ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ


জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন।

জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনের সময় তাকে স্বাগত জানান প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ।

এ সময়, তিনি গণভবনে পাওয়া বিভিন্ন নথির পাশাপাশি স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর পরিচালিত নিপীড়নের প্রমাণাদি পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাসদস্যদের স্মৃতিস্মারক এবং অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে শহীদ ব্যক্তিদের স্মৃতিস্মারকও দেখেন।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতি তিন কাঠামোগত ফাঁদে আটকে, দারিদ্র্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতা

তিনি জোরপূর্বক গুম করা ব্যক্তিদের স্মৃতি এবং গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের গোপন বন্দিশালায় নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীও পরিদর্শন করেন। ১৬ বছরের দুঃশাসনের অংশ দেখা শেষ করার পর, সাইমুম পারভেজ জুলাই ম্যাসাকারের বিভিন্ন ছবি, শহীদদের স্মারক এবং আর্কাইভ ঘুরে দেখেন।

তিনি শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


‘নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে হাসপাতালে হুড়মুড় করে ঢোকা মেনে নেওয়া যায় না’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত মন্তব্য করেছেন যে, পৃথিবীর কোথাও নীতিনির্ধারকরা হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়া দেখেননি। তিনি চিকিৎসক হিসেবে এমন কাজ মেনে নিতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয় শীর্ষক এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করেছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যের শুরুতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের নীতিনির্ধারকদের সাংবাদিক নিয়ে উপস্থিত হওয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীর প্রায় ৩০-৪০টা দেশে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমতে। আমি পৃথিবীর কোথাও এ বিষয়টা দেখিনি যে, একটি হাসপাতালে আমরা নীতি-নির্ধারকরা যখন যাই, সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত বিদগ্ধ এবং প্রিয় গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা হুরহুর করে ঢুকে পড়ি।"

তিনি আরও বলেন, "গিয়ে সেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতি দেখতে পাই। একদিকে পেশেন্টরা থাকেন, পেশেন্টের অ্যাটেনডেন্টসরা থাকেন, সঙ্গে আমরা ডাক্তার সাহেবদেরকে নিয়ে যাই। এইটা আমি আমার জনস্বাস্থ্য কর্মজীবনে পৃথিবীর কোনো দেশে, কোনো পলিসি মেকারকে এই কাজটা করতে আমি দেখিনি।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বারবার বলছি, আমি চিকিৎসক—এই পরিচয় আমি চাইলেও আমার গা থেকে মুছে ফেলতে পারব না। তাই এ বিষয়টা আমি কখনোই মেনে নিতে পারি না।" তিনি বলেন, "আমি সাত মাস হলো দায়িত্বে আছি, অনেক সেমিনারে গিয়েছি, অনেক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছি, ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, সুতরাং লক্ষাধিক মানুষের জনসভায়ও আমরা বক্তব্য রেখেছি। কিন্তু এই কাজটি কখনোই করা যাবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"

তিনি আরও বলেন, "যারা যে অবস্থান থেকে এই কাজটি করছেন, আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে, নীতি-নির্ধারক হিসেবে এই কাজের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এই কাজগুলোর কনসিকোয়েন্স হচ্ছে, আজকে সকালে যে পরিস্থিতি আমরা দেখছি, এই কাজগুলোর কনসিকোয়েন্স হচ্ছে জনগণ, রোগী এবং চিকিৎসক—তাদেরকে সবাইকে আজকে মুখোমুখি করে দেয়া হয়েছে। সবকিছুরই একটা কজ-ইফেক্ট রিলেশনশিপ আছে।"

তিনি বলেন, "এই কাজগুলো আমরা যখন করি, তখন আমরা ভাবি না যে, বাংলাদেশের এই ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য যে চিকিৎসকদেরকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি, তাদেরকে হাত-পা বেঁধে দায়িত্বে নামিয়েছি, নাকি লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটতে দিচ্ছি? কি পরিস্থিতিতে তারা কাজ করছে?"

বিগত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাত দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, "বিশেষ করে বিগত ১০ বছর বা ওদের শেষ ৫ বছর, আমি সারা বাংলাদেশে ঘুরে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছি দায়িত্ব নেয়ার পর, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "ঢাকার ইনস্টিটিউটগুলোর হাসপাতালগুলোতে দেখেছি, মেডিকেল কলেজে গিয়েছি সরকারি এবং বেসরকারি সব।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিগত বছরগুলোর দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পর্যায় থেকে একেবারে শীর্ষস্থানীয় ইনস্টিটিউট পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গা—অলমোস্ট এভরিহোয়ার ৫০% পদ শূন্য রয়ে গেছে।"

তিনি বলেন, "আমি চিকিৎসক দিচ্ছি প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক এবং একইভাবে প্রত্যেকটি হাসপাতালে, প্রত্যেকটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে অন্তত দ্বিগুণ, প্রায়শই তিনগুণ রোগী বসবাস করছে।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "তাহলে তিনগুণ রোগী দিচ্ছি, অর্ধেক ডাক্তার দিচ্ছি—অর্থাৎ মাথাপিছু একজন ডাক্তারকে ৬ গুণ, তার ক্ষমতার বাইরে ৬ গুণ রোগী প্রত্যেকদিন তাকে ডিল করতে হয়।"

তিনি বলেন, "সেই ধন্যবাদ আমরা দিতে পারিনি আপনাদেরকে।"

চিকিৎসকরা অত্যন্ত বাজে পরিস্থিতিতে কাজ করেন উল্লেখ করে ড. এম এ মুহিত বলেন, "কিছু কিছু দেশে আমাদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করতে হয়।"

তিনি বলেন, "সেই দেশগুলোর সংখ্যা খুব কম।"

তিনি আরও বলেন, "সেই দেশগুলো মূলত কোনো না কোনো যুদ্ধপীড়িত দেশ, যুদ্ধাক্রান্ত দেশ, দুর্ভিক্ষাক্রান্ত দেশ।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "কিন্তু স্বাভাবিক শান্ত পরিস্থিতির কোনো দেশে এইরকম চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্যে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্সদের কথা বলেন, সারাটা দিন-রাত তারা পরিশ্রম করছে।"

তিনি বলেন, "অধিকাংশ হাসপাতালে যন্ত্রপাতি আছে, সেই যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য যে টেকনিশিয়ানদের দরকার, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের দরকার, তাদেরকেও কিন্তু আমরা সঠিকভাবে রাখতে পারিনি।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আমরা একটা সরকার হিসেবে মাত্র ৬-৭ মাস হলো দায়িত্বে এসেছি।"

তিনি বলেন, "আমরা এসে এই ১৫ বছরের জঞ্জাল এবং অব্যবস্থাপনা আমাদের গায়ে এসে পড়েছে, আমরা সেটাকে হ্যান্ডেল করছি।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ডাক্তারদেরকে এই অবস্থায় ঠেলে দিয়ে এবং ডাক্তারদের সঙ্গে জনগণকে মুখোমুখি করে দিয়ে আসলে এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না।"

তিনি বলেন, "সেখানেই সেই কার্যকারণের কথা চলে আসে—এই কাজগুলো কি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে?"

তিনি বলেন, "কেউ কি চাচ্ছেন যে, আমাদের এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরো দীর্ঘদিন ভেঙে থাকুক?"

তিনি বলেন, "কেউ কি চাচ্ছেন এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থা বজায় থাকলে আজকে আমাদের যে তরুণ শিক্ষার্থীরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে, চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা চিকিৎসক হতে এসেছেন, তারা তো আর এই ব্যবস্থায় কাজ করবেন না!"

তিনি বলেন, "তারা—আমরা জানি, তাদের অনেকেই ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার থেকেই USMLE বা PLAB-এর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।"

তিনি বলেন, "তারা চলে যাবেন এই দেশটিকে ছেড়ে।"

তিনি বলেন, "এই দেশটিকে মেধা শূন্য করা হবে, এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে, এদেশের রোগীরা পার্শ্ববর্তী, দূরবর্তী বিভিন্ন দেশে চলে যাবে—এইটাই হয়তো সেই সমস্ত গোষ্ঠীর লক্ষ্য যারা আজকে এই অস্থির পরিবেশটা তৈরি করছে।"

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভীষণ চাপের মধ্যে আছে বলেও মন্তব্য করেন ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, "আমি ব্যক্তিগতভাবে এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে।"

তিনি বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করেছেন।"

তিনি বলেন, "এখন এই বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব কিন্তু আমাদের।"

তিনি বলেন, "আর সেই বাজেটটা বাস্তবায়ন যদি আমাকে করতে হয়, সামান্য যতটুকু লেখাপড়া করেছি—একটা পিএইচডি আছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়েছি, এইটুকু বুঝি যে শুধু টাকা দিয়ে স্বাস্থ্য হয় না, শুধু ডান্ডা পিটিয়ে স্বাস্থ্য হয় না, শুধু ক্যামেরার সামনে বড় বড় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিক করা যাবে না।"

তিনি বলেন, "এটাকে ঠিক করতে হলে আপনাদেরকে আস্থায় আনতে হবে, আপনাদের আমাদের ওপর আস্থা আসতে হবে, কেবল তখনই জনগণ আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসের প্রতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরে পাবে।"

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু মোকাবেলাসহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উত্তরণে সেবার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "আমরা রোগ প্রতিরোধের ওপরে জোর দেব।"

তিনি বলেন, "আমরা যদি মৃত্যুর হার কমাতে চাই, আক্রান্তের হার কমাতে চাই, প্রথম কাজটি হচ্ছে প্রিভেনশনের জন্য কাজ করতে হবে।"

তিনি বলেন, "সেই প্রিভেনশনের জন্য একদিকে যেমন আমাদের চেষ্টা করতে হবে, আমাদের এই মশার যেখানে প্রজনন হয়, সেই লার্ভাকে আমাদেরকে ধ্বংস করে দিতে হবে, এবং সেই কাজটি করতে গেলে আমাদের জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা লাগবে।"

তিনি বলেন, "পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে, শুধুমাত্র সরকার কিংবা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা এই সারা বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করতে পারবে না।"

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ. কে এম শামসুল কবির বাবু এবং হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল শাখা ড্যাবের সভাপতি ডা. এ কে এম মাসুদ আক্তার জিতু বক্তব্য রাখেন।

এতে কী-নোট বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা ও মুগদা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা থাকবে: ডিএমপি কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা থাকবে: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ জানিয়েছেন, মহালয়াসহ দুর্গাপূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসি (ক্লোজসার্কিট) ক্যামেরার আওতায় থাকবে এবং মণ্ডপের ইনচার্জগণ বডিওর্ন ক্যামেরা নিয়ে ডিউটি করবেন।

আজ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, দুর্গাপূজা চলাকালে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

তিনি জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ের প্রথম হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাই এবারের এই উৎসব আমাদের জন্য একটি অগ্নি পরীক্ষা। ঢাকা মহানগর এলাকার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করবে।

পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। পূজা কমিটির সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শনার্থী সবার ওপর নজর রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

ডিএমপি কমিশনার আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নিরাপদে উদযাপিত হবে।

যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

এ সময় সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ ওসমান গণিসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ।

সভায় রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিগণ, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুরিয়ার কর্মচারী রাজু হত্যায় সাবেক এমপি মোশতাকের চার দিনের রিমান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪০ পি.এম


কুরিয়ার কর্মচারী রাজু হত্যায় সাবেক এমপি মোশতাকের চার দিনের রিমান্ড

ঢাকা, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদকে (২৪) হত্যা করার অভিযোগে সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা মোশতাক আহমেদ রুহীকে আদালতে হাজির করার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ড শুনানির পূর্বে তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

মোহাম্মদপুর থানার ইকবাল রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যদিকে, তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিন জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুসারে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়িতে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের পাশের একটি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হয়। ওই সময় কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদ তার কর্মস্থল জননী কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বের হয়ে মিছিল দেখছিলেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ম্যানেজার শাহাদাত জানতে পারেন যে, রাজু গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। স্থানীয় লোকজন রাজুকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পর রাজুর বাবা ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে পচনশীল পণ্য ই-নিলামে বিক্রির নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


চট্টগ্রাম কাস্টমসে পচনশীল পণ্য ই-নিলামে বিক্রির নির্দেশনা

চট্টগ্রাম, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে নিলামযোগ্য পচনশীল পণ্য ই-নিলামের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত, স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রমিত কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি না হওয়া পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। কাস্টম হাউসের কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) মুহা. মাহবুবুর রহমানের সই করা আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নিলাম কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, পণ্যজট নিরসন, বন্দরের ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধের জন্য পচনশীল পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি করা আবশ্যক।

এছাড়া আদেশে বলা হয়েছে, কাস্টমস আইন অনুযায়ী যথাযথ কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে জীবজন্তু ও পচনশীল পণ্য যেকোনো সময় বিক্রির বিধান রয়েছে। এনবিআরের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশে ই-নিলামের মাধ্যমে পচনশীল পণ্য বিক্রির সুযোগ রাখা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টমসের অধীন নিলামযোগ্য যেসব পণ্যচালানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান কিংবা কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশগত বাধা নেই, সেগুলো ই-নিলাম পদ্ধতিতে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে। ই-নিলামে তোলার পূর্বে পণ্যচালানের আইনগত অবস্থা, পণ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ, ইনভেন্টরি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ করতে হবে।

তবে কোনো পণ্যচালানের ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিক্রয় কিংবা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটি ই-নিলামে তোলা যাবে না। অন্যদিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারাধীন বা ন্যায়নির্ণয়াধীন পচনশীল পণ্য দ্রুত বিক্রির সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধান অনুসরণ করে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করা যাবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, পণ্যচালানের লট ও ক্যাটালগ প্রস্তুত করে ই-নিলামের জন্য দরদাতাদের (বিডার) পরিদর্শন, অংশগ্রহণ, জামানত, বিডিং এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পচনশীল পণ্যের দ্রুত পচনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের নিলাম কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং কোনো বিলম্ব ছাড়াই সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

ই-নিলামে সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য দর পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক অনুমোদন নিতে হবে। নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর ক্রেতা নিলাম মূল্য, শুল্ক-করাদি, সরকারি পাওনা ও অন্যান্য আইনগত দায় পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় দলিল দাখিলের পর পণ্য খালাস বা অপসারণের সুযোগ পাবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত দরদাতা অর্থ পরিশোধ বা অন্যান্য শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে, বিক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে কিংবা নিলাম বাতিল হলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী আদেশ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কোনো পচনশীল পণ্য নিলামের উপযোগী না হলে অথবা আমদানিনীতি, নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার বিধান, আদালতের আদেশ কিংবা অন্য কোনো আইনগত কারণে ই-নিলামের মাধ্যমে বিক্রি সম্ভব না হলে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী তা ধ্বংস বা অন্য কোনো আইনি নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ৯৪ ধারার সঙ্গে পঠিতব্য ২০৭ ও ২৬৬ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কাস্টমস কমিশনার (অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব কাস্টমস) নাজমুল হোসেন বলেন, পচনশীল পণ্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন ও বিধি মেনে তা নিষ্পত্তির জন্য ই-নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত বাধা থাকলে এসব পণ্য ই-নিলামে তোলা হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%