মো : সুমন হাসান বাপ্পি স্টাফ রিপোর্টার
০৯:৫৮ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বাজারে দুধে পানি মেশানোর মিথ্যা অভিযোগ তুলে গরুর খামারিদের মাথায় প্রকাশ্যে দুধ ঢেলে অপদস্থ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর এনামুল বাঘাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৬ জুন) জুমার নামাজের পর উপজেলার পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের হারুন বাঘার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন দুপুরে খালিয়া এলাকা থেকে কয়েকজন গরুর খামারি টেকেরহাট বাজারে দুধ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় হাতে একটি ছোট পরীক্ষার যন্ত্র নিয়ে বাজারে হাজির হন এনামুল বাঘা। নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মতো উপস্থাপন করে তিনি কয়েকজন দুধ বিক্রেতার দুধ পরীক্ষা করা শুরু করেন। পরে খামারি গোকুলসহ তিনজন বিক্রেতার দুধে পানি মেশানো হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।
একপর্যায়ে কোনো ধরনের আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই তিনি খামারি গোকুল ও অপর এক নারী দুধ বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢেলে দেন। এ সময় তাদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগও ওঠে এবং জনসম্মুখে অপদস্থ করার ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেককে পুরো ঘটনাটি হাসি-ঠাট্টার মধ্যে উপভোগ করতে দেখা যায়।
ঘটনার ভিডিও পরে এনামুল বাঘা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সমালোচনার মুখে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এনামুল বাঘাকে গ্রেপ্তার করে রাজৈর থানা। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন, "অভিযুক্ত এনামুল বাঘাকে তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
পুলিশের দাবি, এনামুল বাঘার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
এ ঘটনা রাজৈরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে অপমান বা নির্যাতনের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেন যে, প্রস্তাবিত বাজেট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের জন্য নতুন গতি আনবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। এ উপলক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেটের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মৎস্য খাতে ৬০৪ কোটি টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের ফলে দুই খাতের উৎপাদন, আধুনিকায়ন ও রপ্তানির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি যোগ করেন, সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো পশু প্রবেশ করতে না পারে, সেই জন্য সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এতে দেশীয় খামারিরা উপকৃত হয়েছেন।
মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে।
তিনি পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশের জন্য কৃষি খাতের মতো কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অর্থমন্ত্রীর প্রতি এ খাতে শুল্ক কমানোর অনুরোধ করেন।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকার পরও এ বাজেটকে ‘গরিব মারার বাজেট’ বলা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা ও কৃষি ঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি তৃণমূলের মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের উন্নয়নের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, সরকারি সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, টাঙ্গাইলে আধুনিক ট্রেন সার্ভিস চালু এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ এখন ঐক্যের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফল বিদেশ সফরের বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের ইতিবাচক বক্তব্য জাতির জন্য ঐক্যের বার্তা বহন করে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে এই ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে আসেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন সময়ে, তিনি জানিয়েছেন যে, বুয়েটের আবাসিক হল সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজ শনিবার, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, 'শিক্ষার্থীদের আবাসনের সমস্যা হলে পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটে। বুয়েটের আবাসিক হলগুলোতে সিটের অপ্রতুলতা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা আমাদেরই দায়িত্ব। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে জানাব এবং এই সমস্যার সমাধান করব।'
তিনি আরো বলেন, 'বুয়েটের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীরাও অনেক সময় বিপথগামী হতে পারে। এখানে একসময় অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যা কেউ ভুলতে পারছে না। সেই স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য আমাদের আবরার ফাহাদের নামে একটি হল করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব।'
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মানোন্নয়নে রিসার্চ গ্র্যান্ট বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া, গবেষণায় ব্যবহৃত ল্যাবগুলো আধুনিক ও মানসম্মত নয়। এখনো অনেক ল্যাবেই পুরনো যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলোর আধুনিকায়নে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ৩ হাজার ৯১৮ টি মামলা করেছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা তৈরি করা হয়।
আজ ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগের অধীনে ১৯ টি বাস, ২ টি ট্রাক, ৫ টি কাভার্ডভ্যান, ৪৩ টি সিএনজি ও ৭৭ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৯৮ টি মামলা হয়েছে। লালবাগ বিভাগে ২০ টি বাস, ১৯ টি ট্রাক, ২ টি কাভার্ডভ্যান, ৩২ টি সিএনজি ও ১৯৩ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩১৫ টি মামলা হয়েছে। মতিঝিল বিভাগে মোট ৯৫৭ টি মামলা করা হয়েছে, যেখানে ৩৮ টি বাস, ১২ টি ট্রাক, ৫০ টি কাভার্ডভ্যান, ১৯৮ টি সিএনজি ও ৫২২ টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত। ওয়ারী বিভাগে মোট ৩৫২ টি মামলা করা হয়েছে, যেখানে ৪৪ টি বাস, ৩৭ টি ট্রাক, ২৯ টি কাভার্ডভ্যান, ৩৩ টি সিএনজি ও ১২৪ টি মোটরসাইকেল রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২৭৭ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখানে ১৭ টি বাস, ৪ টি ট্রাক, ২ টি কাভার্ডভ্যান, ৭৫ টি সিএনজি ও ১০৪ টি মোটরসাইকেল রয়েছে। মিরপুর বিভাগে ২৭ টি বাস, ২২ টি ট্রাক, ৩১ টি কাভার্ডভ্যান, ১১৩ টি সিএনজি ও ৪৯২ টি মোটরসাইকেল সহ মোট ৭৯৫ টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে মোট ৬৯২ টি মামলা করা হয়েছে, যেখানে ৮৫ টি বাস, ১৭ টি ট্রাক, ১৬ টি কাভার্ডভ্যান, ১৪০ টি সিএনজি ও ২৯১ টি মোটরসাইকেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গুলশান বিভাগে ২৬ টি বাস, ৬ টি ট্রাক, ১৫ টি কাভার্ডভ্যান, ৪০ টি সিএনজি ও ১৪৫ টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩২২ টি মামলা হয়েছে।
এছাড়াও, অভিযানকালে মোট ৭৫৫ টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয় এবং ৪৮৮ টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ