০৫:৫৯ এম
ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল পরিস্থিতি এবার এক অজানা ও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে। সেখানকার দাবানলগুলো থেকে এখন তৈরি হচ্ছে বিশাল মেঘ এবং সেই মেঘ থেকেই ঝরছে বজ্রপাত! জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্যই ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো এমন বিরল ‘ফায়ার ক্লাউড’ বা আগুনের মেঘ দেখা যাচ্ছে।
ফরাসি গবেষক জ্যঁ-বাপতিস্ত ফিলিপি জানান, পর্তুগাল, ক্যালিফোর্নিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায় এমন ঘটনা সাধারণ থাকলেও ফ্রান্সে এটি একেবারেই নতুন ঘটনা। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে পরপর তিনটি তাপপ্রবাহ আঘাত হানা ও তৈরি হওয়া ঘটে এই ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
কীভাবে তৈরি হয় এই ফায়ার ক্লাউড? ফিলিপির মতে, আগুনের প্রচণ্ড তাপে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিশাল ‘কিউমুলোনিম্বাস’ বা বজ্রগর্ভ মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের কারণে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে। মজার ব্যাপার হলো, এই মেঘ থেকে বৃষ্টি পড়লেও তা মাটিতে পড়ার আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, বায়ুমণ্ডল হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে শক্তিশালী নিম্নমুখী ঝোড়ো বাতাস সৃষ্টি করে, যা দাবানলকে আরও উসকে দেয়।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
বর্তমানে দমকলকর্মীদের দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গিরোন্দ অঞ্চলে এই নতুন বিপাদের সাথে লড়াই করতে হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর সাধারণ বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিতে পারলেও, এই ‘ফায়ার ক্লাউড’ ঠিক কোথায় তৈরি হবে তা ধারণা করা প্রায় অসম্ভব। এই মেঘগুলো এতটাই অপ্রত্যাশিত যে, এরা মুহূর্তের মধ্যে বাতাসের দিক পরিবর্তন করে ফেলে। এমনকি এই মেঘ জ্বলন্ত অঙ্গার শুষে নিয়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে দাবানল কল্পনাতীত বেগে নতুন নতুন এলাকায় ভয়ংকর রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন