প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্যে কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা থেকে খবর আসে যে ভারতের পেট্রাপোল এবং বাংলাদেশের বেনাপোল দুই দেশের প্রধান স্থলবন্দর। তবে, এই দুই বন্দরের সীমান্ত দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। ভারতের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকেও ট্রাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
ইতিহাস অনুসারে, আগে স্বাভাবিক সময়ে পেট্রাপোল থেকে বেনাপোল বন্দরে বিপুল পরিমাণ পণ্য আসত। তখন দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০টি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করত। বাংলাদেশ থেকেও প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হতো। বর্তমানে ভারতের রপ্তানি কমে ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে দৈনিক রপ্তানি ১০০ ট্রাকের নিচে নেমেছে।
২০২৬ সালের ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ কর্মদিবস ছিল। এই সময়ে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে তিন হাজার ৩৮টি ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আমদানি হয় মাত্র ৭৫৩ ট্রাক পণ্য। ব্যবসায়ীদের মতে, এ বাণিজ্য সংকটের মূল কারণ দুদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন হওয়ার পর উভয় দেশের তরফ থেকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের উপরে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা উঠে। ভারত যেমন স্থলবন্দর দিয়ে একাধিক পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, বাংলাদেশও একইভাবে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
যেমন, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ভারত থেকে বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশের সরকার। বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির সুবিধা পুরোপুরি বাতিল করা হয়। এই পরিস্থিতির কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মীজানুর রহমান খান এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, স্থলপথে যেসকল পণ্য আমদানিতে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করতে হবে। এজন্য সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান যে, বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রদূতও ঢাকায় তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সবচেয়ে বড় আশার কথা হলো, এতদিন বন্ধ থাকার পর ট্যুরিস্ট ভিসার কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। এর ফলে দুদেশের সম্পর্ক খুব দ্রুত স্বাভাবিক হবে। পাশাপাশি, দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন