০৭:৪৬ এম
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো, রোববার (২৬ জুলাই) ইরানের প্রতি নতুন কোনো আক্রমণ চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে তেহরান জানিয়েছে যে, তারা পাল্টা সামরিক অভিযান থেকে বিরত রয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাত কার্যত অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতিকে ভেঙে দিলেও, দুই দেশকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক কার্যক্রমে জোরদার হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, 'যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ হামলা বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ ইরানও পাল্টা হামলা চালাবে না।' এর আগে, প্রতিদিনের হামলার জবাবে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছিল তেহরান। তবে গত দু'দিন ধরে উভয় পক্ষের এই সামরিক বিরতি নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে চান। তার দাবি, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, এমন ধারণাও নাকচ করেন।
আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
ফক্স নিউজকে মাইক ওয়াল্টজ বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ দিচ্ছেন।' প্রেসিডেন্ট এর আগেই উল্লেখ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে গত কয়েক সপ্তাহ, বিশেষ করে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচকরা সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস দুটি আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ওমানের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছানোর পর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে বোমাবর্ষণ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তির সম্ভাবনা এখনও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আটকা পড়ে আছে। ইরান বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, অতীতেও আলোচনার সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অস্ট্রিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ওআরএফ-কে জানান, 'কাতার ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে।' তবে তিনি দাবি করেন, অতীতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বারবার 'বিশ্বাসঘাতকতার' শিকার হয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসার আশঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন।
তবে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীর গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ মজুত রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।'
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা বন্ধ রেখেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া বলেন, 'আমাদের কৌশল মূলত প্রতিশোধমূলক ছিল। আমরাও আপাতত সেই অভিযান বন্ধ রেখেছি।' তবে তিনি সতর্কতা হিসেবে বলেছিলেন যে, 'যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে।'
এদিকে, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, 'ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলা একটি গুরুতর ঘটনা এবং এটি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।'
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরাঘচি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে তিনি হামলার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তবে হামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতি বা ইরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তেহরান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন