০৪:৫৩ পি.এম
গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের, উন্নয়ন সংস্থার, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেন, শিশুর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সমাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের মৌলিক প্রশ্নের সাথে সংশ্লিষ্ট।
অথচ, বিদ্যমান আইনি ও নীতিমালার দুর্বলতা এবং সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার ফলে গৃহকর্মী শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় শিশু শ্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা আবশ্যক।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুর অধিকার ও সুরক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এ সব কথা বলেন তারা। চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্মের (ক্লেপ) সহযোগিতায় উন্নয়ণ সংস্থা অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার।
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
এএসডি’র নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তৃতা করেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপপরিচালক এম রবিউল ইসলাম, এডুকো বাংলাদেশের চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন কর্মসূচির ব্যবস্থাপক আফজাল কবির খান, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন, এএসডির প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউকেএম ফারহানা সুলতানা এবং এএসডির কোঅর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমান প্রমুখ।
সংলাপে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন, শিশু আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পেনাল কোডসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের আইনগত সুরক্ষা প্রদানে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুশ্রম নিরসনে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় গৃহকর্মীর কাজও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতির আলোকে গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
সরকার দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সচিব মো. আব্দুর রহমান তফাদার বলেন, গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গৃহকর্মী কল্যাণ ও সুরক্ষায় মনিটরিং কমিটি গঠনের কাজ চলছে। এই সেক্টরে কর্মরত সকল সরকারি-বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর জন্য সবার সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯৯
জনগণ সচেতন হলেই আমাদের উদ্যোগ সফল হবে। সংলাপের মাধ্যমে গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে এম এ করিম বলেন, শিশুরা তাদের আনন্দের শৈশব হারিয়ে ফেলছে, কাজের মধ্যে যুক্ত হয়ে। গৃহকর্মীর কাজকে এখনও শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০০৭ সালের পর গৃহকাজে নিয়োজিত শিশুদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়নি। আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নির্মূল করা হবে। কিন্তু আমরা তা পারেনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু গৃহকর্মীর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লাগসই আইন প্রণয়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন