ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৪ জুন কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


১৪ জুন কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী ১৪ জুন কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত জনসভার মাঠ এবং নবগঠিত মাতামূহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সম্ভাব্য স্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য এসেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ।

শুক্রবার (৫ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চকরিয়ায় পৌঁছান। এরপর তিনি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান ও জেলা পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনালের মাঠ, চকরিয়া উপজেলা এবং মাতামুহুরী উপজেলার নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য বিবেচিত এলাকায় ঘুরে দেখেন।

এ সময় চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার, চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান এবং চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এর সাথে চকরিয়া ও মাতামূহুরী উপজেলা এবং পৌরসভা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

পদর্শনকালে জনসভা সফল এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সিনিয়র সচিব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৪ জুন চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামূহুরী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, ওই দিন সকাল ১১টায় তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন ও পার্ক পরিদর্শন করবেন।

এরপর তিনি পেকুয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সেখানে শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত এবং পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন। দুপুরে স্থানীয় সাঈদ ম্যানশনে অবস্থান ও মধ্যাহ্নভোজের পরে বিকেলে তিনি চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। চকরিয়া যাওয়ার পথে মাঝপথে নবগঠিত মাতামুহূরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচনের বিষয়ে তার পরিকল্পনা রয়েছে।

একইদিন বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজার শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১৫ জুন সোমবার সকালে কক্সবাজারে সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রধানমন্ত্রীর এই দিনব্যাপী চকরিয়া-পেকুয়া সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সঙ্গে থাকবেন চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্ছেদ ব্যর্থ: তিন মাসের মধ্যে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে ফের ‘বস্তি’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:২২ এম


উচ্ছেদ ব্যর্থ: তিন মাসের মধ্যে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে ফের ‘বস্তি’!

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে তিন মাস আগে চালানো হয়েছিল বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান। কিন্তু সেই উচ্ছেদের রেশ কাটতে না কাটতেই, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আবারও সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত ঝুপড়ি দোকান। এ কারণে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার বালিয়াড়ি পুনরায় পুরোনো বস্তিতে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানাচ্ছেন, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে আশপাশের বালিয়াড়িতে বর্তমানে শত শত ঝুপড়ি দোকান, ত্রিপল আর ভ্যানগাড়ি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী স্থাপনা। সড়কের দুই পাশেও শামুক-ঝিনুক, আচার, চা-পান ও প্রসাধনীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। সুগন্ধা পয়েন্ট এবং কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়ি ও প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সাগরলতা অঞ্চলেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। চারদিকে শুধু দোকানপাটের ছড়াছড়ি হয়ে উঠেছে।

পরিবেশবাদীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে চলতি বছরে মার্চ মাসে কক্সবাজার সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর পর জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে অভিযানে উচ্ছেদ করা হয় সহস্রাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আবারও সেই বালিয়াড়িতে গড়ে উঠেছে স্থাপনা।

সুগন্ধা পয়েন্টের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে আশপাশের বালিয়াড়িতে বর্তমানে শত শত ঝুপড়ি দোকান। সড়কের দু’পাশেও শামুক-ঝিনুক, আচার, চা-পান ও প্রসাধনীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, দোকানিদের অভিযোগ, উচ্ছেদের পর তাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। জীবিকার তাগিদে তারা আবারও সৈকতে ফিরে এসেছেন এবং উচ্চ আদালতে রিট করেছেন।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী আজিজুল হাকিম তারেক অভিযোগ করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় উচ্ছেদের পর তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থনৈতিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি।

তিনি জানান, বাধ্য হয়েই তারা মহামান্য হাইকোর্টে রিট করেছেন এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। কেন তাদের সরিয়ে দেওয়া হলো এবং কেনই বা পুনর্বাসন করা হচ্ছে না, এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কক্সবাজারে পর্যটন খাতে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করলেও তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জেলা প্রশাসন এবং পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান, যাতে বিষয়টির ন্যায়সঙ্গত সমাধান হয়।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশাসনকে পুনর্বাসনের বিষয়ে নির্দেশনা দিলেও এখনো সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং, কার্ড নবায়ন না করার বিষয়ে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর কারণে তারা যারা ব্যবসায়ী, সবাই আতংকিত অবস্থায় রয়েছেন।

শুধু সুগন্ধা পয়েন্ট নয়, কলাতলী সৈকতের বালিয়াড়ি এবং প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সাগরলতাতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। চারদিকে দোকানপাটের ভির। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, বারবার উচ্ছেদ অভিযান হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না থাকা কারণে দখলদাররা ফের ফিরে আসে।

কলাতলীস্থ সী ক্রাউন হোটেলের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে ঈদের আগে আবারও এসব দোকান বসতে দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এতে পর্যটকদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং সৈকতে যাতায়াতেও বাধা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, সমুদ্রসৈকতে কোনোভাবেই বস্তির মতো অবৈধ স্থাপনা থাকা উচিত নয়। তার মতে, পৃথিবীর কোনো উন্নত পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দৃশ্য দেখা যায় না।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অন্যত্র পুনর্বাসন করে পরিকল্পিত একটি দৃষ্টিনন্দন মার্কেট গড়ে তোলা উচিত, যাতে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আগের রূপ ফিরিয়ে আনা যায়।

তিনি আরও জানান, সৈকতে অব্যবস্থাপনার কারণে পর্যটকদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কক্সবাজারের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানিয়েছেন, কিছু পক্ষের হঠকারী সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যটন এলাকার শৃঙ্খলা ফেরাতে যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা তারা স্বাগত জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক চিঠিপত্রের উদ্যোগকেও তিনি সাধুবাদ জানান।

তিনি আরও বলেছেন, কক্সবাজারকে কোনোভাবেই পুনর্বাসন এলাকা হিসেবে নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী হিসেবেই ধরে রাখতে চান তারা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্যোগে সৈকত ব্যবস্থাপনায় যে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা হয়েছিল, তা আবারও ব্যাহত হচ্ছে। সৈকত এলাকায় পুনরায় দখল ও অব্যবস্থাপনা পর্যটন খাতের জন্য ইতিবাচক নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। আইনগত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নিয়মের মধ্যে রেখে সৈকতকে আরও পর্যটকবান্ধব এবং আকর্ষণীয় করা সম্ভব।

তিনি আরো জানান, এ পরিস্থিতি সাময়িকভাবে হলেও একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে কক্সবাজারের পর্যটন পরিবেশ সুন্দর ও টেকসই হয়।

পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, বহু বছর ধরে বালিয়াড়ি দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী হয়নি। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সৈকত আবার প্রকৃত রূপে ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় দখল হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বালিয়াড়িকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা একটি রিটের জবাব প্রস্তুত করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে দোকান বসানোর জন্য ইস্যুকৃত সব সাময়িক কার্ড বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে নতুন করে আর কোন অনুমতি প্রদান না করার সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে একের পর এক ঝুপড়ি দোকান স্থাপন করে বস্তিতে রূপ নেয়া ঠকাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গত সোমবার (১ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন কোনো সাময়িক কার্ড ইস্যু করা হবে না। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ইস্যুকৃত ও নবায়নকৃত সব কার্ড ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আর নবায়ন করা হবে না। কার্ডধারীরা নির্ধারিত শর্তাবলী যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এবং পরিবশনের সুপারিশের আলোকে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেনাপোলে হত্যার উদ্দেশ্যে ৩ রাউন্ড গুলি চালাল দুর্বৃত্তরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ এম


বেনাপোলে হত্যার উদ্দেশ্যে ৩ রাউন্ড গুলি চালাল দুর্বৃত্তরা

যশোরের বেনাপোলে একটি টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে সোহাগ হোসেন (৩৫) নামের একজন ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে অভিযুক্তদের উল্লিখিত করা হলেও, এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে সক্ষম হয়নি।

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ১০টার সময় বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় সোহাগ হোসেনের ভাড়া বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সোহাগ হলেন বেনাপোল পৌরসভার বড় আঁচড়া গ্রামের প্রয়াত হায়দার আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সোহাগ হোসেন বলেন, একই এলাকার ‘আশা’ নামের একজনের কাছে তিনি ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য ৫০ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় আশার পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন সময় হত্যার হুমকি দেওয়া হতে থাকে।

সোহাগ জানান, 'শুক্রবার রাতে আমি অফিস থেকে বাসায় ফিরে আসলে, এর কিছুক্ষণ পর ১০ থেকে ১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে এবং আমাকে উদ্দেশ্য করে জানালার গ্লাস ও দরজায় তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে চলে যায়। আমি কোনো রকমে ঘরের ভেতরে আত্মরক্ষা করার সুযোগ পেয়ে প্রাণে বাঁচি। এ ঘটনার জন্য থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।'

এদিকে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রাতে এভাবে প্রকাশ্যে গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীরা এখন চরম নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করছেন। এই হামলার বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত আশার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, 'খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে ছিটকে পড়া গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধ থেকেই এই হামলা করেছে।'

ওসি আরও জানান, বাড়ির চারপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ ২ কারবারিকে আটকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে জনতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ এম


লক্ষ্মীপুরে অস্ত্র ও মাদকসহ ২ কারবারিকে আটকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে জনতা

লক্ষ্মীপুরে একটি দেশীয় পাইপগান (এলজি), দুই রাউন্ড কার্তুজ, গাঁজা এবং ইয়াবা বড়িসহ শাখাওয়াত ও রঞ্জু নামের দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার গঙ্গাপুর এলাকায় রঞ্জুর বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার গঙ্গাপুর এলাকার বাসিন্দা রঞ্জু এবং তার সহযোগী শাখাওয়াত। পুলিশ জানিয়েছে যে, আটক হওয়া দুজনই এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শাখাওয়াত ও রঞ্জু দীর্ঘদিন ধরেই গঙ্গাপুর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। স্থানীয়দের বারবার নিষেধ করার পরেও তারা তাদের এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকে।

এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে স্থানীয় যুবদল নেতা ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল স্থানীয় তরুণ ও জনতা মাদক কারবারি রঞ্জুর বাড়ি ঘেরাও করেন। সেখান থেকে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও মাদকসহ রঞ্জু ও শাখাওয়াতকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে টহল পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং জনতা তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ, ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ঝলক মোহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'অস্ত্রসহ দুই মাদক কারবারিকে স্থানীয় জনতা আটক রেখেছে, এমন খবর পেয়ে সদর থানার একটি টহল দল দ্রুত গঙ্গাপুর এলাকায় পৌঁছায়। পরে স্থানীয় জনতা তাদের অস্ত্র ও মাদকসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।'

তিনি আরও জানান, আটক শাখাওয়াত ও রঞ্জু এলাকার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশ এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করেছিল। রাতে জনতা কর্তৃক ধৃত হওয়ার পর তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র এবং মাদক জব্দের তালিকায় তুলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীদের জন্য বিটরুট খাওয়ার গুরুত্ব: কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ এম


নারীদের জন্য বিটরুট খাওয়ার গুরুত্ব: কারণ কী?

নারীদের জন্য বিটরুট খাওয়ার গুরুত্ব কী, তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। বিটরুটকে একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও কম ক্যালোরিযুক্ত সুপারফুড হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ। সাধারণভাবে এটি সবার জন্য উপকারী হলেও নারীদের জন্য স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব আরও বেশি বিবেচিত হয়।

বিটরুটে থাকা ফোলেট নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে সহায়তা করে, বিশেষ করে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক গুণ ত্বকের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর কারণে ক্লান্তি কমে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনতে সহায়তা করে।

নিয়মিত বিটরুট খেলে এটি শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে, ফলে অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মাসিকের সময় যখন শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, তখন এটি উপকারী।

হৃদস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বিটরুট উপকারী। এটি রক্তনালীকে প্রসারিত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ফলে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিটরুটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত পরিশুদ্ধ করতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে ত্বক আরও সতেজ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

স্বাস্থ্যগত সুবিধাগুলোর মধ্যে বিটরুটের রস শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং ক্লান্তি কমিয়ে শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায়ও এটি উপকারী। কারণ এতে থাকা ফোলেট শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক বিকাশে সহায়তা করে।

তবে বিটরুট খাওয়ার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি খেলে অনেক সময় প্রস্রাব বা মল লালচে হতে পারে, যা একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষতিকর নয়। তবে যাদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিটরুটের উচ্চ অক্সালেট উপাদান ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%