ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

হুমকির ভাষা তেহরান সহ্য করবে না: আরাগচি


হুমকির ভাষা তেহরান সহ্য করবে না: আরাগচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতিস্বীকার করবে না এবং হুমকির ভাষা মেনে নেবে না।

কিরগিজস্তানে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকের ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের উদ্ধৃতি দিয়ে আরাগচি জানিয়েছেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনা বর্তমানে চলমান ও অব্যাহত রয়েছে, এবং সুযোগ পেলেই আমরা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে থাকি।

আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ১৮ লাখ বাংলাদেশির ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

তিনি আরো বলেন, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে ইরানের স্বার্থ সংরক্ষণ আমাদের মৌলিক নীতির অংশ, এবং আমরা এ বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইরানি জনগণের বৈধ লক্ষ্য ও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

সূত্র: আলজাজিরা।

আরও পড়ুন: ডেপুটি স্পিকার তরুণদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়ে অস্বীকার করল মোদি সরকার, প্রমাণ দিলেন রাহুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১১ এম


শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়ে অস্বীকার করল মোদি সরকার, প্রমাণ দিলেন রাহুল

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পেলেটবিদ্ধ শিক্ষার্থী সাহিল লোছাবকে পাশে নিয়ে তিনি দাবি করেন, সরকার এ বিষয়ে সত্য গোপন করছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, সরকার মিথ্যা বলা বন্ধ করুক। তারা ভারতের ভবিষ্যতের ওপর গুলি চালিয়েছে। এ সময় তিনি সাহিলের মুখ, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে থাকা পেলেটের ক্ষতচিহ্ন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

গত ২০ জুলাই দিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশি অভিযানে পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যদিও আহত বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী চিকিৎসা প্রতিবেদনে পেলেট আঘাতের প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

১৯ বছর বয়সী সাহিল লোছাব দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের (এসওএল) শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভে জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পেলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হন।

রাহুল গান্ধী বলেন, আমার ভাই সাহিল জাতীয় পতাকা ওড়ানোর সময় পেলেটের আঘাতে আহত হয়েছে। তার ডান চোখে আঘাত লেগেছে এবং বর্তমানে সে সেই চোখে দেখতে পাচ্ছে না। সে আদৌ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সাহিলের মা জ্যোতি জানান, পেলেট তার ছেলের ডান চোখ এবং শরীরের উপরের অংশে বিদ্ধ হয়েছে। পরে তাকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয় এবং মঙ্গলবার তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর নাজাফগড়ের বাসিন্দা সাহিল পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে পরিবারের আর্থিক সহায়তা করতেন। তার স্বপ্ন ছিল দিল্লি পুলিশে যোগ দেওয়া। তিনি হেড কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং স্টাফ সিলেকশন কমিশনের (এসএসসি-সিজিএল) গ্রুপ-বি ও গ্রুপ-সি পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সাহিলের মতো হাজারো শিক্ষার্থীকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার কারণে মারধর ও হামলার শিকার হতে হয়েছে। তাদের অপরাধ কী ছিল? প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি জানানো?

তিনি আরও বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলি চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং এই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন রাহুল গান্ধী। তার ভাষায়, যিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্বে আছেন, তাকে অপসারণ করতে হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

এদিকে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকার বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ পুনরায় অস্বীকার করেছে। তবে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য সামনে এসে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২২ এম


স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ফ্রান্সের পর এবার স্পেন ভয়াবহ দাবানলের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদ ও তার আশপাশের বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া একাধিক আগুন একত্রিত হয়ে একটি বড় ধরনের দাবানলে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় শুক্রবার (২৪ জুলাই) স্পেন সরকার মাদ্রিদ ও পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে দাবানল মোকাবিলার জন্য জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। স্পেনের ইতিহাসে দাবানলের কারণে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এটি প্রথমবার।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, হাজারো দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল অবস্থায় চলে যাচ্ছে।

স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশের কয়েকজন নাগরিক জানিয়েছেন যে, দাবানলের ক্ষতির কারণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশিদের পরিচালিত অনেক রেস্তোরাঁর ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির হতাহত হওয়ার খবর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্পেন সরকারের বরাত দিয়ে জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, দাবানলের শুরু হয় স্যান মার্তিন ও ভিয়া দেল প্রাদো এলাকায়। শুক্রবার আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বিস্তৃত হয়। পরে, তা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে ছড়াতে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

জার্মান সংবাদমাধ্যম টাগেসশাউয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, দাবানলের ফলে মাদ্রিদ-সংলগ্ন এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের সংকটের কারণে অনেক মানুষ স্কুল ও জিমনেশিয়ামের মেঝেতে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থা অনুযায়ী চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান চাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিস দুটি বিমান পাঠাতে সম্মতি জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা প্রতিবেদন দিয়েছেন যে, শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। কিন্তু প্রবল বাতাসের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল। তবুও, সব ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি, স্পেনের সামরিক বাহিনীর দুর্যোগ মোকাবিলা ইউনিটের সহায়তায় উদ্ধার এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচারকারীরাই এখন কার্ড পেতে আগ্রহী: এমপি খোকন তালুকদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ এম


ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচারকারীরাই এখন কার্ড পেতে আগ্রহী: এমপি খোকন তালুকদার

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, "যারা ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিতর্ক করেছেন এবং অপপ্রচার চালিয়েছেন, তারাই এখন ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।"

তিনি শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ডাসার উপজেলার পূর্ব খান্দুলী এলাকায় সংসদ সদস্যের বাসভবনের হলরুমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

খোকন তালুকদার আরও বলেন, "শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা করবেন না। সত্যের পাশে থাকুন। যা ভালো, তাকে ভালো বলুন। আর যা খারাপ, তা অবশ্যই সমালোচনা করুন। গঠনমূলক সমালোচনা আমরা শুনতে বাধ্য।"

তিনি বলেন, "আমরা যে দলই করি না কেন, যেভাবেই থাকি না কেন—সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।"

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাসেদুল ইসলাম, ডাসার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদার, কালকিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হাওলাদার, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান তালুকদার, ডাসার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন সরদারসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিজিটাল ফিতনার বিস্তার ও ইসলামের প্রতিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ এম


ডিজিটাল ফিতনার বিস্তার ও ইসলামের প্রতিকার

বর্তমানে আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে একটি মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ মুহূর্তেই একজন মানুষকে বিশ্বব্যাপী তথ্য প্রচারের সক্ষমতা দেয়। তথ্যপ্রযুক্তির এই বিপ্লব মানবকল্যাণে অসামান্য অবদান রাখলেও এর অপব্যবহার নতুন ধরনের এক সামাজিক ও নৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। গোপনীয়তা অনুসন্ধান, অমূলক ধারণা, গুজব, অপপ্রচার, অপবাদ, চরিত্রহনন, ভুয়া স্ক্রিনশট, ডিপফেক (উববঢ়ভধশব), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (অও) দিয়ে তৈরি মিথ্যা ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর- এসবের মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান এমনকি রাষ্ট্রকেও বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। ইসলামের বিচারে এগুলো কেবল অনৈতিক কাজ নয়; বরং বহু ক্ষেত্রে মহাপাপ, ফিতনা এবং ইহ ও পরকালে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কোরআন মানুষের চিন্তা ও তথ্য গ্রহণের নৈতিকতা দিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বিরত থাক; নিশ্চয় কিছু ধারণা পাপ। তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং কেউ কারও গিবত করো না।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ১২)। এই একটি আয়াতেই ডিজিটাল যুগের বহু অপরাধের বাস্তব সমাধান বর্ণিত হয়েছে। কারণ অমূলক ধারণা থেকেই সন্দেহ জন্মায়, আর সন্দেহ মানুষকে অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করে। সেখান থেকেই শুরু হয় গুজব, অপবাদ ও চরিত্রহনন। তাই এসবই নিষিদ্ধ অপকর্ম। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি, ভিডিও বা বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট না জেনেই অনেক সময় মানুষ মন্তব্য করে, বিচার করে এবং অন্যদেরও বিভ্রান্ত করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এমন ভিডিও বা কণ্ঠস্বর তৈরি করা যায়, যা বাস্তব বলে মনে হয়। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির মুখ বা কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা এখন আর কল্পনার বিষয় নয়; এটি বাস্তব এবং দ্রুত সংক্রমিত একটি চ্যালেঞ্জ। একইভাবে ভুয়া স্ক্রিনশট, সম্পাদিত ছবি, বিকৃত অডিও কিংবা প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ভিডিও ব্যবহার করে মানুষের সম্মান নষ্ট করা হচ্ছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এগুলো প্রতারণা, মিথ্যা সাক্ষ্য এবং অপবাদের সমপর্যায়ভুক্ত।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও; অন্যথায় অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে পরে অনুতপ্ত হবে।’ (সুরা আল-হুজুরাত : ৬)। এই আয়াত তথ্য যাচাইয়ের এমন একটি মৌলিক নীতি প্রতিষ্ঠা করেছে, যা আজকের ভাষায় ‘ফ্যাক্ট-চেকিং’-এর ভিত্তি। কোনো তথ্য, ছবি, ভিডিও বা অডিও যাচাই ছাড়া প্রচার ও বিশ্বাস করা একজন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যতটুকু যথেষ্ট যে সে যা শোনে তাই প্রচার করে।’ (সহিহ মুসলিম)। বর্তমান সময়ে এই হাদিসের তাৎপর্য আরও গভীর। একটি ‘শেয়ার’, ‘ফরোয়ার্ড’ কিংবা ‘রিপোস্ট’ কখনো কখনো হাজারো মানুষের কাছে মিথ্যা পৌঁছে দেয়। ডিজিটাল অপপ্রচারের আরেকটি ভয়াবহ দিক হলো চরিত্রহনন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তি, আলেম, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ কিংবা সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে সামাজিক মর্যাদা ধ্বংস করা হচ্ছে। আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের প্রতি এমন অপরাধের অপবাদ দেয় যা তারা করেনি, তারা ভয়ংকর অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।’ (সুরা আল-আহযাব : ৫৮)। উল্লেখ্য, সুরা আন-নুরে ‘ইফক’-এর ঘটনা বা অপপ্রচারসম্পর্কিত আয়াতগুলো আমাদের শিক্ষা দেয় যে একটি মিথ্যা অপবাদ পুরো সমাজকে অস্থির করে দিতে পারে। তাই প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগ গ্রহণ বা প্রচার করা ইসলামি নৈতিকতার পরিপন্থি।

এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রেন্ড’ তৈরির নামে বিদ্বেষ ছড়ানো, ক্লিকবেইট শিরোনাম ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার চালানো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করা, নতুন ধরনের ডিজিটাল ফিতনায় পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি নিজে ভালো বা মন্দ নয়; বরং এর ব্যবহারই তাকে কল্যাণ কিংবা অকল্যাণের মাধ্যম বানায়। এসবের জন্য এই জগতের আদালতে বিচারের সম্মুখীন না হলেও আল্লাহর আদালতে একদিন দাঁড়াতেই হবে। সেদিনটি হবে বড়ই কঠিন। তাই প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতএব ডিজিটাল যুগে প্রতিটি পোস্ট, মন্তব্য, শেয়ার ও ফরোয়ার্ড কেবল প্রযুক্তিগত কাজ নয়; বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিমূলক একটি আমানত। কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করে যদি আমরা তথ্য যাচাই, সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারি, তবে ডিজিটাল ফিতনা, গুজব, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের বর্তমান সংকট অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তি তখন বিভাজনের অস্ত্র নয়, সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠবে।

♦ লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%