১০:৫৩ এম
ইরানের সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টা নিয়ে আতঙ্কের কারণে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গোপন সামরিক ফ্লাইটের মাধ্যমে তুরস্ক থেকে যুক্তরাজ্যে উড়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল যে, ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানেই তুরস্ক ছাড়ছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে ট্রাম্প আঙ্কারায় কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বিমান নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে অপ্রত্যাশিতভাবে ওঠেন। ফলে নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইরানের হুমকির প্রেক্ষিতে ট্রাম্প কাতারের উপহার নেয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে তুরস্ক ছাড়েননি; মার্কিন গণমাধ্যমেও এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। ট্রাম্প টার্কিতে যাওয়ার মুহূর্তে সেই নতুন বিমানটি ব্যবহার করেছিলেন। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং তুরস্ক ছিল ইরানের প্রতিবেশী দেশ।
আরও পড়ুন: আবারও সাংবাদিকের ওপর খেপলেন ট্রাম্প, নেপথ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন
আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, তিনি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭ বিমানে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানিয়েছিলেন নতুন বিমানটি সেখানে থাকা মার্কিন সেনাদের জন্য ঘুরে দেখার সুযোগ হয়ে উঠবে।
তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ার পর ট্রাম্পকে গোপনে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে নেওয়া হয় এবং অন্য একটি ছোট বিমানে স্থানান্তর করা হয়। তা ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর সি-৩২এ।
সম্ভবত একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণে এই বিভ্রান্তিমূলক অভিযানটির আয়োজন করা হয়। ২০০০ সালের একটি ঘটনার সঙ্গে বর্তমান অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে; তখন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে পাকিস্তানে নিয়ে যেতে একটি চিহ্নবিহীন সরকারি বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল এবং আসল এয়ার ফোর্স ওয়ানকে ডিকয় হিসেবে পাঠানো হয়েছিল।
এবার ট্রাম্পের সঙ্গে সফররত সাংবাদিকগণের পাশাপাশি ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ছিলেন। তাদের বিমানের প্রেস কেবিনের জানালার শেড বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। সাংবাদিকদের ধারণা ছিল, প্রেসিডেন্ট ওই বিমানেই আছেন।
আরও পড়ুন: ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর গ্রেফতার
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, কেন জানালার শেড বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। সেসময় ট্রাম্প একটিবার জবাব দেন, 'সম্ভবত আমরা একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলাম।' এরপর তিনি বলেন, 'কিন্তু আমি গেলে তোমরাও যাবে, তাই তো?'
ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ রাত ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। কিছুক্ষণ পরেই পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছানোর বিষয়টিও লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সি-৩২এ থেকে ট্রাম্পকে আবার কিভাবে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে নেয়া হয়েছিল সেটা পরিষ্কার নয়।
সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সিঁড়ি নিচে নেমে যান। হাতের ইশারা করার সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এগিয়ে যাননি। পরে কিছু সময় মার্কিন সেনাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করার পর তিনি কাতারের নতুন বিমানে চড়ে বসেন।
যাত্রীদের গোপন তৃতীয় বিমানে ট্রাম্পের যাত্রার বিষয়ে জানাতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং মন্তব্য করেন, কাতারের দেওয়া বিমানটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে সাত, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন
তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু রয়েছে যারা তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হুমকি মোকাবিলা করার জন্য আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি উপায় আমরা ব্যবহার করি।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন