প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। ১৯৯১ সালের সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী রুখে দেন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসকে। আবদুর রহমান বিশ্বাস পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে বিএনপির ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন ছিল। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সদস্য সংসদ সদস্য ছিলেন। ওই সময়ে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি। সেদিনের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬০ জন ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি সেই নির্বাচন বয়কট করেছিল। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। অন্য কিছু দলের সংসদ সদস্যরাও ভোট দেননি। স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও مেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দিয়েছেন। গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হননি। ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন। এবার রাজনীতির নতুন মোড়ে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) আলি আহমদকে প্রার্থী দিয়েছে। আলি আহমদের পক্ষে মনোনয়নপত্র ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটি এখনও তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ৩৫ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা। তবে সাধারণ নির্বাচনের মতো দেশের সাধারণ ভোটাররা এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি জনগণের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন। ৩৫০ আসনের সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিএনপির ২৪৭টি আসন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং এনসিপির ৮টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছে ৩টি আসন। এছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন। এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে কত ভোট পাবেন এবং কে জয়ী হবে, তা নির্ধারণে সংসদের দলীয় আসনসংখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। যেহেতু সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই বিএনপির দলীয় প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক। তিনিই হবেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন