মোঃ শরীফ উদ্দিন :ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৯:২০ পি.এম
সকালে হাসিমুখে স্কুলে গিয়েছিল ৯ বছরের শিশু কুলসুমা। সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা করেছে, টিউবওয়েলের পানি পান করেছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে আর ফেরা হলো না তার। ভবনের দোতলায় ওঠার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় সে। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিহত কুলসুমা ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা প্রবাসী জয়নাল মিয়া।
জানা গেছে, সকালে বাসা থেকে চা-মুড়ি খেয়ে হাসিমুখে স্কুলে যায় কুলসুমা। স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলাও করে সে। একপর্যায়ে ভবনের দোতলায় ওঠার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় শিশুটি। পরে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রিয় সহপাঠীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুরো নাসিরপুর গ্রামজুড়ে বইছে শোকের মাতম।
কী কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুলসুমার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আল্লাহ তায়ালা শিশু কুলসুমাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সইবার তাওফিক দান করুন। আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সরকারি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে আস্থা, সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে এআই বিভাজনে পরিণত না হয়, এটি আমাদের অঙ্গীকার।
আজ ইস্তাম্বুলে ‘এআই গভর্নেন্স ইন প্র্যাকটিস : প্র্যাকটিক্যাল ইউজ কেসেস, ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটি, ইনোভেশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড গ্লোবাল কো-অপারেশন’ শীর্ষক আন্তঃআঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন। সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে কোরিয়া, তুরস্ক, আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব ও ইউএনডিপি।
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এআই শুধুমাত্র ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; বরং এটি সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মূল প্রশ্নটি কেবল এটি নয় যে আমরা কত দ্রুত এআই গ্রহণ করব; বরং আমরা কতটা প্রজ্ঞার সঙ্গে, দায়িত্বশীলভাবে ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উপায়ে এটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করব, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।’
এআই সুশাসনের জন্য তিনটি মৌলিক নীতি হিসেবে মন্ত্রী আস্থা ও বিশ্বাস, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এআই যেন নতুন বৈষম্য তৈরি না করে, বরং বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সম্মেলনটি উদ্ভাবন, বিশ্বাস ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তির একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকবে না। তিনি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই দিনব্যাপী (৬-৭ অক্টোবর) সম্মেলনে ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইউএনডিপি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।
জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের সময় তাকে স্বাগত জানান প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ।
এ সময়, তিনি গণভবনে পাওয়া বিভিন্ন নথির পাশাপাশি স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর পরিচালিত নিপীড়নের প্রমাণাদি পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাসদস্যদের স্মৃতিস্মারক এবং অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে শহীদ ব্যক্তিদের স্মৃতিস্মারকও দেখেন।
তিনি জোরপূর্বক গুম করা ব্যক্তিদের স্মৃতি এবং গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের গোপন বন্দিশালায় নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীও পরিদর্শন করেন। ১৬ বছরের দুঃশাসনের অংশ দেখা শেষ করার পর, সাইমুম পারভেজ জুলাই ম্যাসাকারের বিভিন্ন ছবি, শহীদদের স্মারক এবং আর্কাইভ ঘুরে দেখেন।
তিনি শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মন্তব্য করেছেন যে, পৃথিবীর কোথাও নীতিনির্ধারকরা হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া দেখেননি। তিনি চিকিৎসক হিসেবে এমন কাজ মেনে নিতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করেছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যের শুরুতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে উপস্থিত হওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০টা দেশে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমি পৃথিবীর কোথাও এ বিষয়টা দেখিনি যে, একটি হাসপাতালে আমরা নীতি-নির্ধারকরা যখন যাই, সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বিদগ্ধ এবং প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা হুরহুর করে ঢুকে পড়ি।"
তিনি আরও বলেন, "গিয়ে সেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পাই। একদিকে পেশেন্টরা থাকেন, পেশেন্টের অ্যাটেনডেন্টসরা থাকেন, সঙ্গে আমরা ডাক্তার সাহেবদেরকে নিয়ে যাই। এইটা আমি আমার জনস্বাস্থ্য কর্মজীবনে পৃথিবীর কোনো দেশে, কোনো পলিসি মেকারকে এই কাজটা করতে আমি দেখিনি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বারবার বলছি, আমি চিকিৎসক—এই পরিচয় আমি চাইলেও আমার গা থেকে মুছে ফেলতে পারব না। তাই এ বিষয়টা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না।" তিনি বলেন, "আমি সাত মাস হলো দায়িত্বে আছি, অনেক সেমিনারে গিয়েছি, অনেক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছি, ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, সুতরাং লক্ষাধিক মানুষের জনসভায়ও আমরা বক্তব্য রেখেছি। কিন্তু এই কাজটি কখনোই করা যাবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"
তিনি আরও বলেন, "যারা যে অবস্থান থেকে এই কাজটি করছেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে, নীতি-নির্ধারক হিসেবে এই কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এই কাজগুলোর কনসিকোয়েন্স হচ্ছে, আজকে সকালে যে পরিস্থিতি আমরা দেখছি, এই কাজগুলোর কনসিকোয়েন্স হচ্ছে জনগণ, রোগী এবং চিকিৎসক—তাদেরকে সবাইকে আজকে মুখোমুখি করে দেয়া হয়েছে। সবকিছুরই একটা কজ-ইফেক্ট রিলেশনশিপ আছে।"
তিনি বলেন, "এই কাজগুলো আমরা যখন করি, তখন আমরা ভাবি না যে, বাংলাদেশের এই ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য যে চিকিৎসকদেরকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে হাত-পা বেঁধে দায়িত্বে নামিয়েছি, নাকি লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটতে দিচ্ছি? কি পরিস্থিতিতে তারা কাজ করছে?"
বিগত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাত দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, "বিশেষ করে বিগত ১০ বছর বা ওদের শেষ ৫ বছর, আমি সারা বাংলাদেশে ঘুরে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছি দায়িত্ব নেয়ার পর, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছি।"
তিনি আরও বলেন, "ঢাকার ইনস্টিটিউটগুলোর হাসপাতালগুলোতে দেখেছি, মেডিকেল কলেজে গিয়েছি সরকারি এবং বেসরকারি সব।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিগত বছরগুলোর দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে একেবারে শীর্ষস্থানীয় ইনস্টিটিউট পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গা—অলমোস্ট এভরিহোয়ার ৫০% পদ শূন্য রয়ে গেছে।"
তিনি বলেন, "আমি চিকিৎসক দিচ্ছি প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক এবং একইভাবে প্রত্যেকটি হাসপাতালে, প্রত্যেকটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দ্বিগুণ, প্রায়শই তিনগুণ রোগী বসবাস করছে।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "তাহলে তিনগুণ রোগী দিচ্ছি, অর্ধেক ডাক্তার দিচ্ছি—অর্থাৎ মাথাপিছু একজন ডাক্তারকে ৬ গুণ, তার ক্ষমতার বাইরে ৬ গুণ রোগী প্রত্যেকদিন তাকে ডিল করতে হয়।"
তিনি বলেন, "সেই ধন্যবাদ আমরা দিতে পারিনি আপনাদেরকে।"
চিকিৎসকরা অত্যন্ত বাজে পরিস্থিতিতে কাজ করেন উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, "কিছু কিছু দেশে আমাদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়।"
তিনি বলেন, "সেই দেশগুলোর সংখ্যা খুব কম।"
তিনি আরও বলেন, "সেই দেশগুলো মূলত কোনো না কোনো যুদ্ধপীড়িত দেশ, যুদ্ধাক্রান্ত দেশ, দুর্ভিক্ষাক্রান্ত দেশ।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "কিন্তু স্বাভাবিক শান্ত পরিস্থিতির কোনো দেশে এইরকম চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্যে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্সদের কথা বলেন, সারাটা দিন-রাত তারা পরিশ্রম করছে।"
তিনি বলেন, "অধিকাংশ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি আছে, সেই যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য যে টেকনিশিয়ানদের দরকার, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দরকার, তাদেরকেও কিন্তু আমরা সঠিকভাবে রাখতে পারিনি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা একটা সরকার হিসেবে মাত্র ৬-৭ মাস হলো দায়িত্বে এসেছি।"
তিনি বলেন, "আমরা এসে এই ১৫ বছরের জঞ্জাল এবং অব্যবস্থাপনা আমাদের গায়ে এসে পড়েছে, আমরা সেটাকে হ্যান্ডেল করছি।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ডাক্তারদেরকে এই অবস্থায় ঠেলে দিয়ে এবং ডাক্তারদের সঙ্গে জনগণকে মুখোমুখি করে দিয়ে আসলে এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না।"
তিনি বলেন, "সেখানেই সেই কার্যকারণের কথা চলে আসে—এই কাজগুলো কি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে?"
তিনি বলেন, "কেউ কি চাচ্ছেন যে, আমাদের এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো দীর্ঘদিন ভেঙে থাকুক?"
তিনি বলেন, "কেউ কি চাচ্ছেন এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা বজায় থাকলে আজকে আমাদের যে তরুণ শিক্ষার্থীরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে, চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা চিকিৎসক হতে এসেছেন, তারা তো আর এই ব্যবস্থায় কাজ করবেন না!"
তিনি বলেন, "তারা—আমরা জানি, তাদের অনেকেই ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার থেকেই USMLE বা PLAB-এর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।"
তিনি বলেন, "তারা চলে যাবেন এই দেশটিকে ছেড়ে।"
তিনি বলেন, "এই দেশটিকে মেধা শূন্য করা হবে, এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এদেশের রোগীরা পার্শ্ববর্তী, দূরবর্তী বিভিন্ন দেশে চলে যাবে—এইটাই হয়তো সেই সমস্ত গোষ্ঠীর লক্ষ্য যারা আজকে এই অস্থির পরিবেশটা তৈরি করছে।"
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভীষণ চাপের মধ্যে আছে বলেও মন্তব্য করেন ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে।"
তিনি বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছেন।"
তিনি বলেন, "এখন এই বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব কিন্তু আমাদের।"
তিনি বলেন, "আর সেই বাজেটটা বাস্তবায়ন যদি আমাকে করতে হয়, সামান্য যতটুকু লেখাপড়া করেছি—একটা পিএইচডি আছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়েছি, এইটুকু বুঝি যে শুধু টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য হয় না, শুধু ডান্ডা পিটিয়ে স্বাস্থ্য হয় না, শুধু ক্যামেরার সামনে বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক করা যাবে না।"
তিনি বলেন, "এটাকে ঠিক করতে হলে আপনাদেরকে আস্থায় আনতে হবে, আপনাদের আমাদের ওপর আস্থা আসতে হবে, কেবল তখনই জনগণ আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।"
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু মোকাবেলাসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উত্তরণে সেবার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, "আমরা রোগ প্রতিরোধের ওপরে জোর দেব।"
তিনি বলেন, "আমরা যদি মৃত্যুর হার কমাতে চাই, আক্রান্তের হার কমাতে চাই, প্রথম কাজটি হচ্ছে প্রিভেনশনের জন্য কাজ করতে হবে।"
তিনি বলেন, "সেই প্রিভেনশনের জন্য একদিকে যেমন আমাদের চেষ্টা করতে হবে, আমাদের এই মশার যেখানে প্রজনন হয়, সেই লার্ভাকে আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে হবে, এবং সেই কাজটি করতে গেলে আমাদের জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা লাগবে।"
তিনি বলেন, "পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে, শুধুমাত্র সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই সারা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করতে পারবে না।"
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ. কে এম শামসুল কবির বাবু এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. এ কে এম মাসুদ আক্তার জিতু বক্তব্য রাখেন।
এতে কী-নোট বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা ও মুগদা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, মহালয়াসহ দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসি (ক্লোজসার্কিট) ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং মণ্ডপের ইনচার্জগণ বডিওর্ন ক্যামেরা নিয়ে ডিউটি করবেন।
আজ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
তিনি জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ের প্রথম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এবারের এই উৎসব আমাদের জন্য একটি অগ্নি পরীক্ষা। ঢাকা মহানগর এলাকার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করবে।
পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। পূজা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থী সবার ওপর নজর রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নিরাপদে উদযাপিত হবে।
যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সভায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিগণ, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ