মোঃ উজ্জ্বল মিয়া,নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
১০:০২ এম
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি পায়ে হেঁটে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের আয়োজক, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের আপ্যায়নে অংশ নেন। ঘুরে দেখেন প্রতিমা, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও পূজার সার্বিক আয়োজন।
পরিদর্শনকালে পৌর শহরের ঋষিপাড়া পূজামণ্ডপে শিশুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় শিশুদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সেখানে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি শিশু, নারী ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে হাসিমুখে সেলফি তোলেন। তাঁর এমন আন্তরিক উপস্থিতি পূজামণ্ডপে আগত মানুষের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়।
পূজামণ্ডপগুলোতে ঢাকের বাদ্য, ভক্তদের প্রার্থনা এবং প্রতিমা দর্শনে আসা মানুষের পদচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আবহও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। তাঁর এই শুভেচ্ছা বিনিময় ও মণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুর পৌর শহরে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দঘন পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ৪নং জারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মো. হানিফ উদ্দিন রানা। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপগুলোতে অনুদান প্রদান করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজ ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় পূজার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং পূজার আয়োজন সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে হানিফ উদ্দিন রানা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করে জারিয়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন। পাশাপাশি মাদক ও জুয়া নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
তার এ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার করিমপুর ও জগদল ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানের পাকা সড়কের অবস্থা বেহাল। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে এসব কাজে মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের নিয়ে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সড়কের বেহাল অবস্থা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং কয়েকটি ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর তানোরে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে (১৪ বছর ১০ মাস) উত্যক্ত করা ও পরবর্তীতে জোরপূর্বক অপহরণের অভিযোগে চারজন নামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনের বিরুদ্ধে তানোর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অপহৃত ছাত্রীর পিতা মোঃ রাকিবুল ইসলাম (৪২) বাদী হয়ে এই এজাহারটি দায়ের করেন।
এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার বাবুপুর চালকিপাড়া গ্রামের মোঃ সাকিবের (১৮) এবং তার পিতা মোঃ নজরুল ইসলাম (৬০)। এছাড়া অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন সাকিবের দুলাভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৫) ও বোন মোসাঃ নাজরিন (২৮), যারা তানোরের কলমা গ্রামের বাসিন্দা।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রীটি স্থানীয় কলমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। প্রধান অভিযুক্ত মোঃ সাকিব তানোরের কলমা গ্রামে তার বোন ও দুলাভাইয়ের বাড়িতে থেকে স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করত। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সাকিব প্রায়শই ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করত। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রীর পরিবার সাকিবসহ তার আত্মীয়দের উত্যক্ত না করার জন্য নিষেধ করে। কিন্তু অভিযুক্তরা তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ০৬:০০ ঘটিকার সময় তানোরের ১নং কলমা ইউনিয়নের কলমা গ্রামস্থ জনৈক মোঃ তায়েজ উদ্দিনের বসতবাড়ির পূর্ব পার্শ্বের পাকা রাস্তার ওপর থেকে সাকিব ও তার সহযোগীরা মাইক্রোবাসযোগে ওই ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে ও জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তানোরের কলমা গ্রামের মোঃ মাইনুল ইসলাম (৪৮) ও মোঃ মুনসুর রহমান (৫৫)-সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ছাত্রীর বাবা মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, মেয়েকে নানা স্থানে খোঁজাখুঁজি ও উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তারা দ্রুত মেয়েকে উদ্ধার এবং আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তানোর থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত এজাহারের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আসামীদের গ্রেফতার ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করে ক্রেতাদের সংগ্রহ করে তারপর মাদক বিক্রি করা হচ্ছিল। কার্ডের কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করা যায়। সেখানে অর্ডার করলে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে মাদক কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা পাওয়া যায়। এই অভিনব কৌশলে মাদক ব্যবসার অভিযোগে সম্প্রতি এক ড্রপআউট শিক্ষার্থী ধরা পড়েছে, যিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) জানায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় চারশো শিক্ষার্থী গোপন গ্রুপ থেকে মাদক কিনছেন। এদিকে, গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।
ওই ভিজিটিং কার্ডের এক পাশে লেখা ছিল "ক্রেভিংস"। অন্যপাশে কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি ওয়েবপেজ আসতো। সেখানে "ক্রেভিংস" লেখা গোপন টেলিগ্রাম পেজের লিংকও ছিল। নিচে ওয়েবপেজে লগইন-রেজিস্ট্রেশনের অপশন ছিল। টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রবেশ করলেই সাবস্ক্রাইব করার অপশন আসতো। এরপর সেখানে অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগের অপশন ছিল, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী মাদকদ্রব্যের অর্ডার করা যেত।
সাইবার প্যাট্রোলিংয়ে ডিএনসির নজরে আসে ওই গোপন গ্রুপটি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রুপের অ্যাডমিনকে খুঁজে বের করা হয়। এরপর রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম নামের ওই অ্যাডমিনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল সংখ্যক ভিজিটিং কার্ড এবং মাদক বিক্রির আলামত।
সাইম ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে পুরো চিত্রটি সামনে আসে। জানা যায়, গ্রেফতার সাইম ২০২৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হন এবং দুই বছর পর ড্রপআউট হন। আইটি সম্পর্কে তার জানাশোনা কাজে লাগিয়ে অভিনব কায়দায় মাদক বিক্রি শুরু করেন সাইম।
ডিএনসি জানিয়েছে, সাইমের টেলিগ্রাম গ্রুপ "ক্রেভিংসে" ৩৯৭ সাবস্ক্রাইবারের মধ্যে বেশিরভাগই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি তাদের কাছেই মাদক বিক্রি করতেন।
ডিএনসির ঢাকার বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান সময় সংবাদকে বলেন, তিনি ৬ মাস ধরে এই মাধ্যমের মাধ্যমে মাদক বিক্রি করছিলেন। টার্গেট ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। কার্ডের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে তারা একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করেছিলেন, যা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য ছিল।
এদিকে, ঢাকা বিমানবন্দরে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি কুশের চালান ধরা পড়েছে। এ নিয়ে ডিএনসি জানায়, দেশে কুশের বাজার তৈরির চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র। সেই চক্রের কাছ থেকে সাইম কুশ কিনেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা সেই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি শনাক্ত করেছি। দেখা গেছে ওই চ্যানেলে ২৫০ এর মতো শিক্ষার্থী আছেন। বর্তমানে সাইম ইসলামের মাধ্যমে তারা মাদক কেনাবেচা করত। মামলা মাত্র রুজু হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত আছে, আরও কেউ আছে কি না, তা খুঁজে বের করা হবে।
গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে ডিএনসি গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বলেও তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ