০৩:৪৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের রাইসার বিল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রধান ফটকের পাশে ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার হওয়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বেলা ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফটকের পাশে সন্দেহজনক এই বস্তুটি দেখে তাৎক্ষণিকভাবে মৎস্য কমিটির সদস্যদের জানায়। পরে খবর পেয়ে দর্শনা থানা পুলিশ বস্তুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, হঠাৎ করে জনবহুল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের প্রবেশপথে এ ধরনের একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদসহ বেশকিছু নেতা অভিযোগ করে বলেছেন, উদ্ধার হওয়া বোমা সদৃশ বস্তুটিতে ‘জয় বাংলা’ লেখা থাকায় তাদের ধারণা, এটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের নাশকতামূলক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বস্তুটির প্রকৃতি ও এর সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। এ মাসের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয়। ৬১ হিজরির ১০ মহররম, শুক্রবার বিকেলে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে সংঘটিত হয় ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। সেই দিন এজিদের শাসনামলে কুফার গভর্নর ওবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদের বাহিনীর হাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন ইবনে আলী (রা.) এবং তাঁর সঙ্গীরা শাহাদাত বরণ করেন।
কারবালার ঘটনাটির পর ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ইবনে জিয়াদের বাহিনীর সদস্য শিমর ইবনে জিলজাওশান ইমাম হোসাইন (রা.)-এর পবিত্র দেহ থেকে শির মোবারক বিচ্ছিন্ন করেন। এর পর, আহলে বাইতের নারী ও শিশুদের সঙ্গে শির মোবারক কুফায় ওবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদের কাছে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে ইবনে জিয়াদ ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শির মোবারকসহ আহলে বাইতের সদস্যদের দামেস্কে এজিদের দরবারে পাঠান। এরপর আহলে বাইতের নারী ও শিশুদের মদিনা মুনাওয়ারায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে, দামেস্কে সংরক্ষণের পর শির মোবারক পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আল-মাকরিজির বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৪৮ হিজরির ৮ জমাদিউস সানিতে ফিলিস্তিনের আসকালান অঞ্চল থেকে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শির মোবারক উত্তোলন করে একটি সুরক্ষিত বাক্সে মিশরের কায়রোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দিন পর, যখন তা মিশরে পৌঁছায়, তৎকালীন শাসক আমির সাইফ তা গ্রহণ করেন।
শির মোবারক কায়রোতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য মানুষ তা দেখার জন্য সমবেত হন। পরে ৫৪৮ হিজরির ১০ জমাদিউস সানিতে কায়রোর ঐতিহাসিক আল-আজহার মসজিদের নিকটবর্তী একটি স্থানে তা পুনরায় সমাহিত করা হয়। সেই স্থানকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে বিখ্যাত সাইয়্যেদিনা হোসাইন মসজিদ নির্মাণ করা হয়, যা বর্তমান সময়ে মিশরের অন্যতম সম্মানিত ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিত।
আরেকটি ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, এজিদের নির্দেশে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শির মোবারক গোলাপজল দিয়ে ধৌত করে কাপড়ে আবৃত করা হয়। পরে আসকালান থেকে আগত একদল ব্যক্তি তা দাফনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ফিলিস্তিনের আসকালান অঞ্চলে দাফন করা হয়।
১০৯৬ থেকে ১২৯০ সালের মধ্যে ক্রুসেডারদের মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসনের সময় আশঙ্কা দেখা দেয় যে, তারা আসকালানে থাকা এই পবিত্র নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ফাতেমি শাসকেরা শির মোবারক মিশরে নিয়ে আসেন এবং কায়রোতে আল-আজহার মসজিদের পাশে পুনরায় সমাহিত করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এই স্থান এখন বিশ্বজুড়ে সাইয়্যেদিনা হোসাইন মসজিদ নামে পরিচিত। কারবালার প্রান্তর থেকে কায়রো পর্যন্ত এই দীর্ঘ ইতিহাস মুসলিম ঐতিহ্য, আবেগ ও স্মৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: তাসাউফের শায়খ জাকিউদ্দিন ইবরাহীমের “رأس الإمام الحسين بمشهده بالقاهرة تحقيقا مؤكدا حاسما” এবং মিশরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ড. আলী জুমার “البيان القويم” গ্রন্থ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টা ২ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে এটি পুনরায় শুরু হয়েছে।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই অধিবেশন শুরু হয়ে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ঘানার মধ্যকার বহুল আলোচিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হওয়ার পর, নতুন করে আলোচনায় এসেছে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী ‘জুজু’ বা কথিত কালো জাদু। ম্যাচটি চলাকালে মাঠে ইংল্যান্ডের আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা না পাওয়ায়, ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা হাস্যরস ও বিতর্ক।
ম্যাচ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারিতে থাকা ঘানার সমর্থকদের একটি অংশ একটি সাদা পাউডার ছিটিয়ে নিজেদের দলের সাফল্যের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করছেন। অনেকেই এটিকে আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী আধ্যাত্মিক চর্চা ‘জুজু’র অংশ বলে উল্লেখ করেন।
ম্যাচের আগে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঘানার তান্ত্রিক নানা কিয়াঙ্কু বোন্সাম দাবি করেছিলেন, তিনি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনের ওপর এমন এক অভিশাপ দিয়েছেন, যার ফলে এই ম্যাচে তিনি গোল করতে পারবেন না।
ম্যাচে ইংল্যান্ড একাধিক আক্রমণ চালালেও ঘানার দৃঢ় রক্ষণভাগের সামনে বারবার ব্যর্থ হয়। শেষদিকে নিকো ও’রেইলির একটি শক্তিশালী শট সাইডবারে লেগে ফিরে আসে। তবে, সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তটি আসে ম্যাচের একেবারে অন্তিম সময়ে। গোলপোস্টের সামনে ফাঁকা সুযোগ পেয়েও হ্যারি কেন বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন। তার শট গোলপোস্টের অনেক ওপর দিয়ে বাইরে চলে গেলে, বিস্মিত হন সমর্থকরা।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিম ও রসিকতার বন্যা বয়ে যায়। অনেক সমর্থক মজা করে বলতে থাকেন, ঘানার ওঝার কালো জাদুই ইংল্যান্ডকে গোল করতে দেয়নি।
এদিকে ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস হাস্যরসের সুরে বলেন, "আমরা শট, হেডার, সেট-পিস সবকিছুই চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনোভাবেই বল জালে পাঠাতে পারিনি। কে জানে, হয়তো আজ ঘানার কালো জাদুই কাজ করছিল!"
তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের ফলাফলের পেছনে মূল কারণ ছিল ঘানার শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ এবং ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের ব্যর্থতা। কালো জাদুর গল্পটি মূলত সমর্থকদের রসিকতা ও সামাজিক মাধ্যমের আলোচনাকেই আরও উসকে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ