি মুহূর্ত।
চোখের জলে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বৃদ্ধা মাহফুজা খাতুন জানান, ক্ষুধা নিবারণের জন্য নিয়মিত খাবার জোটানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো কখনো প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে তরকারি বা রান্না করা খাবার দিলে তা খেয়ে ক্ষুধা মেটান। সাহায্য না পেলে শুধু লবণ-মরিচ দিয়ে ভাত মেখে অথবা শুকনা খাবার খেয়েই দিন পার করেন।
তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আত্মীয়-স্বজন বা আশপাশের মানুষের দেওয়া ফিতরা ও জাকাতের সামান্য অর্থ দিয়ে কয়েক মাস কোনোমতে চালিয়ে নেন; কিন্তু সেই সাহায্য ফুরিয়ে গেলে আবার অন্যের দরজায় হাত পাততে হয়।
বৃদ্ধা মাহফুজার অভিযোগ, জীবনের শেষপ্রান্তে এসে চরম দুঃসময়েও তিনি কোনো ধরনের স্থায়ী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাননি। তার নামে এখনো পর্যন্ত কোনো বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড ইস্যু করা হয়নি। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেবল কিছু চাল বা শুকনো খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হলেও তা তার দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার জন্য খুবই অপ্রতুল। এমন হৃদয়বিদারক বাস্তবতায় উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে অবিলম্বে একটি স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা করা ও বসবাসের উপযোগী একটি নিরাপদ ঘর নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন অসহায় এই নারী।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ইতিবাচক আশ্বাস দিয়ে বলেন, "সন্তান ও স্বামী হারিয়ে একজন বয়োবৃদ্ধ নারীর এভাবে কষ্টে দিনযাপন করার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় পৃথক স্থান থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খারুয়ালী ও উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রাম থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে দুইজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন এবং অপর দুইজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলের দিকে উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের দুটি পৃথক স্থানে দুই ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁও গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে হাফেজ আলী (৬০) এবং মাহতাব আলীর ছেলে ছফির আলী (৩৮)।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন সকালে কয়েকজন শিশু মাদরাসায় যাওয়ার সময় মাহতাব আলীর বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে ছফির আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
অন্যদিকে, একই দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা বসতঘরের আড়ার সঙ্গে হাফেজ আলীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে, বুধবার সকালে খারুয়ালী গ্রামে মাঠে গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে একটি পল্লী বিদ্যুতের সচল লাইনের তারে অসাবধানতাবশত জড়িয়ে পড়েন ধনু আকন্দ (৬০)। দূর থেকে ভাইকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে বাঁচাতে দ্রুত এগিয়ে আসেন তার আপন চাচাতো ভাই শাহাবুদ্দিন আকন্দ (৬৫)। কিন্তু উদ্ধার করতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ফলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। নিহত ধনু আকন্দ ওই গ্রামের মজিদ আকন্দের ছেলে এবং শাহাবুদ্দিন আকন্দ আব্দুল আজিজ আকন্দের ছেলে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পৃথক ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খারুয়ালী এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত দুইজনের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উদ্ধারকৃত অপর দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই মরদেহগুলোও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ