শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:২৪ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হিন্দু মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পরিকল্পনার অভিযোগে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নয়াদিল্লি মার্কিন প্রশাসনকে ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
১১ অক্টোবর, ইলিনয়ের প্যালাটাইন এলাকা থেকে ১৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রোস পাপোরাকিসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি অঙ্গরাজ্যটির অরোরা এলাকায় অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দিরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মন্দিরে নির্বিচারে গুলি চালানোর পরিকল্পনায় হিন্দু-বিদ্বেষী ও বর্ণবাদী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতও রয়েছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তরুণ তার সহকর্মীদের কাছে আট পাতার একটি ডিজিটাল নথি পাঠিয়েছিলেন। ওই নথিতে ভারতীয়, ইহুদি ও আফ্রিকান-আমেরিকানদের অবমাননাকর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে এবং এসব জনগোষ্ঠীর যত বেশি সম্ভব মানুষকে হত্যার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে তারা অবগত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদী বিদ্বেষ ও ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রশাসনকে দেশটিতে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও অনুরোধ করেছে তারা।
ভারতের প্রত্যাশা, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেওয়া এবং বেআইনিভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্যালাটাইন ও মাউন্ট প্রস্পেক্টের পুলিশ সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ১১ অক্টোবরই মন্দিরে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমধ্যসাগরের তলদেশে একটি বাণিজ্যতরির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলের আন্তালিয়া প্রদেশের কেকোভা দ্বীপের নিকটে এই ধ্বংসাবশেষের বয়স আনুমানিক ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ বছর। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এটি প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন, যখন মিসরের বিখ্যাত গিজার মহাপিরামিড নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিবিসি রিপোর্ট করেছে।
জাহাজটির কাঠের কাঠামো এত দীর্ঘ সময় পানির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। তবে এর বহন করা মাটির পাত্র ও পাথরের নোঙর সমুদ্রতলে রয়ে গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, প্রায় ১০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো।
কেকোভা দ্বীপের উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে ঢালু সমুদ্রতলে জাহাজটির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তিনটি বড় পাথরের নোঙর এবং ৩০টির বেশি মাটির তৈরি পণ্য সংরক্ষণের পাত্র পাওয়া গেছে। এসব পাত্রকে প্রত্নতাত্ত্বিক পরিভাষায় ‘অ্যামফোরা’ বলা হয়।
নকশায় মিলেছে জাহাজের বয়স
জাহাজটির কাঠের অংশ অবশিষ্ট না থাকায় রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে এর বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাই প্রত্নতাত্ত্বিকেরা পাত্রগুলোর আকৃতি, নকশা ও অলংকরণ বিশ্লেষণ করে সময়কাল নির্ধারণ করেন।
তুরস্কের আকদেনিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাকান ওনিজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের গবেষকেরা দেখতে পান, পাত্রগুলোর দুই পাশে হাতল, মাঝখানে উঁচু খাঁজ এবং সমতল তলদেশ রয়েছে। মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যে পাওয়া একই ধরনের প্রাচীন পাত্রের সঙ্গে এগুলোর মিল রয়েছে। এসব তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষকেরা জাহাজটিকে প্রাথমিক ব্রোঞ্জ যুগের বলে চিহ্নিত করেছেন।
ওনিজের ভাষ্য অনুযায়ী, পাত্রগুলোর অলংকরণ কৌশল বিশ্লেষণ করে জাহাজটির সময়কাল সম্পর্কে তারা অত্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন।
কোথায় যাচ্ছিল জাহাজটি?
প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলের কোনো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের উপকূলীয় অঞ্চল এর সম্ভাব্য যাত্রাপথের মধ্যে পড়ে।
গবেষকেরা মনে করছেন, জাহাজটি বর্তমান তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন ট্রয় নগরী কিংবা গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের মিনোয়ান সভ্যতার কোনো গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল।
মিসরের গিজা, সাক্কারা ও আবুসিরের পাশাপাশি ট্রয় ও ক্রিটে একই ধরনের পাত্র পাওয়ার ঘটনা প্রাচীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক যোগাযোগের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ও বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ চালু ছিল।
জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার করা পাত্রগুলোর কিছুতে এখনো ঘন, চকচকে পদার্থের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ড. কারিন সোভাডা পাত্রগুলো পরীক্ষা করে এ আবিষ্কারে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, পাত্রের ভেতরে অবশিষ্ট পদার্থের পরিমাণ দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। এত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার পরও কিছু পাত্রে দৃশ্যমান অবশিষ্টাংশ টিকে থাকা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
গবেষকেরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, এসব পাত্রে কী বহন করা হয়েছিল। এগুলোতে জলপাই তেল, ওয়াইন কিংবা গাছের রজন রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে পাত্রগুলো একাধিকবার ব্যবহৃত হয়ে থাকলে ভেতরের অবশিষ্টাংশ আগের কোনো পণ্যেরও হতে পারে।
প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর মানুষের স্পর্শ
কেকোভা দ্বীপের আশপাশের সমুদ্রপথ প্রাচীনকাল থেকেই বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। প্রবল বাতাস ও স্রোতের কারণে এ অঞ্চলে বহু জাহাজ ডুবে গেছে। বর্তমানে এলাকাটিতে শত শত জাহাজের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।
সমুদ্রের গভীরে কাজ করার সময় ডুবুরিদেরও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। পানির নিচে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করতে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে।
অধ্যাপক ওনিজ বলেন, প্রায় পাঁচ হাজার বছর পর তাঁরা প্রথমবারের মতো এসব বস্তু স্পর্শ করছেন। তাঁর কাছে এ আবিষ্কার শুধু একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ নয়; বরং সেই জাহাজের সঙ্গে যুক্ত নাবিক, পাত্র নির্মাতা, পণ্য বহনকারী শ্রমিক এবং তাঁদের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের জীবনকাহিনিও।
এই আবিষ্কারের ফলে বিশ্বের প্রাচীনতম জাহাজডুবির রেকর্ড নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। এর আগে গ্রিসের দোকোস দ্বীপের কাছে পাওয়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ বছরের পুরোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষকে সবচেয়ে প্রাচীন বলে বিবেচনা করা হতো। অন্যদিকে, কাঠের অংশ সংরক্ষিত থাকা প্রাচীনতম জাহাজের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলে, যার বয়স প্রায় ২ হাজার ৪০০ বছর।
কেকোভার এই আবিষ্কার প্রাচীন সামুদ্রিক বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি প্রতিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য দেশের তরুণ সমাজকে একটি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার উল্লেখ করেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেদের দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত যোগ্যতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।’
তিনি বলেন, কেবল জিপিএ-৫ অর্জনের সংকীর্ণ প্রতিযোগিতায় আটকে না থেকে সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। তরুণ প্রজন্মকে মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিতে হবে।
দেশের ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সামাজিক মর্যাদা, সমতা এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ। সেই আত্মত্যাগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুদায়িত্ব এখন তরুণদের কাঁধে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার পর পড়ালেখা শেষে দেশে ফিরে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতাকে দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হবে। গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। নিজের মত চাপিয়ে না দিয়ে অন্যের যুক্তি শোনার মানসিকতা তৈরি করাই যোগ্য নেতৃত্বের মূল লক্ষণ। তরুণদের সংসদীয় চর্চা এবং নীতি-নির্ধারণী বিতর্ক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দেন তিনি।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ডসহ অন্যান্য বক্তা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে দেশের ৬৪টি জেলার দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডার্ক ওয়েবে বাংলাদেশের ১৮ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর রেকর্ড এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য পাওয়া গেছে।
সাইবারস্টেশনের এক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা ব্রেইন স্টেশন–২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি ছাড়াও নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাইবারস্টেশন ১৫টি খাতের মোট ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে এবং প্রায় সবকটির ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। অন্যদিকে, তথ্য ফাঁসের হার সবচেয়ে বেশি ছিল প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান ন্যূনতম হিসাব; প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, ‘যে ঝুঁকি আমরা দেখতে পাই না, তা আমরা প্রতিকারও করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বুঝতে পারে কোন তথ্যগুলো ফাঁস হয়েছে এবং অপরাধীরা এসব তথ্যের অপব্যবহার করার আগেই যেন ব্যবস্থা নিতে পারে।’
ব্রেন স্টেশন ২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা সচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল তৈরির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের একটি প্যানেল আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে অনুষ্ঠানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাছনপুর গ্রামে বাউন বিলের পাশের একটি সরকারি জমি ব্যবহারের সুযোগ বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাউন বিলের পাশের খোলা মাঠটি হাছনপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ব্যবহার্য স্থান। কৃষকেরা এ মাঠে ধান মাড়াই, ফসলের ধান শুকানোসহ বিভিন্ন কৃষিকাজ করে থাকেন। এ ছাড়া মাঠে গবাদিপশু চারণ এবং শিশুদের খেলাধুলারও সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জায়গাটি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিনের অভিযোগ, জমিটি বন্দোবস্ত দেওয়ার পর মাঠে যাতায়াতের ছোট রাস্তা ব্যবহার নিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সল আহমদ বলেন, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি বিভিন্ন কৃষিকাজে ব্যবহার করছেন। জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের ব্যবহারের সুযোগ বজায় রাখার দাবি জানান তিনি।
গ্রামের মোতাওয়াল্লি মোশাররফ আলী বলেন, এ জায়গাটি শুধু আমাদের গ্রামের মানুষের প্রয়োজন নয়, আশপাশের শাহপুর, আলমপুর ও মাইজবাড়ী গ্রামের মানুষেরও এটি প্রয়োজন। তাই বৃহত্তর জনস্বার্থে জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা জরুরি।”
অন্যদিকে, বন্দোবস্ত নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়ে রাকিব আলীর ভাতিজা মিজানুর রহমান জমিসংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দেখান। তাঁর দাবি, তাঁরা সরকারিভাবে জমিটি বন্দোবস্ত নিয়েছেন এবং কাউকে ব্যবহারে বাধা দেননি। মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা বলে দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী জমিটির ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের দাবি, স্থানীয় কৃষিকাজ, গবাদিপশুর চারণ, শিশুদের খেলাধুলা ও যাতায়াতের সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হোক।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় বাসিন্দা শামসু মিয়া, আকবর আলি, আব্দুল জলিল, মোশাররফ আলী, জামির আলী, শামসুদ্দিন, আলী হোসেন, মসাদ্দর আলী, আম্বিয়া রহমান, আতাউর রহমান, সাজিদুর রহমান, একলাছ আলী, হাবিবুর রহমান, আব্দুল মালেক ও আকাশ মিয়াসহ শতাধিক লোকজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ