ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ নিয়ে শুক্রবার ইরান-ওমানের সমঝোতার সম্ভাবনা ৫০-৫০


হরমুজ নিয়ে শুক্রবার ইরান-ওমানের সমঝোতার সম্ভাবনা ৫০-৫০

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে ইরান ও ওমানের মধ্যে চলমান আলোচনার মধ্যে, শুক্রবার একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ‘৫০-৫০’ বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় কর্মকর্তা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে, ওই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইরানের প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কোনও প্রতিনিধি নেই। তবে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী চুক্তির বিস্তারিত শর্ত কার্যকর করার জন্য আইআরজিসির সম্মতি অপরিহার্য।

এই কর্মকর্তার ভাষ্য মতে, এ কারণেই আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: টিনের চালের নিচে ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার, অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক নেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ করছেন। একই সময়, তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি আবারও সমঝোতা থেকে সরে আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে একটি সমঝোতা শুক্রবারই হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনা হওয়ার খবর অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, বর্তমানে তারা কেবল ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করছেন। তাদের সঙ্গে কোনও প্রত্যক্ষ সংলাপ চলছে না।

কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হলে সেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার পথ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: জ্বালানিমন্ত্রী আলজেরিয়ায় নতুন সহযোগিতার সন্ধানে

হরমুজ প্রণালি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর উল্লেখযোগ্য অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়।

সম্প্রতি সংঘাতের কারণে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে তেলের দাম বেড়েছে এবং এশিয়ার স্পট এলএনজি বাজারেও মূল্য কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলতে পারে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত হলেন অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির

তবে আইআরজিসির সম্মতি ছাড়া কোনও অন্তর্বর্তী সমঝোতা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তাই আলোচনায় অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি এখনও সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেহারিতে মিলল ইটের টুকরা, চুয়েটের হল ক্যান্টিনে ঝুলল তালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ পি.এম


তেহারিতে মিলল ইটের টুকরা, চুয়েটের হল ক্যান্টিনে ঝুলল তালা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাঈদ হলের ক্যান্টিনে পরিবেশিত তেহারিতে ইটের টুকরা পাওয়া নিয়ে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত খাবার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা ক্যান্টিনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ক্যান্টিনের তেহারি খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থী খাবারের মধ্যে ইটের টুকরা পান বলে অভিযোগ করেছেন। পূর্বে ক্যান্টিনের খাবারে পোকামাকড়, বস্তার সুতা এবং অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তু পাওয়ার অভিযোগ আসে। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন নিয়ে ক্ষোভের কারণে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, ক্যান্টিনে পরিবেশিত খাবারের মান নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, অনেক সময় চিকেন ফ্রাইয়ের ভেতরের অংশ কাঁচা থাকে, নষ্ট আটা দিয়ে পরোটা তৈরি করা হয় এবং অবিক্রীত পরোটা, সিঙারা ও পেঁয়াজি সংরক্ষণ করে পরের দিন পুনরায় গরম করে বিক্রি করা হয়। এছাড়া রান্নাঘর এবং চা তৈরির স্থানেও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নেই বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে শহীদ আবু সাঈদ হলের শিক্ষার্থী তুসার আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের খাবারের জন্য ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু খাবারের মধ্যে ইটের টুকরা পাওয়া খুবই উদ্বেগজনক। বিষয়টি নিয়ে বারবার অভিযোগ করার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। মানসম্মত ও নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান চলবে।’

এই ঘটনায় হল কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা, হল প্রশাসন বা ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর অনুমোদিত মূল্যতালিকা প্রকাশ ও বাস্তবায়ন, রান্নাঘর এবং চা তৈরির স্থান সংস্কার, খাবারের মান ও মূল্য নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা।

এ ব্যাপারে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আজাদ হোসাইন বলেন, ‘আপাতত ক্যান্টিন বন্ধ। আমরা সরেজমিনে বিষয়টি তদারকি করব। পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০১ পি.এম


বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন সতর্কবার্তা

ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন, ভারতীয় ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কোনো অর্থ লেনদেন না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। তারা একই সঙ্গে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তিকর প্রলোভন ও প্রতারণা থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

হাইকমিশন তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের কোনো কর্মকর্তা কখনও ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন না এবং কোনো ধরনের অর্থও দাবি করেন না। ভারতীয় ভিসা সংক্রান্ত সকল আবেদন শুধুমাত্র নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।

এই কারণে, তারা বলে, সন্দেহজনক কোনো ফোনকল, বার্তা বা প্রস্তাব পেলে কোনো অবস্থাতেই অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক হিসাবের বিবরণ বা আর্থিক তথ্য অপরিচিত কাউকে শেয়ার না করার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

হাইকমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয় বা এমন কোনো চেষ্টার মুখোমুখি হয়, তবে দ্রুত বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অভিযোগের সাথে সংশ্লিষ্ট ফোন নম্বর, স্ক্রিনশট বা অন্যান্য প্রমাণপত্র [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, সাধারণ মানুষকে ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং সামাজিক পরিবেশেও অন্য সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময় নিয়ে ভাবছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


মিয়ানমারের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময় নিয়ে ভাবছে ভারত

মিয়ানমারের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময়ের কথাবার্তা ভাবছে ভারত।

 

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত নির্ধারণের অংশ হিসেবে দুই দেশ সম্ভাব্য ভূখণ্ড বিনিময় নিয়ে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সীমান্তের যেসব অংশ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায়নি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও নিশ্চিত করেছে নয়াদিল্লি।

মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “সীমান্তের কিছু অংশ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। এসব এলাকা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।”

মণিপুর সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে ভূমি বিনিময়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে তিনি সরাসরি ভূখণ্ড বিনিময়ের খবর নিশ্চিত বা অস্বীকার করেননি।

২০২৩ সালের ১৭ জুলাই মার্কিন সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ভারত সরকার মণিপুর সীমান্তে প্রায় ১ দশমিক ৪ বর্গমাইল (প্রায় ৩ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার) এলাকার বিনিময়ের একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।

প্রতিবেদনটি একটি সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানায়, সীমান্তের ৬৫ থেকে ৬৮ নম্বর সীমান্তস্তম্ভের মধ্যবর্তী প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অমীমাংসিত অংশের সীমানা নির্ধারণের জন্য এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে।

নথিটি ২০২৬ সালের ২৬ মে তারিখের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, তিন মাসের মধ্যে সীমান্ত চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

প্রস্তাবিত এলাকা ভারতের মণিপুর রাজ্যের চান্দেল জেলা এবং মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের কাবাও উপত্যকার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তের অমীমাংসিত অংশ দ্রুত নির্ধারণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সীমানা চূড়ান্ত হলে ভারত পুরো ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর চলাচল এবং সীমান্তপারের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে বলে দাবি করছে নয়াদিল্লি।

২০২৪ সালে ভারত সরকার ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তজুড়ে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

একই সঙ্গে ২০১৮ সাল থেকে চালু থাকা ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম বাতিলের সিদ্ধান্তও নেয় ভারত। ওই ব্যবস্থার আওতায় সীমান্তবর্তী উপজাতীয় জনগোষ্ঠী বিশেষ সীমান্ত পাস ব্যবহার করে ভিসা ছাড়াই একে অপরের ভূখণ্ডে সর্বাধিক ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারত।

বর্তমানের হিসাবে, এখনও অমীমাংসিত ১৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ভারতের এবং মিয়ানমারের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে, যা অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর ও মিজোরাম অতিক্রম করে মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চল ও চিন রাজ্যে প্রবেশ করেছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪৭২ কিলোমিটার সীমান্তে সীমান্তস্তম্ভ স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবুও, প্রায় ১৭১ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। এর বেশিরভাগ অংশ অরুণাচল প্রদেশের লোহিত সেক্টর এবং মণিপুরের কাবাও উপত্যকা এলাকায় অবস্থিত।

বর্তমান ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত ১৯৬৭ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হলেও বেশ কিছু অংশে এখনও সীমানা চূড়ান্ত হয়নি। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, দুই দেশের মধ্যে কোনও বৃহত্তর সীমান্ত বিরোধ নেই; কেবল নয়টি সীমান্তস্তম্ভের অবস্থান এখনও চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে এবং সেগুলো দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হচ্ছে।

মণিপুরের সবচেয়ে সংবেদনশীল সীমান্ত অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে -

•  মলচাম সেক্টর (সীমান্তস্তম্ভ ৬৪-৬৮)

•  মোরেহ সেক্টর (সীমান্তস্তম্ভ ৭৫-৭৯)

•  চোরো খুনৌ সেক্টর (সীমান্তস্তম্ভ ৮৮-৯৫)

দ্য ডিপ্লোম্যাটের দাবি, গত মাসে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের ভারত সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ মলচাম এলাকায় নতুন ও সহায়ক সীমান্তস্তম্ভ স্থাপনের সম্ভাবনা এবং ২০১৭ সালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সীমান্ত পুনর্নির্ধারণের একটি প্রস্তাবও পর্যালোচনা করেছে।

ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভূখণ্ড বিনিময়ের নজির নতুন নয়।

২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করে। ওই চুক্তির আওতায় ভারত তার ভূখণ্ডে থাকা ১১১টি বাংলাদেশি ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে ৫১টি ভারতীয় ছিটমহল গ্রহণ করে ভারত।

এটি দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪১ বছর ধরে চলা সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটায়।

সম্ভাব্য ভূখণ্ড বিনিময়ের খবর প্রকাশের পর থেকেই মণিপুরে এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে।

মণিপুরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি কেন্দ্রীয় সরকারকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, মণিপুরের ভূখণ্ডের সামান্য অংশও যদি মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়, তাহলে তারা ব্যাপক গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।

গত ২৭ জুলাই সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, “যদি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য সত্য হয় এবং সেই প্রস্তাব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কো-অর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি কোনওভাবেই নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।”

সংগঠনটির দাবি, মণিপুরের ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়। তাদের ভাষ্য, ১৯৪৯ সালে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পর রাজ্যটি ইতোমধ্যেই ঐতিহাসিকভাবে কিছু ভূখণ্ড হারিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে রাজ্যের সীমানা আরও ছোট করার যেকোনও উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য হবে না।

এছাড়া মণিপুরের জনগণের মতামত ছাড়া রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতায় প্রভাব ফেলতে পারে- এমন কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের টানে কেরানীগঞ্জে চীনা যুবক, ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১০ পি.এম


প্রেমের টানে কেরানীগঞ্জে চীনা যুবক, ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে

 

হাজার হাজার কিলোমিটারের দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা—কোনো কিছুই যেন ভালোবাসার কাছে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন চীনা নাগরিক ওয়াং জিয়াওপাং।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর কেরানীগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে শুভ ইসলাম।

প্রেমিকা সানজিদা আক্তার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাজীনগর এলাকার মৃত কবির হোসেনের মেয়ে। পরিবার জানায়, পরিচয়ের পর অল্প সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে বাংলাদেশে এসে গত ২৭ জুলাই মেয়ের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।

সানজিদা আক্তার জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের পরে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। এরপর তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশে আসার পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর শুভ ইসলামকে বিয়ে করেন তিনি।

ভবিষ্যতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সংসার গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

শুভ ইসলাম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এসে তিনি আন্তরিকতা ও পারিবারিক উষ্ণতায় মুগ্ধ হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত তিনি স্বেচ্ছায় নিয়েছেন। স্ত্রীকে নিয়ে সুখী জীবন গড়তে চান।

এদিকে, এই ব্যতিক্রমী বিয়ে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভিন্ন সংস্কৃতির দুই মানুষের সংসারজীবন নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন।

সানজিদার মা নাসীমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করেই তারা বিয়েতে সম্মতি দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, পারস্পরিক সহযোগিতায় তাদের সংসার সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে।’

সানজিদার ফুফু শাহীনুর বেগমও বলেছেন, ‘শুরুতে কিছুটা সংশয় থাকলেও ছেলেটির আচরণ ও আন্তরিকতায় পরিবারের সদস্যরা সন্তুষ্ট। তারা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবন কামনা করেন।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর শুভ ইসলাম পরিকল্পনা করছেন সানজিদাকে চীনে নিয়ে যাওয়ার। তাদের প্রত্যাশা, ভিন্ন দুই দেশের এই সম্পর্ক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধনে দীর্ঘস্থায়ী হবে।

এদিকে বিদেশি জামাইয়ের আগমনকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। চীনা যুবককে একনজর দেখতে এবং তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করতে স্থানীয় উৎসুক জনতা প্রতিনিয়ত কনের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%