১০:১৫ পি.এম
জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্য একদলীয় শাসন কায়েম করা নাকি আওয়ামী লীগকে ফিরে আনা, এই প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।রবিবার সংসদে বাজেট আলোচনায় রংপুর-২ আসনের এই সংসদ সদস্য (এমপি) বিষয়টি উল্লেখ করে জানান, ‘আপনারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কথাই বলেছেন। আমি শুধু একটা বিষয় উল্লেখ করছি, ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। তাহলে এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করতে চান?’এছাড়া এটিএম আজহার বলেন, বিএনপি সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাইছে। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, ‘আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চান? আমি মনে করি- আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাইছেন। কারণ গত চার মাস ধরে আপনারা একজন লোকও খুঁজে পাননি যে প্রেসিডেন্ট হবে?’সরকারি দলের উদ্দেশ্যে আজহার আরও বলেন, ‘আপনাদের ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ হয়, তাকেই রাখার চেষ্টা করছেন। বিএনপি যখন এত বড় দল, তখন তাকে এত পছন্দ হয় কেন? কোন দিক থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাকে রাখতে হবে?’বক্তব্যের শুরুতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামী নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী হাসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা এবং মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করে আজহার বলেন, এই ব্যক্তিদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাদের জুডিশিয়ালি ক্লিয়িংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, এদের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন।একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়ে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রিভিউতে খালাস পেয়েছেন। আজহার বলেন, ‘এই বাজেট অত্যন্ত উচ্চাভিলাসী এবং ঋণ নির্ভর। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত রয়েছে।’ প্রস্তাবিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।এদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ অনিশ্চয়তা, ঋণের অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ। বাজেটে পরিচালন ব্যয় ৬ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধের ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড সরকারের আর্থিক সক্ষমতার উপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে।’যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির উত্তরণে সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ ফিনান্সিয়াল ইন্স্ট্রুমেন্ট চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।আজহার বলেন, ‘সুদ একটি বড় পাপ। সুদের জর্জরিত রয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। অধিকাংশ মুসলিমের দেশে সুদ আমরা চালাতে পারি না। সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক সুকুক ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্পটি বিবেচনা করতে পারি। যদি বাংলাদেশকে আমরা সুদমুক্ত করতে চাই, এক বছরে দুই বছরে পারবো না। তবে যদি প্রচেষ্টা শুরু করি, ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। এটি সবার জন্য কল্যাণকর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন