০৮:৫৬ পি.এম
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যে, শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ‘৫০-৫০’ বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় কর্মকর্তা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে, ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইরানের প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কোনও প্রতিনিধি নেই। তবে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তির বিস্তারিত শর্ত কার্যকর করার জন্য আইআরজিসির সম্মতি অপরিহার্য।
এই কর্মকর্তার ভাষ্য মতে, এ কারণেই আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
আরও পড়ুন: টিনের চালের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করছেন। একই সময়, তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি আবারও সমঝোতা থেকে সরে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে একটি সমঝোতা শুক্রবারই হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা হওয়ার খবর অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, বর্তমানে তারা কেবল ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। তাদের সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ সংলাপ চলছে না।
কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পথ তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: জ্বালানিমন্ত্রী আলজেরিয়ায় নতুন সহযোগিতার সন্ধানে
হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর উল্লেখযোগ্য অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।
সম্প্রতি সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে তেলের দাম বেড়েছে এবং এশিয়ার স্পট এলএনজি বাজারেও মূল্য কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলতে পারে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির
তবে আইআরজিসির সম্মতি ছাড়া কোনও অন্তর্বর্তী সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাই আলোচনায় অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনও সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন